ম্যাচ জেতানোর পর রবীন্দ্র ও অ্যালেন
ম্যাচ জেতানোর পর রবীন্দ্র ও অ্যালেন

টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ

অ্যালেন, দেখলেন, জয় করলেন

তাই বলে এভাবে! দক্ষিণ আফ্রিকা কিছু রান কম করেছিল, তা সত্যি। কিন্তু নিউজিল্যান্ড রান তাড়ায় যা করল, সেটিকে ছেলেখেলা বললেও আসলে কম হয়ে যায়। কলকাতার ইডেন গার্ডেনে বিশ্বকাপের দুই ‘অভাগা’ দলের সেমিফাইনালটা কাল তাই হয়ে গেছে ভীষণ একপেশে।

কতটা? তা বুঝতে শেষের দৃশ্যটাই একবার চিন্তা করুন। ম্যাচটা কে জিতবে, সেই চিন্তা এতটাই আগে শেষ হয়ে গিয়েছিল যে ফিন অ্যালেনের সেঞ্চুরি হবে কি না, শেষ দৃশ্যে সেটাই হয়ে উঠেছিল বড় রোমাঞ্চ। শেষে যখন দলের জয়ের জন্য ১ রান দরকার, তখন অ্যালেনের সেঞ্চুরির জন্য দরকার ৪। অ্যালেনও বাউন্ডারি মেরেই পৌঁছেছেন তিন অঙ্কে।

সেঞ্চুরির পথে তাঁর যাত্রাটাই অবশ্য ছিল অবিশ্বাস্য এক পথ পাড়ি দিয়ে। ইনিংসের দশম ওভার শেষে জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডের দরকার ছিল ৪৬ রান। পরের ১৭ বলে যার ৪২–ই একা নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন অ্যালেন। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়ে ১৭০ রান তাড়া করা নিউজিল্যান্ডের ৯ উইকেটের জয়টা তিনি এনে দেন ১২.৫ ওভারেই। তাতে ২০২১ সালের পর আবারও টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল নিউজিল্যান্ড।

কিউইদের জয় অনেকটা নিশ্চিত করে দিয়েছিল অ্যালেনের সঙ্গে টিম সাইফার্টের উদ্বোধনী জুটিটাই। একের পর এক বাউন্ডারিতে পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারেই ৮৪ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউটেই এটি সর্বোচ্চ পাওয়ারপ্লের রান।

ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়ছেন অ্যালেন

২৮ বলে সেইফার্ট আর ফিন অ্যালেন ফিফটি পেয়ে যান ১৯ বলে। একসময় মনে হচ্ছিল, তাঁরা দুজনই বোধ হয় ম্যাচটা জিতিয়ে মাঠ ছাড়বেন। তবে তা হয়নি কাগিসো রাবাদার কারণে, ৩৩ বলে ৫৮ রান করা সাইফার্ট বোল্ড হয়ে যান তাঁর বলে। কিন্তু ম্যাচের তাতে আসে–যায় সামান্যই। আর কোনো উইকেট না হারিয়েই ম্যাচটা জিতে গেছে নিউজিল্যান্ড। ১১ বলে অপরাজিত ১৩ রান করে শেষ দিকে অ্যালেনকে সঙ্গ দিয়েছেন রাচিন রবীন্দ্র।

নিউজিল্যান্ডের জন্য কাজটা এতটা সহজ হবে, তা অবশ্য ভাবা যায়নি। সেমিফাইনাল পর্যন্ত এই বিশ্বকাপে একমাত্র অপরাজিত দল ছিল দক্ষিণ আফ্রিকাই। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা কাল কিছুতেই সুবিধা করতে পারেনি।

পাওয়ারপ্লেতে মাত্র ৪২ রান তোলে তারা ২ উইকেট হারিয়ে। ইনিংসের মাঝপথ পর্যন্ত পৌঁছাতে পৌঁছাতে ৭৭ রানে হারিয়ে ফেলে ৫ উইকেট। সেখান থেকে দলকে আরও বিপদে পড়তে দেননি আসলে ক্রিস্টিয়ান স্টাবস ও মার্কো ইয়ানসেন।

ষষ্ঠ উইকেটে দুজন মিলে ৪৭ বলে যোগ করেন ৭৩ রান। ষষ্ঠ বা তার নিচের কোনো জুটিতে এটিই এখন সর্বোচ্চ রানের জুটি দক্ষিণ আফ্রিকার। ২৪ বলে ২৯ রান করে আউট হয়ে যান স্টাবসও। তবে ইয়ানসেন প্রায় একা হাতেই দলকে টেনে নিয়ে যান ইনিংসের শেষ পর্যন্ত। জিমি নিশামের করা ১৮তম ওভারে ২২ রান তুলে দলের রান দেড় শ পার করে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩০ বলে ২ চার ও ৫ ছক্কায় ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন ইয়ানসেন।

টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সাত বা এর নিচে ব্যাটিংয়ে নেমে ফিফটি করার মাত্র দ্বিতীয় ঘটনা এটি। এর আগে একমাত্র কৃতিত্বটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার মাইক হাসির। ২০১০ সালের টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৪ বলে ৬০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।

ইয়ানসেনের লড়াইয়ের পরও দক্ষিণ আফ্রিকার রান একটু কম হয়েছিল বলে মনে হচ্ছিল তখনই। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার যে কাজটা এতই সহজ বানিয়ে ফেলবেন, কেইবা ভেবেছিল!