
ষাটের দশকের জনপ্রিয় ফুটবলার আরজু আর নেই। আজ সকালে চট্টগ্রামের হালিশহরে নিজ বাসায় বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগে মারা গেছেন জাতীয় ক্রীড়াপুরস্কার প্রাপ্ত এই ফুটবলার। ৮৯ বছর বয়সী সাবেক ফুটবলার আরজুর দাফন হবে আড়াইহাজারের দুপ্তারা গ্রামে।
পাকিস্তানি মাকরানি ফুটবলারদের দাপটে যে কজন বাঙালি ঢাকার মাঠে দাপট দেখিয়েছিলেন এদের অন্যতম আরজু। পুরো নাম ফজলুর রহমান আরজু। খেলতেন রাইট উইঙ্গার হিসেবে। ঢাকায় তাঁর ক্লাব ক্যারিয়ার শুরু ওয়ারী ক্লাবে’ ৫১-৫২ মৌসুমে। ওয়ারী ক্লাবের জার্সি গায়েই কলকাতায় যান আইএফএ শিল্ড খেলতে। এর কিছুদিন আগে তিনি তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান স্পোর্টস ফেডারেশন একাদশে সুযোগ পান আইএফএ একাদশের বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচে। এর বছরখানেক পরই আরজু নিয়মিত হয়ে যান পূর্ব পাকিস্তান দলে। শারীরিক গড়নের অজুহাত দেখিয়ে তাঁকে প্রথম দিকে পাকিস্তান জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়া হয়নি। পরে অবশ্য তিনি ঠিকই সুযোগ করে নিয়েছিলেন পাকিস্তান দলে। ১৯৫৩ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত খেলেছেন ওয়ান্ডারার্সে। ওই তিন বছর প্রথম বিভাগ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয় ওয়ান্ডারার্স। পরে ১৯৫৫ সালে পাকিস্তান জাতীয় দলে সুযোগ পান আরজু। ওই বছরই ঢাকায় অনুষ্ঠিত চারজাতি ফুটবলেও ছিলেন পাকিস্তান দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।
১৯৫৫ সালে ওয়ান্ডারার্স ছেড়ে যোগ দেন মোহামেডানে। সেখানে তাঁর অধিনায়কত্বে প্রথম বছর লিগ রানার্সআপ হয় সাদা-কালোরা। টানা তিন বছর মোহামেডানে খেলার পর ১৯৫৮ সালে অবসরে যান আরজু। খেলা ছেড়ে দেওয়ার পর তিনি খেলোয়াড় গড়ার কাজে মন দেন। অবসর নেওয়ার পর সেনাবাহিনী, নৌ বাহিনী, বিকেএসপি ও ফৌজদরহাট ক্যাডেট কলেজে ফুটবল প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন আরজু।