আবার বিতর্কে উসমান তারিক। পাকিস্তানি এই স্পিনারের বিতর্ক মানেই তো তাঁর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আলোচনা। এবার তাতে তাঁর সঙ্গী হয়েছেন নিউজিল্যান্ড ব্যাটসম্যান ড্যারিল মিচেল।
গতকাল পিএসএলে উসমান তারিকের থেমে গিয়ে করা বোলিংয়ের বিপক্ষে দুবার স্ট্যান্স ছেড়ে সরে দাঁড়ান মিচেল। ঘটনার এক পর্যায়ে হস্তক্ষেপ করতে হয় বাংলাদেশি আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকতকে।
তারিক থামলে ব্যাটসম্যানও যেন ক্রিজ থেকে সরে দাঁড়ান, গত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় ভারতের সাবেক অফ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন এমন পরামর্শ দিয়েছিলেন। গতকাল করাচির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ঠিক সেই কাজই করলেন মিচেল।
পিএসএলে গতকাল তারিকের দল কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরসের মুখোমুখি হয় রাওয়ালপিন্ডিজ। রান তাড়া করতে নামা রাওয়ালপিন্ডিজের ইনিংসের নবম ওভারে বল করতে আসেন উসমান তারিক।
ওভারের দ্বিতীয় বলে মিচেল সুইপ করে এক রান নিলেও টাইমিং তার মনমতো হয়নি। তারিক চতুর্থ বলের সময় তাঁর স্বভাবমতো মাঝপথে থেমে যখন বল ছুড়তে যাচ্ছিলেন, তখন মিচেল আচমকাই ব্যাটিং স্ট্যান্স ছেড়ে সরে দাঁড়ান। এরপর তারিক আবারও একই অ্যাকশনে বোলিং করতে গেলে এবারও সরে দাঁড়ান কিউই মিডল–অর্ডার ব্যাটসম্যান।
পরপর দুবার একই ঘটনা ঘটায় সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটসম্যানের দিকে এগিয়ে যান আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা। কথা বলেন মিচেলের সঙ্গে। তখন ধারাভাষ্যকক্ষে ছিলেন বাংলাদেশের আতহার আলী খান। মিচেল দ্বিতীয়বার স্ট্যান্স থেকে সরে যাওয়ার পর আতহার বলেন, ‘টানা দ্বিতীয়বার মিচেল সরে গেলেন। বোঝাই যাচ্ছে সে অসন্তুষ্ট।’ ধারাভাষ্যকক্ষে থাকা রমিজ রাজাও এ নিয়ে কথা বলেন, ‘আম্পায়ার বিষয়টি সমাধান করবে। তবে আমার মনে হয় মিচেলের (খেলার জন্য) প্রস্তুত থাকতে হবে।’
এরপর খেলা শুরু হলে তারিক আগের মতোই বল ডেলিভারি দেন, মিচেলও স্বাভাবিকভাবেই খেলেন। এই বলে কোনো রান হয়নি। ম্যাচে এরপর তারিকের আরও তিনটি বল খেলেছেন মিচেল, কোনোটিতেই এক রানের বেশি নিতে পারেননি।
শেষ পর্যন্ত ৩২ বলে ৩০ রান করে সৌদ শাকিলের বলে আউট হন মিচেল। তারিক ৪ ওভারে মাত্র ২৩ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। ম্যাচও জেতে তাঁর দল কোয়েটা। টানা পাঁচ ম্যাচ হেরেছে রাওয়ালপিন্ডিজ।
ম্যাচ জেতাতে না পারলেও অশ্বিনের মন জয় করেছেন মিচেল। এক্সে মিচেলের স্ট্যান্স থেকে সরে যাওয়ার ভিডিও পোস্ট করে অশ্বিন লিখেছেন, ‘আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিদের বিরতির সময় নির্ধারণ করতে হবে। যদি বিরতির সময় ধারাবাহিক না হয়, তবে ব্যাটসম্যানের সরে যাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। খেলা শুরু হওয়ার আগেই অধিনায়ক এবং প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানের উচিত আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিদের কাছে এই বিষয়টি উত্থাপন করা। সাবাস মিচেল।’