
>এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের মোট তিন গোলের দুটি এসেছে তরুণ মাহবুবুর রহমান সুফিল ও সাদ উদ্দিনের পা থেকে। অথচ সর্বশেষ মৌসুমে ক্লাবের হয়ে দুজনই খেলেছিলেন ডিফেন্ডার হিসেবে!
স্ট্রাইকারের অভাব বাংলাদেশের ফুটবলের পুরোনো রোগ। বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন ইংলিশ কোচ জেমি ডের চোখেও পড়েছে বিষয়টি। তাই জাতীয় দলের ক্যাম্পেই স্ট্রাইকার তৈরি করতে হয়েছে তাঁকে। ঘরোয়া লিগে রাইটব্যাক পজিশনে খেলা সাদ উদ্দিন ও মাহবুবুর রহমান সুফিলকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন পুরোপুরি ফরোয়ার্ড লাইনে। আর এশিয়ান গেমসে এই দুই তরুণও দিয়েছেন কোচের আস্থার প্রতিদান।
এশিয়াড ও সাফের ক্যাম্পের শুরুতে জাতীয় দলের মূল স্ট্রাইকার নাবিব নেওয়াজ জীবন ও তৌহিদুল আলম সবুজের চোট ছিল। বাকিদের অবস্থাও খুব একটা ভালো ছিল না। স্থানীয় সহকারী কোচ মাহবুব হোসেন রক্সি ও মাসুদ কায়সারের পরামর্শে আবাহনীর জার্সিতে রাইটব্যাক পজিশনে খেলা সাদ ও আরামবাগের সুফিলকে স্ট্রাইকার বানিয়ে দিলেন প্রধান কোচ জেমি। প্রথমে নম্বর নাইন হিসেবে জেমির পছন্দ ছিলেন সাদ। কিন্তু এশিয়াডে নম্বর নাইন হিসেবে খেলানো হয়েছে সুফিলকে আর সাদকে খেলানো হয়েছে লেফট উইঙ্গার পজিশনে। দুটো জুয়োতেই জিতেছেন ব্রিটিশ কোচ। এশিয়াডে বাংলাদেশের মোট তিন গোলের দুটিই এসেছে সুফিল ও সাদের পা থেকে।
গ্রুপ পর্বে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়েছিলেন সুফিল। কিন্তু শেষ দিকে গোল হজম করায় ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে। সাদ তাঁর গোল করার ক্ষমতা দেখিয়েছেন বিশ্বকাপ খেলুড়ে দেশ উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে। ৩-১ গোলে হারা ম্যাচে যোগ করা সময়ে ব্যবধান কমিয়েছেন আবাহনী লিমিটেডের এই ‘ডিফেন্ডার’। আর বাংলাদেশের অন্য গোলটি এসেছে কাতারের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ে, অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার পা থেকে।
ঘরোয়া ফুটবলে প্রায় সারা মৌসুম জুড়েই সুফিল-সাদরা প্রতিপক্ষ স্ট্রাইকারদের পাহারা দিয়েছেন, জাকার্তায় তাঁদের খেলা দেখে সেটা কখনোই মনে হয়নি। দুজনের গোলেই ছিল মুনশিয়ানার ছাপ। দুজন তো আগে ফরোয়ার্ড-ই ছিলেন। কিন্তু শেষ মৌসুমে ক্লাব কোচদের ট্যাকটিকসের কারণে তারা দুজনেই হয়ে ওঠেন ফুলব্যাক। সে পজিশনে দুর্দান্ত খেলেই জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়া।
এশিয়াডে সময়টা ভালোই গিয়েছে বাংলাদেশের। দারুণ একটি দল হয়ে উঠে দুর্দান্ত খেলেছে দলটি। তাই স্ট্রাইকার হয়ে ওঠা ‘ডিফেন্ডার’দের পায়েও দেখা গিয়েছে গোল। এবার ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকায় বাংলাদেশের জন্য আসল লড়াই সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ। দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ খ্যাত এই টুর্নামেন্টে সুফিল, সাদরা গোলের রাস্তায় থাকতে পারলেই স্বাগতিকদের মঙ্গল।