জয়ের পর মধ্যাঞ্চল দল
জয়ের পর মধ্যাঞ্চল দল

একপেশে ফাইনালে শিরোপা মধ্যাঞ্চলের

ফিফটি ছুঁয়ে গ্যালারির দিকে ব্যাট ঘুরিয়ে উদ্‌যাপন করলেন মোহাম্মদ নাঈম। তাঁর ব্যাটিং সঙ্গী সাইফ হাসান তখন পাশে দাঁড়িয়ে হাসছেন। গ্যালারিতে দর্শক নেই, সেটি নিয়েই নাঈমের সঙ্গে তাঁর খুনসুটি। নাঈমও চওড়া হাসি দিয়ে সাইফকে আঙুল তুলে দেখালেন গ্যালারির একটি অংশে কিছু দর্শক ঠিকই ছিলেন।

বগুড়া–রাজশাহীতে কিছু ম্যাচে গ্যালারি ভরে উঠলেও মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ বিসিএলের ফাইনাল হয়েছে অনেকটাই নীরব আবহে। উত্তরাঞ্চলের দেওয়া ২৩৯ রান তাড়া করতে নেমে ১২ ওভার বাকি থাকতে ৫ উইকেটের একপেশে জয় পেয়েছে মধ্যাঞ্চল। সাইফ–নাঈমের ১৪৪ রানের জুটিরই তাতে সবচেয়ে বেশি অবদান।

এ বছর সব মিলিয়ে ২২টি ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ দল। সামনে আছে র‍্যাঙ্কিংয়ে অন্তত সেরা ৯–এ থেকে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার চ্যালেঞ্জও। ওয়ানডে ক্রিকেটে লম্বা এই যাত্রার শুরুটা হচ্ছে ১১ মার্চ ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে।

সাইফ–নাঈম ১৪৪ রানের জুটি গড়েন

বিসিএলের ৫০ ওভারের আসরকে ওই সিরিজেরই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিয়েছে বিসিবি। প্রথম পর্বের ম্যাচগুলোতে রানও হয়েছে বেশ। দিবা–রাত্রির ম্যাচ প্রস্তুতির সুযোগ করে দিতে ফাইনাল হয়েছে মিরপুরে। তবে শিরোপা লড়াইয়ের ম্যাচটা সেভাবে জমেনি।

অসুস্থতার কারণে লিটন দাসকে ছাড়া খেলতে নামা উত্তরাঞ্চল টস হেরে আগে ব্যাট করে। ৯৬ রানের ইনিংসে সেঞ্চুরির সুবাস পাওয়া তাওহিদ হৃদয় ছাড়া আর কেউ ৫০ রানও করতে পারেননি। ইনিংসের ৩ বল বাকি থাকতে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়ে যান হৃদয়। ৯৮ বলের ইনিংসে তাঁর চার ৮টি ও ছক্কা ১টি।

৯৬ রানের ইনিংস খেলেন হৃদয়

কাল না পারলেও এই টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি ছিল হৃদয়ের। বাকি ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় আড়াই শ–ও পার করতে পারেনি উত্তরাঞ্চল। মধ্যাঞ্চলের রিপন নেন ৪ উইকেট। উত্তরাঞ্চলের দেওয়া রান তাড়া করতে তেমন বেগই পেতে হয়নি মধ্যাঞ্চলকে।

এর আগে নাঈম–সাইফের দ্বিতীয় উইকেটে গড়া বড় জুটিতে ম্যাচ মুঠোয় নিয়ে নেয় মধ্যাঞ্চল। দুজনই পান ফিফটি। অবশ্য এরপর আর বেশিদূর এগোয়নি তাঁদের ইনিংস। ৮৭ বলে ৭৮ রান করে নাঈম; আর ৭৮ বলে ৮৭ রানে আউট হয়ে যান সাইফ।

২৫ রান তুলতে ৩ উইকেট হারালেও মধ্যাঞ্চলের জয় তখন অনেকটাই নিশ্চিত। তানজিদের করা ৩৯তম ওভারের প্রথম বলটি হয় ওয়াইড, আর তাতেই বিসিএল ওয়ানডের পঞ্চম আসরে নিশ্চিত হয়ে যায় মধ্যাঞ্চলের দ্বিতীয় শিরোপা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

উত্তরাঞ্চল: ৪৯.৩ ওভারে ২৩৮ (হৃদয় ৯৬, নাজমুল ৩৫, সাব্বির রহমান ২৪; রিপন ৪/৪১, রাকিবুল ২/৩১, তাসকিন ৫৬/২) মধ্যাঞ্চল: ৩৮ ওভারে ২৩৯/৫ (সাইফ ৮৭, নাঈম ৭৮, মাহফিজুল ১৮*; নাহিদ ২/৬১)।