
সামনে ছিল ২৪৮ রানের লক্ষ্য। ২ উইকেটেই ১২২ রান করে ফেলেছিল বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে ১৪২ রান তাড়া করতে না পারলেও মেহেদী হাসান মিরাজের দল এবার জয়ের আশাই করছিল। কিন্তু আচমকাই ধস নামে ব্যাটিংয়ে। আর ১১২ রান যোগ করতেই বাংলাদেশ হারিয়ে ফেলে শেষ ৮ উইকেট!
আজ হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ম্যাচ হেরেছে ১৩ রানে। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতেই হেরে যাওয়ায় সিরিজ হারও নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশের। হারারেতেই আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার শেষ ওয়ানডেটি আগামী পরশু।
টস হেরে ব্যাটিং করতে নামা জিম্বাবুয়ে প্রথম ওভারেই হারিয়ে ফেলেছিল ব্রায়ান বেনেটকে। এরপর প্রায় নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারিয়েছে তারা। তবে ওপেনার বেন কারেন খেলেছেন শেষ পর্যন্ত, ১৩৫ বল খেলে অপরাজিত ছিলেন ১১১ রানে।
মাঝে সিকান্দার রাজার সঙ্গে কারেনের পঞ্চম উইকেটে আসে ৯৫ বলে ৬৮ রান।
রাজার বিদায়ের পর একাই লড়াই চালিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন কারেন। তবে তাতেও জিম্বাবুয়ের জন্য লড়াই করার পুঁজি পাওয়া কঠিন ছিল।
ওই অপূর্ণতা ঘুচে ব্রাড ইভান্সের ব্যাটে। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে তাসকিন আহমেদের শেষ ওভারে ৩ ছক্কায় ২২ রান নেওয়া ইভান্স ৩৮ বলে অপরাজিত থাকেন ৫৮ রানে। জিম্বাবুয়েও তাতে প্রায় আড়াই শ ছোঁয়া সংগ্রহ পায়।
তাড়া করতে নেমে ৩৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে তাওহিদ হৃদয় ও তানজিদ হাসানের তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১০৭ বলে আসে ৮৪ রান। জিম্বাবুয়ের পেসারদের ভালোভাবে সামলানো তানজিদ ৭০ বলে ৫৭ রান করে বোল্ড হয়ে যান ব্রায়ান বেনেটের বলে। ১২ ওতম ওয়ানডেতে এসে প্রথম উইকেটের দেখা পেলেন বেনেট।
আশা দেখিয়েও ইনিংসটা বড় করতে পারেননি হৃদয়। ৯০ বলে ৬০ রান করে তাঁর ফিরে যাওয়ার পরই বাংলাদেশ ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে থাকে। পরের ব্যাটসম্যানদের বেশির ভাগই বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন উইকেট।
কিছুক্ষণ অবশ্য তবু আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন নুরুল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু তারাও শেষ গন্তব্য অবধি নিয়ে যেতে পারেননি। ৪১ বলে ৩৮ রান করে নুরুল আগেভাগেই আউট হয়ে গিয়েছিলেন। আর শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে এনগারাভার বলে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৩৩ বলে মিরাজ করেন ২৭ রান। টানা চার সিরিজ জেতা বাংলাদেশ হারের স্বাদ পেল জিম্বাবুয়েতে গিয়ে।