ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে থানায় তুলে নিয়ে যায় পুলিশ
ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে থানায় তুলে নিয়ে যায় পুলিশ

ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের ঘটনায় তদন্তের আহ্বান বিসিবির

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামে যান জাতীয় দলের স্পিনার নাঈম হাসান। বিমানবন্দর থেকে বাসায় যাওয়ার পথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব।

শনিবার সকালে এক বিবৃতিতে বিসিবি জানিয়েছে, নাঈম হাসানকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কয়েকজন সদস্য কর্তৃক হেনস্তা ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় সংস্থাটি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। অনাকাঙ্ক্ষিত ও অশোভন এই আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বোর্ড পুরো বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখছে।

এ ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিসিবি।

বোর্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিষয়টি জানার পর থেকে নাঈম হাসান ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে তাঁদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করা যায়। পাশাপাশি এই গুরুতর সমস্যার একটি সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে বোর্ড চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এর আগে আলাদা বিবৃতিতে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব নাঈমের ওপর পুলিশের শারীরিক নির্যাতন ও হয়রানির তীব্র নিন্দা জানায়। বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘আমরা চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কর্তৃপক্ষকে নাঈম হাসানের ওপর শারীরিক নির্যাতনে জড়িত প্রত্যেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

নাঈম হাসান

কোয়াবের বিবৃতিতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলা হয়, সাভারের বিকেএসপিতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ শেষে চট্টগ্রামের বাড়িতে ফেরার পথে লালখান বাজারের কাছে পুলিশ নাঈমকে থামায়।

শুরু থেকেই পুলিশ বৈরী আচরণ করে এবং নাঈম কথা বলার চেষ্টা করলে তাঁর গলা চেপে ধরে। জাতীয় ক্রিকেটার নাঈম হাসান বলে পরিচয় দেওয়া সত্ত্বেও তাঁকে পাইপ দিয়ে পেটানো হয়। এরপর নাঈমকে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেও তাঁর সঙ্গে আরও দুর্ব্যবহার করা হয়।

এ বিষয়ে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, এ ঘটনায় পুলিশের এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিনজনকে নগরের খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।