গতি, আগ্রাসন আর বাউন্স।
এই তিনে মিলে যদি হয় নাহিদ রানা, তাহলে এর পুরোটাই আজ দেখেছে অস্ট্রেলিয়া। ৫ উইকেট পাননি। ১০ ওভারে ৪১ রান খরচায় উইকেট নিয়েছেন ৪টি। নাহিদ রানার ১২ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে চোখ বোলালে এর চেয়ে ভালো বোলিং ফিগার আরও পাবেন দুটো।
দুবার ৫ উইকেট পেয়েছেন এই ফাস্ট বোলার। এরপরও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে নাহিদ রানার ৪ উইকেট বিশেষ কিছুই।
কারণ? প্রতিপক্ষের নামটা যে অস্ট্রেলিয়া! হ্যাঁ, অস্ট্রেলিয়ার এই দলটার ব্যাটিং লাইনআপে ট্রাভিস হেড, মিচেল মার্শ নেই। এরপরও এটাকে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় সারির দল বলার সুযোগ নেই।
সর্বশেষ পাকিস্তান সিরিজেও অস্ট্রেলিয়া এই দল নিয়েই খেলেছে। এর আগে গত বছরের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজেও এই দলের অনেক ক্রিকেটার ছিলেন।
অ্যালেক্স ক্যারি, ম্যাট রেনশ, কুপার কনোলি, ম্যাথু শর্ট, জশ ইংলিস, মারনাস লাবুশেনরাই সেই অস্ট্রেলিয়া দলে ছিলেন। জাভিয়ের বার্টলেট, নাথান এলিস, অ্যাডাম জাম্পারাও ছিলেন সেই সিরিজের বোলিং বিভাগে।
প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউডরা এই সিরিজে আসেননি। তাঁরা অনেক দিন ধরে বেছে বেছেই খেলছেন। আবার বাংলাদেশ সিরিজে দলে যোগ হয়েছেন অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন। তাই এই অস্ট্রেলিয়াকে খাটো করে দেখা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়!
নাহিদ রানা আউট করেছেন অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দেওয়া ইংলিসকে। এই ওপেনার সর্বশেষ ২ ওয়ানডেতেই করেছেন ফিফটি। পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার আগে তিনি খেলে এসেছেন আইপিএলে।
সেখানে পাঞ্জাব কিংসের হয়ে ৫ ম্যাচে ফিফটি করেছেন ৩টিতে। নাহিদ রানা আউট করেছেন অ্যালেক্স ক্যারিকেও। অভিজ্ঞতা বিচারে ক্যারিকেই এই দলটার সেরা ব্যাটসম্যান বলা যায়। আউট করেছেন অভিষিক্ত লিয়াম স্কট আর পেসার বার্টলেটকে।
নাহিদ কখন উইকেট পেয়েছেন, সেটাও মাথায় রাখুন। ২ রানে অস্ট্রেলিয়া ২ উইকেট হারানোর পর কনোলিকে নিয়ে ৪৯ রানের জুটি গড়েছিলেন ইংলিস। এমন সময়ে ১৯ রান করে থিতু হওয়া ইংলিস আউট করেছেন প্রায় ঘণ্টায় ১৪৮ কিলোমিটার গতির একটি ডেলিভারিতে।
৯১ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর গ্রিনের সঙ্গে মিলে ৩৭ রানের জুটি গড়েছিলেন ক্যারি। নিজেও এগোচ্ছিলেন ফিফটির দিকে। এই সময়ে আবার বোলিংয়ে এসে ৪৭ রান করা ক্যারিকে আউট করেন নাহিদ রানা। বলটির গতি ছিল—ঘণ্টায় ১৪৬ কিলোমিটার। এরপর নাহিদ রানা পর পর দুই ওভারে দুই বাউন্সারে ফেরান স্কট ও বার্টলেটকে। দ্বিতীয় স্পেলে তো তাঁর টানা ৩ উইকেটই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দিয়েছে।
নাহিদ রানা বাড়তি কৃতিত্ব পাবেন আরও একটা কারণে। আজ তাঁর শুরুটা ভালো ছিল না। গতির ঝড় তুলছিলেন, তবে ঠিক জায়গাটা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। প্রথম স্পেলের ৪ ওভারে তিনি খরচ করেন ২১ রান। পরের ৬ ওভারে দেন ২০। এর মধ্যে বোলিং কোটার নবম ওভারেই দিয়েছেন ১১ রান। শুরুটা কিছুটা নড়বড়ে হলেও নাহিদ যে এভাবেও ফিরতে পারেন, সেটাই তিনি দেখালেন অস্ট্রেলিয়াকে।
নাহিদের গতির কথা আলাদা করেই বলতে হবে। শেষ ২ ওভারে তিনটি স্লোয়ার করেছেন। এ ছাড়া পুরো সময়টাতে শুধু গতির ঝড়ই তুলতে চেয়েছেন। দুবার ছাড়িয়েছেন ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের মাইলফলক। ৪ উইকেটের প্রতিটিই পেয়েছেন ঘণ্টায় কমপক্ষে ১৪৬ কিলোমিটার গতির ডেলিভারিতে।
সঙ্গে যোগ করুন আগ্রাসন। ইংলিসের সঙ্গে যেটা করেছেন, সেটা হয়তো বাংলাদেশ ক্রিকেটেই অভিনব এক ঘটনা। বাংলাদেশের এক ফাস্ট বোলার অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ককে আউট করে ওভাবে তেড়ে যাচ্ছেন—সেটা দেখাটাও অন্য রকম আনন্দের। নাহিদ কথা আর শরীরী ভাষা দিয়েও বিরক্ত করেছেন ব্যাটসম্যানদের।
ধারাবাহিকভাবে বাউন্সারে নিয়েছেন কঠিন পরীক্ষা। কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাঁরই লিটন দাসকেও। আগুনের গোলাগুলো ব্যাটসম্যানরা মিস করলে তো সরাসরি তাঁর গ্লাভসেই আঘাত করেছে।
বেচারা উইকেটকিপার...!