
মাঠে খেলোয়াড়েরা কতটুকু দৌড়ালেন, তা জানা যায় ‘জিপিএস’ এর মাধ্যমে। এই যুগে জিপিএস ব্যবহার করে না, এমন জাতীয় দল খুঁজে পাওয়া কঠিন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল এদের একটি!
‘খেলোয়াড়েরা মাঠে কেমন দৌড়াল?’
মাসখানেক আগে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) প্রশ্নটি করা হয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ জেমি ডেকে। শেখ জামালের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ মাত্র শেষ হয়েছে। ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছেড়েছে জাতীয় দল। শিষ্যদের পারফরম্যান্স দেখে ডের চোখে মুখে স্বস্তি। কিন্তু প্রশ্নের উত্তর ঠিক সংখ্যায় দিতে না পেরে কিছু অস্বস্তিতে ভুগছিলেন বাংলাদেশ কোচ। কারণ সঠিক তথ্য জানার যন্ত্র নেই। তাই চোখের দেখার ওপর ভরসা করেই বললেন, ‘ভালোই মনে হলো।’
মাঠে খেলোয়াড়েরা কতটুকু দৌড়ালেন, তা জানা যায় ‘জিপিএস’ এর মাধ্যমে। ছোট এ ডিভাইসটি খেলোয়াড়দের জার্সির নিচে আলাদা করে লাগানো থাকে। এই যুগে জিপিএস ব্যবহার করে না, এমন জাতীয় দল খুঁজে পাওয়া কঠিন। মাঠে খেলোয়াড়দের ‘ওয়ার্ক লোড’ জানার জন্য ভুটানের মতো দেশও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে। এমনকি মারুফুল হকের অধীনে শেষ মৌসুমে বাংলাদেশের ক্লাব আরামবাগ ক্রীড়া সংঘও ব্যবহার করেছে এই প্রযুক্তি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের তা নেই। এই যুগে জিপিএস না থাকাটা অবাক করার মতোই খবর।
প্রয়োজনীয়তা আছে বিধায় ইতিমধ্যে এএফসির কাছে জিপিএস চাওয়া হয়েছে বলে জানালেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ, ‘আমরা ইতিমধ্যে এএফসিকে চিঠি দিয়েছি জিপিএস এর ব্যাপারে। আশা করি অক্টোবর নভেম্বর নাগাদ পাওয়া যাবে।’
এশিয়ান গেমসে দুর্দান্ত খেলেছে বাংলাদেশে। শেষ ষোলোতে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৩-১ গোলে হেরে বিদায়ের আগে বাংলাদেশ হারিয়েছে কাতারকে ও ড্র করেছে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে। খুব সহজেই বলে দেওয়া হচ্ছে, খেলোয়াড়েরা শেষ পর্যন্ত দৌড়াতে পেরেছে বলেই সম্ভব হয়েছে এই ভালো ফলাফল। কিন্তু কে কতটুকু দৌড়াল, কার আরও বেশি দৌড়ানো উচিত ছিল, কে কম দৌড়েছে—সেটা জানতে হলে অবশ্যই জিপিএস প্রযুক্তি প্রয়োজন।
শেষ মৌসুমে আরামবাগের দলকে স্বাধীনতা কাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন মারুফুল হক। তিনি খেলোয়াড়দের প্রতিটি ম্যাচে ফিটনেসের মান যাচাই বাছাই করেই পরের ম্যাচের দিক নির্দেশনা দিতেন। কোনো কোনো ম্যাচে আরামবাগের ফুটবলাররা ইংলিশ ক্লাব টটেনহাম ও লিভারপুলের সমান প্রায় ১২ কিলোমিটারও দৌড়েছেন। আরামবাগ ক্লাব যদি পারফরম্যান্সের উন্নতির জন্য টাকা দিয়ে জিপিএস কিনতে পারে, বাফুফে কি এএফসির আশায় পড়ে না থেকে প্রাপ্ত অনুদান থেকে কিনতে পারে না?