
অস্ট্রেলিয়া-শ্রীলঙ্কা ম্যাচের ধারাবিবরণীতে স্বাগতম। পাল্লেকেলেতে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। অস্ট্রেলিয়ার সামনে কঠিন সমীকরণ।
হয়তো অস্ট্রেলিয়ার জন্য এই ম্যাচেই শেষ হয়ে যেতে পারে সুপার এইটে খেলার আশা, আবার হয়তো এখান থেকেই শুরু হতে পারে সেই চিরচেনা রুদ্রমূর্তির অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বজয়ী যাত্রা।
শ্রীলঙ্কার জন্য হিসাবটা খুব সহজ—অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারলেই তাদের সুপার এইট নিশ্চিত। টানা তিন জয়ে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে।
পিচ নিয়ে রাসেল আর্নল্ডের পর্যবেক্ষণ হলো—উইকেট বেশ ভালো, তবে এখানে বল কিছুটা টার্ন করতে পারে। উইকেটে ঘাসের বেশ ভালো আস্তরণ রয়েছে। বিশেষ করে স্টাম্প বরাবর ঘাস অন্যান্য জায়গার তুলনায় বেশি, যার অর্থ হলো—বল মাঝে মাঝে কিছুটা অসমান বা অপ্রত্যাশিত বাউন্স ও মুভমেন্ট নিতে পারে। সব মিলিয়ে আর্নল্ডের মতে, জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ অন্তত ১৭০-১৭৫ রান হওয়া প্রয়োজন।
বেশ ভালোই দর্শক সমাগম হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া দলে ফিরেছেন মিচেল মার্শ, এবং ফিরেই তিনি ব্যাটিং অর্ডারের সেই পরিচিত ওপেনিং পজিশন সামলাবেন। তাঁর সাথে ইনিংস উদ্বোধন করতে নামছেন ট্র্যাভিস হেড, যিনি মার্শের অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। স্ট্রাইক নিচ্ছেন মার্শ। শ্রীলঙ্কার হয়ে নতুন বল হাতে আক্রমণে আসছেন চামিরা।
চামিরার প্রথম ওভারেই একটা করে চার-ছক্কা মেরেছেন মার্শ, হেড মেরেছেন একটা চার। রান এসেছে ১৬। দারুণ শুরু।
অস্ট্রেলিয়া: ৩ ওভারে ২৮–০
বোলিংয়ের সময় চোট পেয়েছেন মাতিশা পাতিরানা। বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। সতীর্থদের কাঁধে চড়ে মাঠ ছাড়ার সময় ব্যথায় কাতরাতে দেখা গেছে তাঁকে। এর আগে চোটের কারণে ছিটকে গিয়েছেন ওয়ানিন্দু হাসরাঙ্গাও।
অস্ট্রেলিয়া: ৯ ওভারে ১০৫/১
অবশেষে উইকেট পেলে শ্রীলঙ্কা। নবম ওভারে ট্রাভিস হেডকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ১০৪ রানের উদ্বোধনী জুটি ভেঙেছেন দুশান হেমন্ত। ২৯ বলে ৫৬ রান করা হেড লং অফে কামিন্দু মেন্ডিসের ক্যাচ হয়েছেন।
চোট কাটিয়ে ফেরা অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক মিচেল মার্শ ব্যাটিং করছিলেন ৪৭ রানে।
অস্ট্রেলিয়া : ১০ ওভারে ১১০/২
১০৪ রানের উদ্বোধনী জুটির পর দ্রুতই আরেকটি উইকেট হারাল অস্ট্রেলিয়া। ১১০ রানের মাথায় স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়েছেন ৭ বলে ৩ রান করা ক্যামেরন গ্রিন। দুনিত ভেল্লালাগে পেয়েছেন উইকেটটি। মিচেল মার্শের সঙ্গী হয়েছেন টিম ডেভিড।
অস্ট্রেলিয়া: ১১ ওভারে ১১৭/৩
চোট থেকে ফিরেই ফিফটি পেয়ে গেছেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক মিচেল মার্শ। একাদশ ওভারের প্রথম বলে দুশান হেমন্তকে চার মেরে ৫০ পেয়ে যান মার্শ। ২৫ বলে ফিফটি ছোঁয়া মার্শ ৩ বল পরেই আউট হয়েছেন ৫৪ রান করে। হেমন্তের জোরালো আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নিয়ে উইকেটটি পেয়েছে শ্রীলঙ্কা।
১০৪ থেকে ১১৬—১২ রানে ৩ উইকেট হারাল অস্ট্রেলিয়া।
অস্ট্রেলিয়া: ১৪ ওভারে ১৩৬/৪
আরেকটি উইকেট হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। অনিয়মিত অফ স্পিনার কামিন্দু মেন্ডিস আউট করেছেন টিম ডেভিডকে। ছক্কা মারতে গিয়ে লং অফে ক্যাচ দিয়েছেন ডেভিড (৫ বলে ৬)।
মার্শ–হেডের ১০৪ রানের উদ্বোধনী জুটির পর ২৬ রানের মধ্যেই ৪ উইকেপ হারাল দলটি।
অস্ট্রেলিয়া: ১৭ ওভারে ১৬৮/৫
আগের ওভারে সহজ ক্যাচ তুলেও বেঁচে গিয়েছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। সহজ ক্যাচটি ফেলে দিয়েছিলেন পাতুম নিশাঙ্কা। পরের ওভার সেই নিশাঙ্কা কী দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়েই না ফেরালেন ম্যাক্সওয়েলকে। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে পুরো শরীর শূন্যে মেলে দিয়ে ক্যাচটি নিয়েছেন নিশাঙ্কা। ১৮ রানে জীবন পাওয়া ম্যাক্সওয়েল ফিরলেন ২২ রানে দলকে ১৬০ রানে রেখে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে। উইকেটটি পেয়েছেন দুশান হেমন্ত।
২০০ করা নিয়ে শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া। ম্যাক্সওয়েলের বিদায়ের পর আরও ২ উইকেট হারিয়েছে দলটি। ফিরে গেছেন জশ ইংলিস ও কুপার কনোলি। ১৯ ওভার শেষে দলটির স্কোর ১৭৭/৭।
শেষ ওভারে মাত্র ৩ রান দিয়েছেন শ্রীলঙ্কান পেসার দুষ্মন্ত চামিরা। অস্ট্রেলিয়া হারিয়েছে ৩ উইকেট, এর শেষ দুটি রানআউট।
মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেড উদ্বোধনী জুটিতে ৮.৩ ওভারে তুলে ফেলেছিলেন ১০৪ রান। এরপর ম্যাচে ফিরে আসে শ্রীলঙ্কা। একের পর এক উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ২০০ করতে দেয়নি দলটি।
লঙ্কান লেগ স্পিনার দুশান হেমন্ত ৩৭ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট।
১৮২ রান তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লেটা ভালো কেটেছে শ্রীলঙ্কার। একটি উইকেট হারালেও ৬ ওভারে তারা তুলেছে ৬১ রান। দ্বিতীয় ওভারে ৩ বলে ১ রান করে কুশল পেরেরা আউট হয়ে যাওয়ার পর ২৮ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েছেন পাতুম নিশাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিস। ২০ বলে ৩৮ রানে নিশাঙ্কা ও ১৩ বলে ২০ রানে অপরাজিত আছেন মেন্ডিস।
১০০ পেরিয়ে গেল শ্রীলঙ্কা। উইকেট ওই একটিই। দলকে ধীরে ধীরে জয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন নিশাঙ্কা ও মেন্ডিস। হাফ সেঞ্চুরি পেরিয়ে গেছেন তারা দুজনই।
৮ রানে প্রথম উইকেটটা হারানোর পর তারা দুজনই এগিয়ে নিচ্ছিলেন দলকে। পাথুম নিশাঙ্কা আর কুশল মেন্ডিস দুজনেই তুলে নিয়েছিলেন ফিফটি। ৯৭ রানে জুটিটা ভেঙে গেছে স্টয়নিসের বলে মেন্ডিস ক্যাচ তুলে দেওয়ায়।
দুর্দান্ত সব শট খেলছেন পাতুম নিশাঙ্কা। তিনি আছেন সেঞ্চুরির পথেও। এখন রান ৮৮, জেতার জন্য শ্রীলঙ্কার দরকার ১৪ রান। সেঞ্চুরিটা হবে তো?
সেঞ্চুরিটা করে উদ্যাপনের আগে কিছুটা সময় নিলেন পাতুম নিশাঙ্কা। ততক্ষণে সতীর্থ আর দর্শকদের করতালি ভেসে এসেছে কানে। আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করে হেলমেটটা খুলে নিশাঙ্কা দু হাত প্রসারিত করে সারলেন উদ্যাপন। দলের জয়ের জন্য পরে লাগল আর একটি বল।
১২ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। এই জয়ে নিশ্চিত হয়ে গেছে তাদের সুপার ফোর। আরেকদিকে অস্ট্রেলিয়া দাঁড়িয়ে আছে প্রথম পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার দ্বারপ্রান্তে— ২০০৯ সালের পর বিশ্বকাপে এমন অভিজ্ঞতা হয়নি তাদের।
গ্রুপ পর্বে নিজেদের পরের দুই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে আয়ারল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার যেকোনো একটি দলকে হারাতে পারলেই নিশ্চিত হয়ে যাবে অস্ট্রেলিয়ার বিদায়। জিম্বাবুয়ে দুই ম্যাচে হারলেও ওমানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিততে হবে অস্ট্রেলিয়াকে।
অস্ট্রেলিয়া: ২০ ওভারে ১৮১ (মার্শ ৫৪, হেড ৫৬, ইংলিশ ২৭; হেমন্ত ৩/৩৭, চামিরা ২/৩৬)। শ্রীলঙ্কা: ১৮ ওভারে ১৮৪/২ (নিশাঙ্কা ১০০,মেন্ডিস ৫১, রত্নায়েকে ২৮;স্টয়নিস ২/৪৬)। ফল: শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: পাতুম নিশাঙ্কা।