
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আজ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি ভারত ও ইংল্যান্ড। টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে ওঠার সুযোগ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের সামনে। আইসিসি টি-টুয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল ভারত, ইংল্যান্ড আছে দুইয়ে। সেমিফাইনালে নামার আগে দুই দলের শক্তি ও দুর্বলতা নিয়ে বিশেষ বিশ্লেষণ—
বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা সুপার এইটের শেষ দুই ম্যাচেই নিজেদের সেরা খেলাটা দেখিয়েছে। জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দাপুটে জয় দিয়ে সেমিফাইনালে পা রেখেছে তারা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফেবারিটের তকমা থাকলেও গ্রুপ পর্বে সূর্যকুমার যাদবের দল খুব একটা স্বস্তিতে ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৭৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বসা ভারতকে উদ্ধার করেছিল সূর্যকুমারের ৮৪ রানের ইনিংস।
শক্তিটপ অর্ডারে সঞ্জু স্যামসনের সংযুক্তি ভারতীয় ব্যাটিংয়ে ভারসাম্য এনে দিয়েছে। বোলিং আক্রমণে যশপ্রীত বুমরা বরাবরের মতোই দুর্দান্ত, আর ১২ উইকেট নিয়ে স্পিন বিভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের সেরা বোলার বরুণ চক্রবর্তী। এ ছাড়া ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের ৩৫ হাজার দর্শক ‘দ্বাদশ খেলোয়াড়’ হিসেবে কাজ করবে ভারতের।
দুর্বলতাওপেনার অভিষেক শর্মার অফ ফর্ম ভারতকে ভাবাচ্ছে। বিশ্বের এক নম্বর টি-টুয়েন্টি ব্যাটসম্যান হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও টানা তিন ম্যাচে ‘ডাক’ মেরেছেন তিনি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ফিফটি করে ফর্মে ফেরার আভাস দিলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ফিরেছেন মাত্র ১০ রানে। ইংল্যান্ড নিশ্চিতভাবেই চাইবে শুরুতে তাঁকে চেপে ধরতে।
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য: চ্যাম্পিয়ন (২০০৭, ২০২৪)
হ্যারি ব্রুকের ইংল্যান্ডের গ্রুপ পর্বের শুরুটা ছিল কিছুটা নড়বড়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারের পর নেপালের বিপক্ষে জিতেছে শেষ বলে। সুপার এইটে এসে ঠিকই চেনা ছন্দে ফিরেছে তারা। শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে দুবারের চ্যাম্পিয়নরা।
শক্তিঅধিনায়ক হিসেবে প্রথম বিশ্বকাপেই নিজের বিচক্ষণতার প্রমাণ দিচ্ছেন হ্যারি ব্রুক। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ নম্বরে ব্যাটিংয়ে প্রমোশন নিয়ে ম্যাচজয়ী এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে ফর্মের তুঙ্গে থাকা অলরাউন্ডার উইল জ্যাকস ৭ ম্যাচে ৪ বার ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন। শুরুর দুই ম্যাচে খরুচে বোলিং করলেও জফরা আর্চার আবার ফিরেছেন তাঁর সেই বিধ্বংসী রূপে।
দুর্বলতাওপেনার জস বাটলারের ব্যাটে রানখরা ইংল্যান্ডের বড় দুশ্চিন্তার কারণ। ৭ ম্যাচে করেছেন মাত্র ৬২ রান। গত সেপ্টেম্বরের পর আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে কোনো ফিফটি নেই তাঁর। আত্মবিশ্বাসের অভাব থাকলেও সাবেক এই অধিনায়ককে দল থেকে বাদ দেওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য: চ্যাম্পিয়ন (২০১০, ২০২২)