আকবর আলী
আকবর আলী

আকবর-আফিফের সেঞ্চুরি, রিশাদের ৪ উইকেট

হেলমেটটা খুলতেই আকবর আলীর মুখের চওড়া হাসিটা বোঝা গেল স্পষ্ট। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরির হাসি। মুহূর্তটা আরও রঙিন হলো বগুড়ার গ্যালারিঠাসা দর্শকদের অভিবাদনে। চারদিকে ব্যাট ঘুরিয়ে জবাবটাও তিনি দিয়েছেন উচ্ছ্বাসকে সঙ্গী করে।

বিসিএল ওয়ানডের প্রথম দিনে সেঞ্চুরির আনন্দে ভেসেছেন আফিফ হোসেনও। দুই সেঞ্চুরিয়ানের দলও জিতেছে। পূর্বাঞ্চলের বিপক্ষে ৫৪ রানে জিতেছে আকবরের উত্তরাঞ্চল, মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে আফিফের দক্ষিণাঞ্চলের জয় ৭ উইকেটে। বল হাতে আজ ৪ উইকেট পেয়েছেন উত্তরের রিশাদ হোসেনও।        

বগুড়ায় টস হেরে ব্যাট করে আকবরের সেঞ্চুরিতে ৩৩৫ রানের বড় সংগ্রহ পায় উত্তরাঞ্চল। বড় রানের ভিতটা গড়ে দিয়ে গিয়েছিলেন তানজিদ হাসান ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। ২০ রানে ওপেনার হাবিবুর রহমানকে হারিয়ে ফেলার পর দ্বিতীয় উইকেটে ৮২ রানের জুটি গড়েন তাঁরা। ফিফটি পেরোনোর পর আর বেশি দূর যেতে পারেননি তানজিদ, ৪৪ বলে ৫৪ রান করে আউট হন।

তাঁর বিদায়ের পর ১৬ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় উত্তরাঞ্চল। তবে ১২০ রানের জুটিতে তা দূরে সরিয়ে দেন আকবর আলী ও নাজমুল। ইনিংসটা অবশ্য নাজমুলও বড় করতে পারেননি—৮৭ বলে ৬৮ রান করে হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে যান।

তাঁর বিদায়ের পর বাকি ব্যাটসম্যানরা তেমন সুবিধা করতে পারেননি। তবে আকবর ৮১ বলেই লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারে তাঁর প্রথম সেঞ্চুরি পান। ৮ চার ও ৬ ছক্কায় ৮৭ বলে ১১১ রান করে এলবিডব্লু হন সাইফউদ্দিনের বলে।

আকবরের উইকেট পাওয়া সাইফউদ্দিন অবশ্য অন্য রকম একটা ‘সেঞ্চুরি’র সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ১০ ওভারের স্পেলে তিনি খরচ করেন ৯৮ রান। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে পঞ্চম খরুচে বোলিং এটি। সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডানের হয়ে তাসকিনের দেওয়া ১০৭ রানই সর্বোচ্চ।

সেঞ্চুরি করেছেন আফিফ হোসেন

বড় রান তাড়ায় নেমে কখনোই সেভাবে পাল্লা দিতে পারেনি পূর্বাঞ্চল। ইনিংসের ২ বল বাকি থাকতে ২৮১ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। ইনিংসজুড়ে তাদের যেটুকু আশা টিকে ছিল, তা মুমিনুল হকই টিকিয়ে রেখেছিলেন।

অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে ৮২ বলে ৮৩ রান করে রিশাদের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন তিনি। এর বাইরে আরও একজন ব্যাটসম্যান পঞ্চাশ ছাড়িয়ে যান—৪৩ বলে ৭ চারে ৫০ রান করে অপরাজিত থাকেন নাঈম। তাদের আটকে দেওয়ার পথে ১০ ওভারে ৫৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন রিশাদ।

রাজশাহীতে মধ্যাঞ্চলের দেওয়া ২৬৫ রান ৪৫.৩ ওভারে পেরিয়ে যায় দক্ষিণাঞ্চল। ম্যাচের শেষ দিকে যেটুকু রোমাঞ্চ, তা ছিল আফিফ হোসেন সেঞ্চুরি করতে পারবেন কি না, তা নিয়েই। আফিফের রান যখন ৯৫, তখন দলের জয়ের জন্যও দরকার ছিল ৫ রান, হাতে ছিল ৩০ বল।

৪ উইকেট পেয়েছেনর রিশাদ হোসেন

সাইফ হাসানের ৪৬তম ওভারের প্রথম বলে স্ট্রাইক পেয়ে সিঙ্গেল নেন আফিফ। পরের বলে আরও ১ রান নিয়ে দেন আফিফ হোসেন। পরের বল ওয়াইড হয়ে গেলে জয়ের জন্য আর দুই রান দরকার ছিল দক্ষিণাঞ্চলের।

সেঞ্চুরি পেতে হলে আফিফকে চার মারতেই হতো, তা মেরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন আফিফ। ১০৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে ১৫৯ রানের জুটিতে ৭ উইকেটে জয় পায় দক্ষিণাঞ্চল।

এর আগে মধ্যাঞ্চল ভালো শুরু করলেও বড় রান পায়নি। একপর্যায়ে ৩০ বলে ৮ রান করা ওপেনার সাইফ ৩৫ বলে ১৯ রান করে আউট হন। দলটির পরের তিন ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ নাঈম, মাহফিজুল ইসলাম আর মাহিদুল ইসলাম ফিফটি পান। কিন্তু তাদের পর বাকি ব্যাটসম্যানরা তেমন সুবিধা করতে না পারায় ৩০০ ছাড়িয়ে যেতে পারেনি মধ্যাঞ্চল।