চাপের মুখে সেঞ্চুরির উচ্ছ্বাস উইয়ান মুল্ডারের
চাপের মুখে সেঞ্চুরির উচ্ছ্বাস উইয়ান মুল্ডারের

মুল্ডার–রিকেলটনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৮ রানের লক্ষ্য দিল দক্ষিণ আফ্রিকা

দক্ষিণ আফ্রিকা: ৩২৯ ও ৩৮৭। অস্ট্রেলিয়া: প্রথম ইনিংসে ৪২৯।

মাত্র ৪০ রানের লিড নিয়ে দিন শুরু করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। হাতে ছিল ৬ উইকেট। স্কোরবোর্ডে ৫০ রান যোগ করতে হারাতে হলো আরও ১ উইকেট।

টেল এন্ডারে ভরা শেষ ৫ উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকা আর কত দূরই–বা এগোবে—এমনটাই যখন আবহ, তখন অটল দাঁড়িয়ে গেলেন রায়ান রিকেলটন ও উইয়ান মুল্ডার। ৬ ও ৭ নম্বরে নামা দুই ব্যাটসম্যান দক্ষিণ আফ্রিকার লিডটা শুধু ১৫০–২০০–ই পার করাননি, চতুর্থ ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছেন।

রিকেলটনের ১০১ আর মুল্ডারের ১১৫ রানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৮ রানের লক্ষ্য দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আগামীকাল পঞ্চম ও শেষ দিনে শুধু কেপটাউন টেস্টের ফয়সালাই হবে না, নির্ধারণ হবে সমতায় থাকা সিরিজের ভাগ্যও।

রিকেলটন ও মুল্ডার মিলে ষষ্ঠ উইকেটে যোগ করেন ১৫৪ রান। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের প্রায় দুই সেশন ধরে হতাশ করেছেন দুজন। রিকেলটন ১০১ রান করে ফেরেন রানআউটে। তাঁর বিদায়ের পর অবশ্য আরেকটি ধাক্কা খেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৬ রানের মধ্যে ড্রেসিংরুমে ফেরেন তিন ব্যাটসম্যান।

তখনো অবশ্য ক্রিজে ছিলেন মুল্ডার। শেষ ব্যাটসম্যান কাগিসো রাবাদাকে নিয়ে দলকে টেনেছেন আরও অনেকটা পথ। রাবাদাকে যতটা সম্ভব স্ট্রাইক থেকে দূরে রেখে নিজেই রান তুলেছেন মুল্ডার।

শেষ উইকেটে দুজনের ৩৬ রানের জুটিতে ৩৩ রানই মুল্ডারের। শেষ পর্যন্ত প্যাট কামিন্সের বলে মিচেল স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে থামে তাঁর ২২১ বলের ১১৫ রানের ইনিংস। ১০টি চার ও ৪টি ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি দক্ষিণ আফ্রিকাকে এনে দিয়েছে ২৮৭ রানের লিড।

১০১ রানের ইনিংস খেলেন রায়ান রিকেলটন

টেস্ট ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ছয় বা তার নিচের পজিশনে নেমে একই ইনিংসে দুই ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরির ঘটনা এটি চতুর্থবার। এর আগে সর্বশেষ এমন কীর্তি ছিল ২০১৩ সালে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গেবেখায় করেছিলেন ফাফ ডু প্লেসি ও ডিন এলগার।

রান তাড়ায় অস্ট্রেলিয়ার সামনে এখন ২৮৮ রানের লক্ষ্য। কেপটাউনে এর চেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড অবশ্য আছে। ২০০২ সালে এই মাঠেই ৩৩১ রান তাড়া করে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া।

তবে এবার কাজটা সহজ হবে না। উইকেটে স্পিনারদের জন্য কিছুটা সহায়তা আছে। দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার কেশব মহারাজ ও সাইমন হারমাররা শেষ দিনে সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারেন কি না, সেটিই দেখার।