
>কাল পেরু-হল্যান্ড প্রীতি ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ওয়েসলি স্নেইডার। তাঁকে চমকপ্রদ বিদায়ী সংবর্ধনাই দিয়েছে হল্যান্ড
ম্যাচের তখন ৬২ মিনিট। বাঁশি বাজালেন রেফারি। ওয়েসলি স্নেইডারের জন্য তা শেষ বাঁশি। জাতীয় দলের জার্সি খুলে রাখার লগ্ন। করতালি দিয়ে তিনি হাঁটা শুরু করতেই ছুটে এলেন সতীর্থরা। তাঁদের ভালোবাসায় ভেজার এক ফাঁকে স্নেইডার নিজের জার্সিটা তুলে দেন মেম্ফিস দিপাইয়ের হাতে। এ যেন প্রজন্মের ব্যাটন হস্তান্তর। ইয়োহান ক্রুয়েফ অ্যারেনার গ্যালারিও ততক্ষণে উঠে দাঁড়িয়েছে। সেখান থেকে স্নেইডারের ওপর যেন নেমে এল করতালির বৃষ্টি!
হল্যান্ডের জার্সিতে সর্বোচ্চ ম্যাচ (১৩৪) খেলার রেকর্ড গড়া মিডফিল্ডারটি তাতে সিক্ত হয়ে শেষবারের মতো গেলেন টাচলাইন পেরিয়ে। গ্যালারি থেকে ভেজা চোখে তা দেখেছেন স্নেইডারের জীবনসঙ্গী ও ডাচ-স্প্যানিশ অভিনেত্রী ইয়োলান্থে স্নেইডার-কাবাও। কাল পেরু-হল্যান্ড প্রীতি ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন স্নেইডার। তবে স্নেইডার মাঠ ছাড়ার সঙ্গেই তাঁর বিদায় রাগিণী থেমে যায়নি। চমকের তখনো বাকি।
মেম্ফিস দেপাইয়ের জোড়া গোল পেরুকে ২-১ গোলে হারিয়ে স্নেইডারকে প্রাপ্য বিদায়ই উপহার দিয়েছে ডাচরা। কিন্তু চমক এটি নয়। সতীর্থরা স্নেইডারকে চমকে দিয়েছেন ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর। পরিকল্পনা সেরে রাখা হয়েছিল আগেই। ম্যাচ শেষে তা ফলানো হয় দারুণ মুনশিয়ানায়। মাঠের মাঝখানের অংশটা হঠাৎ করেই লিভিং রুম! আসলে সোফা, টেবিল, গাছের টব বসিয়ে একটা কামরার আদল দেওয়া হয়। আর একটা স্ক্রিন। এরপর কামরার অংশটুকুতে আলো জ্বালিয়ে ডাকা হয় স্নেইডার ও তাঁর পরিবারকে। স্ত্রী, সন্তানসহ স্নেইডারকে তাঁর অতীতে ফেরাতেই নাটকীয় এই আয়োজন করেছিল ডাচ ফুটবল ফেডারেশন।
ডাচদের জার্সি পরা স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে নিজের ক্যারিয়ারকে ফিরে দেখেছেন ৩৪ বছর বয়সী স্নেইডার। ২০০৩ সালে জাতীয় দলের হয়ে তাঁর অভিষেক ম্যাচ থেকে আয়াক্স, রিয়াল মাদ্রিদ, ইন্টার মিলানের হয়ে লিগ জয়, চ্যাম্পিয়নস লিগ আর ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনাল। ১৩৪ ম্যাচে ৩১ গোলের ক্যারিয়ার। কত স্মৃতি কত সুখ-দুঃখগাথা আর সতীর্থদের বিদায়ী শুভেচ্ছাবার্তা।
কাতারের ক্লাব আল-ঘারাফায় যোগ দেওয়া স্নেইডার এর মধ্যে দিয়ে শেষ করলেন তাঁর ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। বিদায়বেলায় তাঁর অনুভূতি, ‘মাঠে প্রতিটি সেকেন্ড উপভোগ করেছি। আমি জানি এখন সব শেষ।’