কাবুলে বিমান হামলার ঘটনাস্থলে অপেক্ষমান অ্যাম্বুলেন্স
কাবুলে বিমান হামলার ঘটনাস্থলে অপেক্ষমান অ্যাম্বুলেন্স

ভারতের সহযোগিতা চাইলেন আফগান ক্রিকেটার

সোমবার রাতে কাবুলে পাকিস্তানি বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আফগানিস্তান বলেছে, হামলা হয়েছে মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনকেন্দ্রে। তবে পাকিস্তানের দাবি, তারা হামলা চালিয়েছে এমন এক প্রতিষ্ঠানে, যেখানে আত্মঘাতী হামলার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

কাবুলের এই হামলার নিন্দা জানিয়ে আফগান ক্রিকেটার আল্লাহ মোহাম্মদ গজনফর ভারতসহ অন্যান্য দেশের কাছে আফগানিস্তানের জন্য এগিয়ে আসার অনুরোধ করেছেন।

১৯ বছর বয়সী গজনফর এ বছর আপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসে খেলার কথা। কাবুলে মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনকেন্দ্রে হামলার বিষয়ে তিনি ভারতের নিউজ১৮–কে বলেন, ‘সেখানকার মানুষের চিকিৎসার জন্য টাকা নেই। আর এখন তারা (পাকিস্তান) সেই জায়গাটুকুও লক্ষ্যবস্তু করেছে; তারা ওই মানুষগুলোকে শহীদ করেছে। এটি আফগানিস্তানের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।’

আফগান কর্মকর্তারা এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও পাকিস্তান দাবি করেছে, এটি ছিল তাদের মাটিতে হামলার সঙ্গে জড়িত জঙ্গিঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একটি ‘সুনির্দিষ্ট অভিযান’। গজনফর আরও যোগ করেন, ‘আমি জানি না তারা কী প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। তারা এসে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যা কোনোভাবে মেনে নেওয়ার মতো নয়। সবাই আফগানিস্তানের ইতিহাস জানে। সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হলে তা পাকিস্তানের জন্য খুব খারাপ হবে।’

আফগান স্পিনার আল্লাহ মোহাম্মদ গজনফর

আফগানিস্তানের হয়ে ১৪ ওয়ানডে ও ৫ টি–টুয়েন্টি খেলা গজনফর তাঁর দেশের এই দুঃসময়ে ভারতের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন, ‘ভারত আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমরা এ বিষয়গুলো নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাই, যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। অন্যান্য দেশের কাছেও আমাদের একই অনুরোধ। এটি সাধারণ মানুষের জন্য ভালো নয়। বর্তমানে বিশ্ব অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এটি কারও জন্যই কল্যাণকর নয়।’

পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে বেসামরিক হতাহতের খবরে ‘গভীর শোক’ প্রকাশ করেছেন আফগানিস্তানের তারকা ক্রিকেটার রশিদ খানও। তিনি বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা ‘যুদ্ধাপরাধের শামিল’ বলে উল্লেখ করেছেন। আফগানিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ নবীও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই হামলার ক্ষয়ক্ষতিকে বিধ্বংসী বলে অভিহিত করেছেন।