
ইউরোর ফাইনাল শেষের ওই দৃশ্যটা হয়তো কেউ কেউ দেখেছেন। সার বেঁধে একের পর এক আসছেন পর্তুগালের খেলোয়াড়েরা, মঞ্চের কাছাকাছি উৎসুক চোখে তাকিয়ে একজন চশমা পরা ‘বুড়ো’। তাঁকে দেখামাত্রই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো হাসতে হাসতে এগিয়ে এসে আলিঙ্গন করলেন। তিনি আর কেউ নন, স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। ফার্গির সঙ্গে রোনালদোর সেই ছবি পরে ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুক-টুইটারে। পর্তুগালের ২০১৬ ইউরো জয়ের পর ৭৪ বছর বয়সী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক কোচ বলে দিলেন, রোনালদো তাঁর প্রজন্মের ‘বিশেষ ফুটবলার’।
ফার্গুসন-রোনালদোর সম্পর্কটা যতটা না গুরু-শিষ্যের, তার চেয়েও বেশি যেন পিতা-পুত্রের। নিজের জীবনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক কোচের অবদান বরাবরই স্বীকার করেন রোনালদো। ফার্গুসনও রোনালদোকে নিয়ে কথা বলতে গেলেই তাঁকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন। ইউরো জেতার পর ফার্গির কাছ থেকে রোনালদোকে নিয়ে প্রশংসাপত্র বোধ হয় প্রত্যাশিতই ছিল, ‘ফুটবলের জন্য ওর ভালোবাসা অবিশ্বাস্য। সে অনুশীলনের প্রতিটি পর্বের জন্য অধীর অপেক্ষায় থাকে। সে সব সময় নিজের আরও উন্নতি করতে চায়, চায় জিততে। বিশেষ করে বড় ম্যাচে।’
ফার্গুসন ২০০৩ সালে ১৮ বছর বয়সী রোনালদোকে যখন ইউনাইটেডে নিয়ে আসেন, তখন তিনি সবেই খুঁজে পাওয়া এক টুকরো হীরকখণ্ড। আর হিরের টুকরোটিকে কেটে, পালিশ করে উজ্জ্বল করে তুলেছেন তিনিই। তারপর আপন আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন রোনালদো, ওল্ড ট্রাফোর্ডে ছড়িয়েছেন দ্যুতি। সাত বছর আগে ইউনাইটেড ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদে। বয়স এখন ৩১, কিন্তু এই বয়সেও রোনালদো আগের মতোই ক্ষুরধার। ফার্গুসন তাই এখনো রোনালদোকে নিয়ে মুগ্ধ, ‘সাধারণত একজন খেলোয়াড়ের ফর্মের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় পাঁচ বা ছয় বছর খেলে যেতে পারে। কিন্তু রোনালদো সেটা ১০ বছর ধরে করে যাচ্ছে। এটাই ওকে আলাদা করে দিচ্ছে। প্রতিটি প্রজন্মেই বিশেষ কেউ থাকে, এই প্রজন্মে যেমন রোনালদো।’ ফোরফোরটু।