বলটা সীমানা ছুতেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন সঞ্জু স্যামসন। দুই হাত প্রসারিত করে তিনি তাকান আকাশের দিকে—ইডেনের গ্যালারি থেকে ভেসে আসা উচ্ছ্বাসের গর্জনের মধ্যেই স্রষ্টার কাছে কৃতজ্ঞতা জানান। ধারাভাষ্য কক্ষ থেকে রবি শাস্ত্রী তখন দারাজ কণ্ঠে বলছেন, ‘সঞ্জু স্পেশাল স্যামসন।’
আসলেই তো! বিশ্বকাপে টিকে থাকার ম্যাচে ১৯৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭, বিশেষ কিছু তো অবশ্যই। ১২ চার আর ৪ ছক্কায় সাজানো স্যামসনের এই ইনিংসে ভর করেই সুপার এইটের শেষ ম্যাচে কাল কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে ভারত। এ জয়ে নিশ্চিত হয়েছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মুম্বাইয়ে তাদের সেমিফাইনালে খেলাও।
আক্ষরিক অর্থেই কোয়ার্টার ফাইনাল হয়ে যাওয়া ম্যাচে আগে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ রান কম করেনি, ৪ উইকেটে ১৯৫। কিন্তু স্যামসনের ইনিংসে সেই রানটাই কী সহজে পেরিয়ে গেল ভারত! অভিষেক শর্মা ১১ বলে ১০, ঈষান কিষান ৬ বলে ১০ আর সূর্যকুমার যাদব যখন ১৬ বলে ১৮ রান করে আউট হলেন; কিছুক্ষণের জন্য মনে হয়েছিল, হয়তো খুব সহজ হবে না ভারতের জয়। কিন্তু একের পর এক বাউন্ডারি মেরে স্যামসন সেই সামান্য শঙ্কাও উড়িয়ে দিলেন।
রান তাড়ায় একবারই কিছুটা চাপে পড়েছিল ভারত। ১০ থেকে ১২ ওভার পর্যন্ত কোনো বাউন্ডারি মারতে পারেনি তারা। ওই ১৮ বল থেকে তারা করে মাত্র ১৩ রান। কিন্তু স্যামসন আর তিলক ভার্মা মিলে শামার জোসেফের করা ইনিংসের ১৩ নম্বর ওভারে ৪ চারে ১৭ রান নিয়ে আবার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন ম্যাচ। ২৬ বলে তিলকের সঙ্গে ৪৬ রানের ওই জুটিই ম্যাচটাকে ভারতের একেবারে হাতে নিয়ে আসে।
ভারতের হয়ে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে রান তাড়ায় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোরের রেকর্ডটা এত দিন ছিল বিরাট কোহলির। ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোহলি করেছিলেন ৮২ রান। কাল সেটাও ছাড়িয়ে গেছেন স্যামসন।
বোলিংয়ে খুব সাদামাটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ অবশ্য কাল ব্যাট হাতে ২০০ পেরোনোর আশাও জাগিয়েছিল। ক্যারিবীয়দের প্রথম উইকেট নেওয়ার জন্যই ভারতকে অপেক্ষা করতে হয় ইনিংসের নবম ওভার পর্যন্ত। নিজের প্রথম ওভার করতে এসে ৩৩ বলে ৩২ রান করা হোপকে বোল্ড করেন বরুণ চক্রবর্তী। ৬৮ রানের উদ্বোধনী জুটি ভেঙেও তেমন স্বস্তি পাচ্ছিল না ভারত।
কারণ, ততক্ষণে শুরু হয়ে গিয়েছিল শিমরন হেটমায়ারের ঝড়। এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৯ ছক্কার রেকর্ড গড়েন তিনি, ওয়েস্ট ইন্ডিজও গড়ে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৭০ (পরে তা হয়েছে ৭৬) ছক্কার রেকর্ড।
বুমরাকে তাই ফেরানো হয় ১২তম ওভারে। এক ওভারেই হেটমায়ারের পর চেজকেও (২৫ বলে ৪০) আউট করেন। একপর্যায়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ছিল ৪ উইকেটে ১১৯।
সেখান থেকে রোভম্যান পাওয়েল ও জেসন হোল্ডার মিলে ৩৫ বলে অবিচ্ছিন্ন ৭৬ রানের জুটি গড়েন। তবু তাদের রানটা ২০০ পেরোতে পারেনি ১৯তম ওভারে অর্শ্বদ্বীপ সিং মাত্র ৬ রান দেওয়ায়। অবশ্য স্যামসন কাল যে ছন্দে ছিলেন, তাতে ২০০ রানের বেশি করেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ জিততে পারত কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।