পাকিস্তানের নির্বাচক কমিটির প্রধান আকিব জাভেদ
পাকিস্তানের নির্বাচক কমিটির প্রধান আকিব জাভেদ

আকিবকে কেন আয়নায় মুখ দেখতে বললেন গিলেস্পি

পাকিস্তান ক্রিকেটে সাম্প্রতিক অস্থিরতা নিয়ে এবার সরব হলেন দলটির সাবেক কোচ জেসন গিলেস্পি। দেশটির জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা ‘ভয় নিয়ে খেলছে’ দাবি করে পাকিস্তানের নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান আকিব জাভেদকে আয়নায় নিজের চেহারা দেখার পরামর্শ দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই পেসার।

ইংল্যান্ড সফরে প্রথম দুই টেস্টে হারের পর সফরের মাঝপথে দলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। টেস্ট দলের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও পেস বোলিং কোচ উমর গুলকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

পাশাপাশি সাতজন খেলোয়াড়কে বাদও দেওয়া হয় দল থেকে। পাকিস্তানের এমন সিদ্ধান্ত দলটিকে আরও সমালোচনার মুখে ফেলেছে। দলটির সাবেক কোচ গিলেস্পিও সমালোচকদের দলে যোগ দিয়েছেন।

২০২৪ সালে প্রায় আট মাস পাকিস্তানের কোচের দায়িত্বে ছিলেন গিলেস্পি। তাঁর অধীন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল পাকিস্তান। সেই দলের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে হতাশ গিলেস্পি।

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য অস্ট্রেলিয়ানকে গিলেস্পি বলেন, ‘আমার খেলোয়াড়দের জন্য খারাপ লাগছে। এটাই তাদের পেশা। বাইরে থেকে মনে হচ্ছে, তারা ভয় নিয়ে খেলছে।’

মাঠে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের মুখের হাসি এখন কমই দেখা যায়

পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন গিলেস্পি। প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের নেতৃত্ব দেওয়া সালমান আলী আগা পরের টেস্টেই দল থেকে বাদ পড়েন। এরপর তৃতীয় টেস্টের আগেই তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

৫১ বছর বয়সী গিলেস্পির প্রশ্ন, ‘প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া সালমান আলী আগা কীভাবে দ্বিতীয় টেস্টেই দলের বাইরে চলে যায় এবং তৃতীয় টেস্টের আগেই বিমানে দেশে ফিরে যায়? এটা কীভাবে সম্ভব?’

পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য নির্বাচক কমিটির প্রধান আকিব জাভেদকে সরাসরি দায়ী করেছেন গিলেস্পি। তাঁর ভাষায়, ‘আকিব জাভেদের অধীন তাদের যে দল নির্বাচনের কোনো কৌশল নেই, সেটা স্পষ্ট। তারা প্রতিদিন নিজেদের সিদ্ধান্ত বদলায়—যেভাবে প্রতিদিন পোশাক বদলায়।’

কিছুদিন আগে পাকিস্তানের সাবেক কোচ গ্যারি কারস্টেন এবং গিলেস্পিকে দলের খারাপ পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেছিলেন আকিব জাভেদ। এই অভিযোগ নিয়ে গিলেস্পি বলেন, ‘সম্প্রতি পাকিস্তানের যা কিছু হচ্ছে, তার জন্য আকিব জাভেদ গ্যারি কারস্টেন ও আমাকে দায়ী করেছেন। অথচ দুই বছর ধরে আকিবই নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান। আমরা তো সেখানে ছিলামই না। আমার মনে হয়, তাঁর নিজের চেহারা আয়নায় দেখা উচিত।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। হেডিংলিতে সিরিজের প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে হারে পাকিস্তান। এরপর লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে পরাজিত হয় ১৯৪ রানে। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ৯ সেপ্টেম্বর, এজবাস্টনে।

তবে মাঠের পারফরম্যান্স ছাপিয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে টিম ম্যানেজমেন্টের যোগাযোগের ধরন নিয়ে বেশি ক্ষুব্ধ গিলেস্পি। শুনুন তাঁর মুখেই, ‘আকিব জাভেদের সঙ্গে খেলোয়াড়দের কোনো যোগাযোগ নেই। অথচ নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁরই যোগাযোগ রাখার কথা। যেসব খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া হয়েছে, তারা পরিবার, বন্ধু এবং গণমাধ্যমের কাছ থেকে শুনেছে যে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এটা কতটা অসম্মানজনক!’

পাকিস্তান ক্রিকেটের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে শুধু গিলেস্পিই নন, আরও কয়েকজন সাবেক কোচ ও খেলোয়াড়ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি ও শোয়েব মালিকও পিসিবির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পাকিস্তানের সাবেক কোচ মিকি আর্থার এ পরিস্থিতিকে বলেছেন, ‘একেবারে হাস্যকর।’

ইংল্যান্ড সফরে বাকি সময়ের জন্য পাকিস্তান দলে কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিউজিল্যান্ডের মাইক হেসন ও অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশলি নফকেকে। হেসন আগে থেকেই পাকিস্তানের সাদা বলের দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।