মোসাদ্দেক হোসেনের জন্য মঞ্চটা সাজানোই ছিল। ৪ বছর পর আবার ফিরেছেন জাতীয় দলের জার্সিতে। তাঁর জন্য সেই উপলক্ষ আরও বিশেষ হয়ে উঠল ক্যারিয়ার–সেরা ইনিংসের সঙ্গে দলের জয়ে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে যে জয়ের জন্য বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২১ বছর।
আজ ১৪০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর বাংলাদেশ যখন চাপে পড়ে যায়, তখন ব্যাটিংয়ে আসেন মোসাদ্দেক। তাওহিদ হৃদয়কে নিয়ে দলকে টেনে তোলেন বিপদ থেকে। শেষ দিকে টেলএন্ডারদের নিয়েও অপরাজিত ছিলেন ৭০ বলে ৮৬ রান করে। পরে বল হাতেও নেন ২ উইকেট তিনি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই ম্যাচসেরা হওয়ার পর মোসাদ্দেক আজ সংবাদ সম্মেলনে ফিরে গেলেন জাতীয় দল থেকে বাইরে থাকার সময়ে, ‘হতাশা ছিল। খুব সহজ সময় ছিল না আমার জন্য। আমার কঠিন সময় হয়তো অনেকেই আপনারা দেখেছেন, হয়তো অনেকে দেখেননি। আমি সব সময় ধৈর্য ধরার চেষ্টা করেছি। আমার কাজগুলো করার চেষ্টা করেছি।’
সেই চেষ্টায় মোসাদ্দেক সফলও হয়েছেন। এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও ৭ ইনিংসে ৬৭.৩৩ গড় ও ১৩৩.৩৩ স্ট্রাইক রেটে ৩৩৬ রান করেছেন। বল হাতেও নেন ১২ উইকেট।
ঘরোয়া ক্রিকেটে শুধু পারফরম্যান্স নয়, মোসাদ্দেকের চোখ ছিল আরও কিছু জায়গাতেও, ‘এখনকার ক্রিকেট যদি আমরা দেখি, পরিস্থিতি অনুযায়ী স্ট্রাইক রেট (রাখা), ওই জিনিসটা সব সময় মাথায় কাজ করত যখন ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতাম। সেটাই আমি এখানে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছি।’
জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই মোসাদ্দেকের ভাবনায় ঘুরছিল অন্য একটা ভাবনা। তাঁর বয়স এখন ৩১ বছর—যে বয়সে জাতীয় দল থেকে ছিটকে যাওয়ার পর ফিরে আসাটা বাংলাদেশের বাস্তবতায় কঠিনই।
মোসাদ্দেক সুযোগ পাওয়ার পর ভালো পারফরম্যান্সে উদাহরণ হতে চেয়েছেন অন্যদের জন্যও, ‘সত্যি কথা বলতে (অন্যদের জন্য উদাহারণ হওয়ার কথা) ভেবেছিলাম। এটা পুরোপুরি ম্যানেজমেন্টের ডাক যে কাকে কখন কোন জায়গাতে ব্যবহার করবে। যারা ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করছে, যদি ধারাবাহিক হতে পারে, আমার কাছে মনে হয় সবার জন্য দরজা খোলা।’
২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মোসাদ্দেক এসেছিলেন অনেক সম্ভাবনা নিয়ে। কিন্তু তিনি কখনোই সেভাবে জাতীয় দলে থিতু হতে পারেননি। আসা–যাওয়ার ভেতর ছাপও রাখতে পারেননি সেভাবে। এবারের যাত্রাটা তিনি নতুন করেই শুরু করতে চান তাই।
হারিয়ে যাওয়া সময়ের জন্যও দায় দিতে চান না কাউকে, ‘সামর্থ্য অনুযায়ী আমি কখনোই ওভাবে পারফর্ম করতে পারিনি। আমার ঘাটতিটাই সব সময় দেখার চেষ্টা করি। এখন পর্যন্ত এটাই বিশ্বাস করি, যেটা হয়ে গেছে, সেটা আমার ঘাটতি ছিল।’
প্রতি ম্যাচেই তা একটু একটু করে কাটিয়ে উঠতে চান মোসাদ্দেক। ওই পথে তাঁর যাত্রার শুরুটা হয়েছে মনে রাখার মতোই। এখন সেই ধারাবাহিকতার পথ ধরে মোসাদ্দেক যেন হাঁটতে পারেন, তাঁর কাছে সবার চাওয়া এমন। সতীর্থদের তাঁকে বরণ করে নেওয়াটাও দিচ্ছে বাড়তি অনুপ্রেরণা, ‘যেহেতু আমি এত দিন পরে এসেছি, ওরা সবাই মিলে চাইছে, যেন আমি ওই ফিলটা কখনোই না করি যে এত দিন পরে এসেছি।’