
জাতীয় ক্রিকেট লিগের তৃতীয় রাউন্ডের তৃতীয় দিনে ডাবল সেঞ্চুরি পেয়েছেন রাজশাহীর নাঈম আহমেদ। সিলেটে লেজের ব্যাটসম্যানদের সঙ্গী করে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি পেয়েছেন খুলনার আজিজুল হাকিম। সেঞ্চুরি পেয়েছেন মোহাম্মদ নাঈমও।
কামরুল ইসলাম রাব্বীর করা বলটাকে গ্ল্যান্স করলেন নাঈম আহমেদ। বল সীমানা দড়ি ছুঁতেই রাজশাহীর ব্যাটসম্যানের বুনো উদ্যাপন প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটাকে ডাবল সেঞ্চুরি বানানোর আনন্দে।
বাংলাদেশের পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটাকেই ডাবল সেঞ্চুরি বানালেন নাঈম। তাঁর আগে তাইবুর রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, তাওহিদ হৃদয় ও আবদুল্লাহ আল মামুন ডাবল সেঞ্চুরিতেই খুলেছিলেন সেঞ্চুরির খাতা।
রাজশাহীতে আজ নাঈমের দল বরিশালের বিপক্ষে ইনিংসও ঘোষণা করে দেয় নাঈমের ডাবল সেঞ্চুরির পরেই। প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেটে ৪৫৭ রান করা দলটি তৃতীয় দিন শেষ করেছে জয়ের সুবাস নিয়ে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেটে ২৪৯ রান করা বরিশাল মাত্র ২১ রানে এগিয়ে।
বরিশালের দ্বিতীয় ইনিংসে ৯১ রানে আউট হয়েছেন ওপেনার জাওয়াদ আবরার। মাত্র ৯৪ বলেই এই রান করার পথে ৯টি চার ও ৪টি ছক্কা মেরেছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ দলে খেলা এই ব্যাটসম্যান।
পাঁচ ম্যাচের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি পেয়েছেন আজিজুল হাকিম। বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব–১৯ দলের সাবেক অধিনায়ক আজ সিলেটে চট্টগ্রামের বিপক্ষে খুলনার দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন ১৪২ রান। ১৪৭ বলের ইনিংসে ৯টি চার ও ১০টি ছক্কা মেরেছেন এই ওপেনার।
আগের দিন ১২ রান করার পর চোটের কারণে মাঠ ছেড়ে উঠে গিয়েছিলেন আজিজুল। ৬ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে দিন শুরু করা খুলনা আজ অলআউট ৩২৩ রানে। আজ যোগ হওয়া ১৬২ রানের ১৩০–ই এসেছে আজিজুলের ব্যাট থেকে। ২৫৬ রানে নবম উইকেট হারানোর পর সফর আলীকে নিয়ে দশম উইকেটে ৬৭ রান যোগ করেন আজিজুল, যেখানে সফরের অবদান শূন্য রান, আজিজুলের ৬৫ ও অতিরিক্ত ২।
২৭৫ রানের লক্ষ্য পাওয়া চট্টগ্রাম দিন শেষ করেছে ৫ উইকেটে ১৭৪ রান তুলে। মাহমুদুল হাসান (৬০) ও সাদিকুর রহমান (৭৬) উদ্বোধনী জুটিতেই তুলে ফেলেন ১২৯ রান। এরপর ২৫ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে রাজশাহী। সামিউন বাসীর কনকাসনে (মাথায় আঘাতজনিত জটিলতা) বদলি হিসেবে নামা খুলনার বাঁহাতি স্পিনার রাকিব হাওলাদার নিয়েছেন ৪ উইকেট।
চট্টগ্রামে তৃতীয় দিন শেষে রংপুরের চেয়ে ২০৮ রানে এগিয়ে সিলেট। আজ সারা দিন ব্যাট করা দলটি দিন শেষ করেছে ৮ উইকেটে ২৩৫ রান তুলে। অমিত হাসান অপরাজিত আছেন ৯৪ রানে।
অবিশ্বাস্য কিছু না হলে ড্র–ই হতে যাচ্ছে কক্সবাজারের ময়মনসিংহ–ঢাকা ম্যাচ। তৃতীয় দিন শেষেও যে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয়নি। ঢাকা দিনটা শেষ করেছে ৯ উইকেটে ৩৪২ রান নিয়ে। ময়মনসিংহের চেয়ে এখনো ৪৫ রানে পিছিয়ে তারা। ঢাকার অধিনায়ক মোহাম্মদ নাঈম ১৩৫ রান করেছেন। এ ছাড়া ৯৩ রান করেছেন তাইবুর রহমান। ময়মনসিংহ অধিনায়ক রাকিবুল হাসান পেয়েছেন ৪ উইকেট।