বিশ্বকাপের ম্যাচে ম্যাথুসকে ‘টাইমড আউট’ করার পরামর্শ নাজমুলই নাকি সাকিবকে দিয়েছিলেন
বিশ্বকাপের ম্যাচে ম্যাথুসকে ‘টাইমড আউট’ করার পরামর্শ নাজমুলই নাকি সাকিবকে দিয়েছিলেন

ম্যাথুসকে টাইমড আউট করার সেই বুদ্ধিটা সাকিবকে কি তাহলে নাজমুলই দিয়েছিলেন

ক্রিকেট ইতিহাসে সেটিই ছিল টাইমড আউটের প্রথম ঘটনা। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস এই আউট হয়ে হতবিহ্বলই হয়ে গিয়েছিলেন একরকম। দুনিয়াজুড়েই ওই টাইমড আউট আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল বেশ। ২০২৩ বিশ্বকাপে ম্যাথুস মাঠে নামতে দেরি হওয়ায় টাইমড আউটের আবেদন করেছিলেন তখন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

আম্পায়াররা তাঁকে আবার আবেদনটা বিবেচনা করার কথা বললেও সাকিব তা শোনেননি। পরে সংবাদ সম্মেলনে এসে সাকিব জানিয়েছিলেন, কোনো এক ক্রিকেটারই প্রথম তাঁকে এসে জানান, আবেদন করলে আউট হয়ে যাবেন ম্যাথুজ। কিন্তু ওই ক্রিকেটারের নামটা এত দিনেও কেউ বলেননি।

প্রথম আলোর প্রধান ক্রীড়া সম্পাদক উৎপল শুভ্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই ঘটনা নিয়ে জানতে চাওয়া হয় তখন দলের সহ–অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা নাজমুল হোসেনের কাছে। ওই বুদ্ধিটা কি আপনারই দেওয়া? প্রশ্নের উত্তরে মুখে একটা মুচকি হাসি রেখে তিনি বলেন, ‘কে বলেছে আপনাকে?’

পরে উৎপল শুভ্র নাজমুলকে জানান, তিনি যতটুকু জানেন, নাজমুলই এই বুদ্ধিটা দিয়েছিলেন। জাতীয় দলে এখনকার টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল অবশ্য তা স্বীকার করেননি। তবে টাইমড আউটের ওই ঘটনা কীভাবে ঘটেছিল, সেটির একটি বর্ণনা তিনি দিয়েছেন।

তা নাজমুলের মুখেই শুনুন, ‘যেকোনো একজন খেলোয়াড়ের হঠাৎই মনে হয়েছে, এখন দলের যে পরিস্থিতি, ম্যাচটা আমাদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে কোয়ালিফাই করার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচটা আমাদের জিততেই হতো। আমরা আমাদের সবদিক দিয়ে চেষ্টা করব ফেয়ার ওয়েতে। ওই পরিস্থিতিটা দেখে মনে হয়েছিল যে আমরা এ রকম সুযোগ নিতে পারি কি না। ওই ছেলেটা শুধু অধিনায়ককে বলল আরকি!’

অধিনায়ককে আবেদনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল? প্রশ্নের উত্তরে নাজমুল শুরুতে বলেন, ‘আমি আমি শুধু এটাই বলেছি যে…।’ তাঁকে থামিয়ে দিয়ে উৎপল শুভ্র বলেন, ‘আপনি না তো, ওই ছেলেটা।’

হেসে আবার ঘটনার বর্ণনা দিতে শুরু করেন নাজমুল, ‘ওই ছেলেটাই আরকি। আমি আমাকে দিয়ে উদাহরণ দিচ্ছি। ওই ছেলেটা শুধু এটাই বলল যে ভাই, এখন যদি আমরা আবেদন করি, তাহলে আউটের একটা সম্ভাবনা আছে, আপনি চেক করে দেখতে পারেন। অধিনায়ক বলল, তাই নাকি? বললাম, হ্যাঁ। সে সত্যি সত্যি চলে গেছে। ওই ছেলেটাও কিন্তু সিরিয়াস ছিল না প্রথমে। পরে যখন চলে গেছে, সত্যি নিবেন? বলল ১০০ পার্সেন্ট।’

সাকিবের আবেদনে ম্যাথুসকে টাইমড আউট দিয়েছিলেন আম্পায়ার এরাসমাস

এই ঘটনা নিয়ে পরে সমালোচনাও হয়েছে। কেউ কেউ এটাকে ক্রিকেটীয় চেতনাবিরোধী হিসেবেও দাবি করেছেন।

তবে নাজমুলের ভাবনাটা ভিন্ন, ‘এই যে রুলবুক লেখা হয়, এটা নিয়ম, এই হেনতেন, এত কিছু, কেন লেখা হয়? তারা তো অনেক চিন্তাভাবনা করেই লেখে, ফেয়ার দেখেই লেখে। এখন এর মধ্যে আবার মানে চেতনার কথা কেন? এটা কোত্থেকে এল? আউট তো আউটই। আমার কাছে মনে হয়, যদি সুযোগ থাকে, যদি এটা রুলবুকে থাকে, এটা যদি অন্যায্য কোনো কিছু না হয়, তাহলে কেন নয়?’