
কখনো তাওহিদ হৃদয় পিঠ চাপড়ে দিচ্ছেন শামীম হোসেনের, কখনো হৃদয় গিয়ে বাহবা দিচ্ছেন শামীমকে। দুটো সময়ই চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উচ্ছ্বাসটা একই রকম। একে তো দল জিতছে, তার ওপর সমর্থকদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে শামীম–হৃদয়দের ব্যাট থেকে আসা বাউন্ডারিগুলো।
গত বছর টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে উন্নতির যে পথে পা বাড়িয়েছিল বাংলাদেশ, এই ম্যাচে মিলল তা ধরে আরও এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত। কিন্তু বিশেষ কী ঘটল আজ? প্রথমত, বাংলাদেশ নিজেদের মাঠে সবচেয়ে বড় রান তাড়া করে জিতেছে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আজ ৬ উইকেট হাতে রেখে ১৮৩ রান তাড়া করা জয়টি বাংলাদেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ। তবে কেউ বলতেই পারেন, এটি নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় সারির দল। সেটি অস্বীকার করার উপায়ও নেই।
কিন্তু বাংলাদেশ যে পরিস্থিতি থেকে ম্যাচটি জিতেছে, সেটিই এই রান তাড়াকে বিশেষ করে তুলেছে। ইনিংসের মাঝপথে অর্থাৎ ১০ ওভার শেষে ২ উইকেট হারিয়ে রান ছিল ৭৭। দলের সবচেয়ে ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যান তানজিদ হাসান ২৫ বলে করেছিলেন ২০ রান।
আগের দিনে বাংলাদেশের জন্য এখান থেকে ম্যাচে ফেরা ছিল প্রায় অসম্ভব। কিন্তু আজ হৃদয়-শামীম আর পারভেজ হোসেন মিলে কাজটা এত সহজ করে ফেললেন যে, বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে গেল পুরো ২ ওভার হাতে রেখেই।
ঝড়টা আসলে শুরু হয়েছিল তানজিদ যে ওভারে আউট হয়েছেন, ঠিক সেখান থেকেই। ইশ সোধির সেই ওভারে বাংলাদেশ তোলে ১৮ রান। পারভেজের সঙ্গে হৃদয়ের ওই আক্রমণই বাংলাদেশকে জয়ের পথে তুলে দেয়।
২৮ বলের সেই জুটিতে আসে ৫৭ রান। জশ ক্লার্কসনের স্লোয়ারে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১৪ বলে ২৮ রান করেন পারভেজ। তিনি বিদায় নেওয়ার পর বাংলাদেশের রান তোলার গতি বেড়েছে আরও।
শেষ ৪ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৩০ রান। যেটুকু অনিশ্চয়তা ছিল, তা শেষ হয়ে যায় ম্যাথু ফিশারের এক ওভারেই ২৫ রান আসায়।
এর মধ্যে ‘নো লুক শট’, রিভার্স সুইপ আর দুর্দান্ত সব বাউন্ডারিতে গ্যালারি মাতিয়ে রাখেন তারা। প্রাপ্য হিসেবে হাফ সেঞ্চুরিটা অবশ্য ম্যাচ জেতার আগেই তুলে নিয়েছিলেন হৃদয়। ২৭ বলে ৫১ রানের ইনিংসে ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি।
ব্যাটসম্যানদের শেষটা যেমন আনন্দের ছিল, বোলারদের শুরুটা ছিল ঠিক ততটাই কঠিন। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারেই নিউজিল্যান্ড তুলে ফেলেছিল ৬১ রান। তখন বাংলাদেশের একমাত্র সাফল্য ছিল তাওহিদ হৃদয়ের সরাসরি থ্রোতে পাওয়া একটি রান আউট।
বাংলাদেশ যখন প্রথম সত্যিকারের সুযোগ পেল, ম্যাচ তখন গড়িয়েছে নবম ওভারে। কিন্তু রিশাদ হোসেনের বলে ক্যাচ তুলে দিলেও তা ফেলে দেন সাইফ হাসান। বড় রানের নিচে চাপা পড়ার শঙ্কা তখন আরও বাড়ে।
তবে একই ওভারের চতুর্থ বলে ২৮ বলে ৫১ রান করা ডেন ক্লিভারকে এলবিডব্লু করেন রিশাদ। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে চাপে রাখে বাংলাদেশ। বোলাররা শেষটাও করেন দারুণ। নতুন করে ‘অভিষেক’ হওয়া রিপন মন্ডল প্রথম ৩ ওভারে ৩৩ রান দিলেও শেষ ওভারে কোনো বাউন্ডারি না দিয়ে দেন মাত্র ৬ রান।
১৮২ রানের স্কোর নিউজিল্যান্ড হয়তো ‘বড়’ই মনে হচ্ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা সেটিকেই কত সহজ বানিয়ে ছাড়লেন!
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ইনিংস: ১৮ ওভারে ১৮৩/৬ (হৃদয় ৫১*, শামীম ৩১, পারভেজ ২৮; সোধি ৪০/২)। নিউজিল্যান্ড ইনিংস: ২০ ওভারে ১৮২/৬ (ক্লিভার ৫১, ক্লার্ক ৫১, কেলি ৩৯, ক্লার্কসন ২৭*; রিশাদ ২/৩২, মেহেদী ১/৩১, শরীফুল ১/৩৬, তানজিম ১/৪০)। ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: তাওহিদ হৃদয়। সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১–০ তে এগিয়ে।