
>দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রস্তুতি ক্যাম্প ও ইন্দোনেশিয়ায় গিয়েছিলেন ২৭ জন ফুটবলার। অথচ তাঁদের বাইরে থেকে আজ মাঠে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে গোলরক্ষক শহিদুল সোহেল, উইঙ্গার জুয়েল রানা ও স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজকে। এতে বিতর্ক শুরু হতেও দেরি হয়নি
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে কি ইচ্ছে করলেই খেলা যায়? নাকি চাইলেই একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নামিয়ে দেওয়া যায় যাকে ইচ্ছা তাকে? এমন প্রশ্ন না তুলে পারা যাচ্ছে না। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ১–০ গোলে হারের পর জাতীয় দলের খেলোয়াড় নির্বাচনপদ্ধতিই উসকে দিচ্ছে এমন প্রশ্ন।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশের জার্সিতে আজ এমন তিনজন ফুটবলার মাঠে নেমেছিলেন, যাঁরা কিনা দক্ষিণ কোরিয়া ও ইন্দোনেশিয়া সফর করা ২৭ জনের দলে ছিলেন না। সেই তিন ফুটবলার হলেন গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেল, স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবন ও উইঙ্গার জুয়েল রানা। প্রথম দুজন আগে থেকেই খেলছেন ঢাকা আবাহনী লিমিটেডে। জুয়েল নতুন এ মৌসুমেই ফিরতে যাচ্ছেন তাঁর পুরোনো আকাশি–নীল শিবিরে। দলের প্রস্তুতিতে হিসাবের বাইরে ছিলেন তাঁরা। হুট করে এই তিনজনের শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জাতীয় দলে ডাক পাওয়া নিয়ে তাই বিতর্ক ছিল। সেখানে তিনজন আজ মাঠেও নেমেছেন।
জুয়েল ও নাবীব শেষ ইন্দোনেশিয়া সফরের দলে থাকা থাকা তো দূরের কথা, ছিলেন না কাতার ও দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত কন্ডিশনিং ক্যাম্পেও। আর সোহেল শুধু ছিলেন জুলাইয়ে কাতার সফরে। তবুও আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাঁরা ছিলেন ভালোভাবেই। সোহেল তো পুরো ম্যাচই খেলেছেন, পুরো দ্বিতীয়ার্ধ খেলেছেন জুয়েল। আর দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে মাঠে নেমেছিলেন নাবীব। মাঠে তাঁদের পারফরম্যান্স এমন হুট করে ডেকে আনার সিদ্ধান্তকে বিতর্কে রূপ দিয়ে দিয়েছে।
ম্যাচের মীমাংসা করে দেওয়া গোল হজমের দায়টা কোনোভাবেই এড়াতে পারবেন না গোলরক্ষক সোহেল। মাঝমাঠ থেকে মোহাম্মদ ফজলের দূরপাল্লার শটে বলের লাইন মিস তো করেছেনই, পোস্ট ছেড়ে বেশি সামনে এসেও দাঁড়িয়েছিলেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক। বেশ কিছুদিন দলের বাইরে ম্যাচ প্র্যাকটিসের অভাব থাকায় পোস্টের নিচে দাঁড়ালে এমন ভুল হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। অথচ ডাগআউটে বসে ছিলেন অনূর্ধ্ব–২৩ দলের দুই গোলরক্ষক আনিসুর রহমান ও মাহফুজ হাসান প্রিতম।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফজলে রাব্বির পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় জুয়েলকে। আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার মতো ফিটনেস যে তাঁর নেই, সেটা শরীরী ভাষাতেই ফুটে উঠেছে। অহেতুক বারের ওপর দিয়ে বল মেরেও বুঝিয়ে দিয়েছেন, জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নেমে পড়া এত সহজ নয়। আর নাবীবকে তো শুধু মাঠে দেখা গিয়েছিল বদলি নামার সময়ে। এরপর কখনোই খেলা দিয়ে নিজেকে চেনাতে পারেননি। ডি বক্সের আশপাশে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করেছেন বটে, তবে সুবর্ণ সব সুযোগ চোখের (পা-মাথা পড়ে নিন) সামনে দিয়ে যেতে দিয়ে হতাশা বাড়িয়েছেন। অথচ মতিন মিয়ার মতো ফরোয়ার্ড তখনো সাইড বেঞ্চেই।
বাইরে থেকে এসে এই তিনজনের খেলাতেই যে দল হেরেছে, তা বলার সুযোগ নেই। কিন্তু দল নিয়ে খেলা জুয়াতে যে হেরে গিয়েছেন বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে, সেটা বলাই যায়। যার ফলটা এখন পড়তে পারে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। কাতারকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসের দ্বিতীয় রাউন্ড খেলার পর দেশের ফুটবলে একটা সুবাতাস বইছিল। আসন্ন সাফ ফুটবল নিয়ে আগ্রহ বাড়ছিল। কিন্তু টুর্নামেন্টের মাত্র পাঁচ দিন আগে প্রস্তুতি ম্যাচে আজকের হার এবং ইন্দোনেশিয়ায় দেখা যাওয়া সেই অদম্য মনোভাব দেখাতে না পারা যে ভয় পাইয়ে দিচ্ছে। ঘরপোড়া গরু যে সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ভয় পায়!