বাংলাদেশের জয়ে দারুণ বোলিং করেছেন তাসকিন আহমেদ
বাংলাদেশের জয়ে দারুণ বোলিং করেছেন তাসকিন আহমেদ

‘ভালো উইকেটে খেলেছি, এমন না যে ধানখেত’— অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে তাসকিন

এবার আর কেউ বলতে পারবে না ধানখেতে খেলে জিতেছি—কথাটা বলেই অট্টহাসিতে ফেটে পড়লেন তাসকিন আহমেদ। তাঁর সঙ্গে হাসলেন সংবাদ সম্মেলনকক্ষে উপস্থিত সবাই।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এর আগে টি–টুয়েন্টি সিরিজ জয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ, আছে টেস্ট জেতার স্মৃতিও; কিন্তু দুটিই ছিল ঘরের মাঠে স্পিন উইকেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে।

এবার যখন বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডে সিরিজ হারাল, তখন পরিস্থিতি পুরোপুরি ভিন্ন। স্পোর্টিং উইকেটে সবার জন্যই সমান সুবিধা আছে। উইকেট নিয়ে সমালোচনা করার সুযোগ নেই তাই। মিরপুরে এমন উইকেটেও প্রথম দুই ওয়ানডের কোনোটিতেই অস্ট্রেলিয়াকে সেভাবে লড়াইও করতে দেয়নি বাংলাদেশ।

এর সঙ্গে তাসকিনের আছে অন্য একটি আনন্দও, ‘এবার কেউ উইকেট নিয়েও কিছু বলতে পারবে না। ভালো উইকেটে খেলছি। এমন না যে ধানখেত! আমরা ভালো উইকেটে খেলছি, ভালো দলের সঙ্গে জিতেছি। এটা দারুণ অর্জন।’

বাংলাদেশ শুধু যে জিতেছে, তা নয়। আজ প্রথম ২ ওভারে কোনো রান করার আগেই তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়ার ৩ উইকেট। আগের ৫১ বছর আর ১০২৪ ম্যাচে এমন অভিজ্ঞতা কখনো হয়নি অস্ট্রেলিয়ার।

ইনিংসের প্রথম ওভারেই উইকেট মেডেন দিয়ে শুরুটা করেছিলেন তাসকিনই। স্কোরবোর্ডে এমন দৃশ্য দেখার অনুভূতি কেমন, সেটি শুনুন তাঁর মুখেই, ‘আসলে খুবই ভালো লেগেছে। আমরা মাঠে ছিলাম, এত কিছু দেখার সুযোগ হয়নি। কারণ, প্রতিটি ওভারই নতুন করে শুরু হয়। সবাই মিলে যত দ্রুত ওদের শেষ (অলআউট) করা যায় সেই চেষ্টাই করেছি।’

তাসকিনের কাছে যেই অনুভূতি ‘ভালো’, অস্ট্রেলিয়ার ক্যামেরুন গ্রিনের জন্য সেটাই বিষাদ। ড্রেসিংরুমে বসেই তিনি দেখেছেন একে একে তিন ব্যাটসম্যানের ফেরার দৃশ্য। পরে তাঁর ফিফটিতেই বাংলাদেশের সামনে কিছুটা লড়াই করার পুঁজি দিতে পেরেছিল অস্ট্রেলিয়া।

অসাধারণ এক সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

বাংলাদেশে বোলারদের কৃতিত্ব দিয়েই গ্রিন বলেছেন, ‘শূন্য রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ঘুরে দাঁড়ানো অবশ্যই কঠিন; কিন্তু আমার মনে হয় আমরা ভালো করেছি।’

সেই ভালো করাটাও যথেষ্ট হয়নি অস্ট্রেলিয়ার জয়ের জন্য। ম্যাচটা তাদের হারতে হয়েছে ৫ উইকেটে। তাদের হারিয়ে ঘরের মাঠে টানা পাঁচটি ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও বাংলাদেশ জিতেছে ভালো উইকেটে খেলে। সিরিজের একটা ম্যাচ অবশ্য এখনো বাকি।

এমন উইকেটে খেলার পেছনের ভাবনাটা তাসকিন বললেন আবারও, ‘বছরখানেক ধরে আস্তে আস্তে দল হিসেবে আমরা গড়ে উঠছি। ভালো উইকেটে, ভালো কন্ডিশনে খেলে দল উন্নতি করছে। কারণ, আমাদের লক্ষ্য বড় টুর্নামেন্টে ভালো করার। যেটা এখনো ওভাবে হয়নি। এ জন্যই আমাদের বোর্ড এবং খেলোয়াড় সবাই মিলে চাইছে ভালো কন্ডিশনে খেলে স্কিল বাড়াতে।’

ভালো উইকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি পেসাররা। কখনো তাসকিন, কখনো মোস্তাফিজুর রহমান কিংবা নাহিদ রানা দলকে ম্যাচ জেতাচ্ছেন। গতকাল ২৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন মোস্তাফিজ।

তাসকিনের উদ্‌যাপন

বিশ্বক্রিকেটে বাংলাদেশের পেস বোলিং নিয়ে আলোচনাটা এখন নিয়মিত। তাসকিনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তাঁর দৃষ্টিতে বাংলাদেশের পেস বোলিং বিভাগ বিশ্বে কত নম্বরে থাকবে? উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘সেরা তিনে’।

বাংলাদেশের পেস বোলিং সময়ের সঙ্গে আরও উন্নতি করবে বলেও বিশ্বাস তাঁর, ‘বোলিং ইউনিট হিসেবে সবাই মিলে উন্নতি করছি, এটাই সবচেয়ে বড় সার্থকতা। কারণ, একটা সময়ে গিয়ে আমরা কেউই খেলব না। ভবিষ্যতে যেন আমরা উপরের দিকে নিয়ে যেতে পারি, সে চেষ্টা করতে হবে।’

সেই পথে বাংলাদেশের অন্যতম বড় শক্তি হবেন নাহিদ রানা। প্রথম ওয়ানডেতে মিড অফে দাঁড়িয়ে তাঁর বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের ভয় পেতে দেখার আনন্দে বুঁদ হয়েছেন তাসকিন। রানার জন্য শুভকামনা, ‘আল্লাহ যেন ওকে আরও সফলতা দেয়, আমাদের পেস বোলিংটাকে ওপরে নিয়ে যায়। সারা বিশ্ব কথা বলতেছে আমাদের পেস বোলিং নিয়ে, এটা আমাদের জন্য বড় পাওয়া।’