কাল ফিফটির পর রাজাউল্লাহ
কাল ফিফটির পর রাজাউল্লাহ

পাসপোর্ট নিয়ে ছড়ানো খবর ভুয়া, রাজাউল্লাহ নিজেই জানালেন

এতক্ষণে পাকিস্তানের রাজাউল্লাহকে নিশ্চয়ই আপনার চিনে যাওয়ার কথা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এজবাস্টন টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৩ বলে ৮১ রানের ঝড় তোলার পর তাঁর নামটি আর অচেনা থাকার কথা নয়। কিছুদিন ধরে মাঠের বাইরে এই রাজাউল্লাহর পাসপোর্ট নিয়ে একটি গল্প ছড়িয়েছিল।

ইংল্যান্ড সফরে সুযোগ পাওয়ার সময় তাঁর পাসপোর্ট ছিল না, এমন খবরই দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ফেসবুক, এক্স ও ইনস্টাগ্রাম থেকে গণমাধ্যম—সবখানেই দাবি করা হয়েছিল, শেষ মুহূর্তে পাসপোর্ট তৈরি করেই তাঁকে ইংল্যান্ডে পাঠানো হয়েছে।

কিন্তু এজবাস্টন টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে সেই গল্পেই পানি ঢেলে দিয়েছেন রাজাউল্লাহ। জানিয়েছেন, পাসপোর্ট নিয়ে ছড়ানো খবর পুরোপুরি ভুয়া। এক বছর আগেই পাসপোর্ট করেছিলেন তিনি।

কাল দিনের খেলা শেষে পাসপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই রাজাউল্লাহ বলেন, ‘পাসপোর্ট নিয়ে যে খবর বেরিয়েছে, সেটা ভুয়া। আমি এক বছর আগেই পাসপোর্ট করেছি।’

কাল ৯টি ছক্কা মেরেছেন রাজাউল্লাহ

এসব ছাপিয়ে অবশ্য রাজাউল্লাহর ব্যাটিং নিয়েই কথা হয়েছে বেশি। ৬৩ বলে ৮১ রান করে তিনি যখন কাল আউট হন পাকিস্তানের ড্রেসিংরুম তো বটেই, এজবাস্টনের গ্যালারিও উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়েছে তাঁর ব্যাটিংকে। রাজাউল্লাহর এই ইনিংসেই বড় বিপদ থেকে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কায় থাকা দলটি শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের সামনে চতুর্থ ইনিংসে লড়াই করার মতো লক্ষ্য দিতে পারে।

ব্যাটিংয়ের সময় পুরোটা সময়ই উপভোগ করেছেন রাজাউল্লাহ। পরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘মানুষ দাঁড়িয়ে আমার জন্য হাততালি দিচ্ছে, পুরো ব্যাপারটা আমি উপভোগ করেছি। আমি জীবন উপভোগ করতে পছন্দ করি এবং মুহূর্তটি উপভোগ করছিলাম।’

কালকের ইনিংসে ৯ নম্বরে নামলেও তিনি যে ব্যাটিংটা পারেন না, তা নয়। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও ওপেনার হিসেবে সেঞ্চুরি আছে রাজাউল্লাহর। এরপরও একে তো অভিষেক ম্যাচ, সঙ্গে এজবাস্টনে খেলা। চ্যালেঞ্জ ছিল ভিন্ন।

পাকিস্তানের বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের টানা পাঁচ ইনিংসে সমস্যায় ফেলেছিল ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণ। সেই আক্রমণের সামনে পড়েন রাজাউল্লাহও। জফরা আর্চার, গাস অ্যাটকিনসন ও জশ টাং তাঁকে নিয়মিত শর্ট বল করেন। এ ধরনের বলেই সফরজুড়ে ভুগেছেন বাবর আজমসহ পাকিস্তানের বেশির ভাগ ব্যাটসম্যান।

রাজাউল্লাহ অবশ্য শর্ট বলের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি কোন বলগুলোতে স্লগ করব, সে বিষয়ে বেছে নিচ্ছিলাম। তবে সব কটিই আমার নাগালের মধ্যে মনে হচ্ছিল। আমি যতটা সম্ভব টেনে লম্বা করতে চেয়েছিলাম। পেস নিয়ে আমি ভয় পাইনি। হার্ড লেংথে পড়া আর্চারের বলগুলো শাস্তি দিতে চেয়েছিলাম। দেশের হয়ে খেললে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি শুধু উপভোগ করছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার শর্ট বল সবচেয়ে পছন্দের। আমি শুধু নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম। আমি ভেবেছিলাম, যদি ৫০টি বল খেলতে পারি, তাহলে ইতিবাচক ফল পাব। আর সৌভাগ্যক্রমে সেটাই হয়েছে।’