
>বাংলাদেশ ভুটানের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় নিয়ে সাফ মিশন শুরু করেছে। জিতলেও ম্যাচে বেশ কয়েকটি দুর্বলতা ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের।
জয় সব সময়ই আনন্দ ও উৎসবের উপলক্ষ। ভুটানকে ২-০ গোলে হারিয়ে ঘরের মাঠে সাফ মিশন শুরু করে উৎসবের মেজাজেই আছে বাংলাদেশ। কিন্তু ৩২ মাস পর পাওয়া জয় বিশ্লেষণ করলে চোখে পড়ার মতো ভুল আছে বেশ কয়েকটি। সামনের ম্যাচগুলোতে যে ভুলগুলো শোধরাতে না পারলে ব্যর্থতা সঙ্গী হতে পারে বাংলাদেশের জন্য। সে ভুলই খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে এ প্রতিবেদনে।
গোলরক্ষক নির্বাচন
ভুটানের বিপক্ষে গোলপোস্টের নিচে দাঁড়াবেন আশরাফুল রানা, বিষয়টা অনুমিতই ছিল। এশিয়ান গেমসে রানার দুর্দান্ত পারফরমেন্স ও বাকি গোলরক্ষকদের ব্যর্থতায় এগিয়ে রেখেছিল রানাকে। কিন্তু রানা নয় একাদশে আবাহনী লিমিটেডের গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেল। এ সিদ্ধান্তে অবাক হননি এমন ব্যক্তি ফুটবল সমর্থক কিংবা বোদ্ধাদের মধ্যে খুঁজে পাওয়া কঠিন।
নীলফামারীতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রতি ম্যাচে সোহেলের ভুলের খেসারতেই ১-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। ভুল করার সুযোগটা করে দেওয়াটাই তো ছিল বড় ভুল! চোটের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া ও ইন্দোনেশিয়া সফরে জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন। তবু সোহেলকে দাঁড় করে দেওয়া হলো বাংলাদেশের পোস্টে। অনুশীলনের বাইরে থাকায় করলেন বড় ভুলও। প্রীতি ম্যাচের আড়ালে সে ভুলটা আড়াল হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সাফের মতো বড় আসরে আবারও একাদশে সোহেল। গতকালের ম্যাচেও বেশ কয়েকবার এরিয়াল বলে ফ্লাইট মিস করে প্রমাণ করে দিয়েছেন, এখনো ম্যাচ ফিট নন সোহেল। ফলে গোলরক্ষক নির্বাচন নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। অনেকের ইঙ্গিত, আবাহনী লিমিটেডে খেলেন বলেই ভুল করা সত্ত্বেও বারবার এমন সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
ডাইরেক্ট ফুটবল
সন্দেহ নেই জয়ের আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন গ্যালারির দর্শক। কিন্তু কারও চোখে মুখে ছিল না ভালো খেলা দেখতে পারার তৃপ্তি। গোছানো ফুটবল বলে যে একটা বিষয় আছে, তা ছিল না। জয়ের আনন্দের মাঝে তাই রয়ে গেছে এই অতৃপ্তি। বিল্ডআপ না খেলে নিচ থেকে লম্বা এরিয়াল পাসেই বেশি খেলার চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশ। যাকে বলা যায় ‘ডাইরেক্ট ফুটবল’ এর অপভ্রংশ। এ জন্য প্রয়োজন লম্বা ও শক্তিশালী ফরোয়ার্ড। বাংলাদেশ দলে এ রকম ফুটবলার না থাকায় কৌশলটা কাজে লাগেনি। বরং দ্রুত সরাসরি আক্রমণে গিয়ে বল হারানোতে প্রতিপক্ষের জন্য খেলাটা সহজ হয়ে গিয়েছে।
পরবর্তী ম্যাচের চিন্তা না থাকা
দুর্দান্ত ভলিতে বাংলাদেশকে ২-০ গোলের লিড এনে দিয়েছেন মাহবুবুর রহমান সুফিল। গোল করা ছাড়াও পুরো ম্যাচ জুড়ে কঠোর পরিশ্রম করে গিয়েছেন বাংলাদেশ দলের এই নম্বর নাইন। কিন্তু ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরেও তাকে কেন বদলি করা হলো না? সে প্রশ্নটা উঠেই যাচ্ছে। যেহেতু এক দিন পর পর ম্যাচ, গুরুত্বপূর্ণ এ খেলোয়াড়কে পরবর্তী ম্যাচের আগে ফুরফুরে রাখাটাও জরুরি।
গতকাল ৫৫ মিনিটের পরেই সুফিলকে বেশ ক্লান্ত লাগছিল। তাঁর উদ্দেশে নিচ থেকে বারবার এরিয়াল থ্রু খেলার সুবাদে প্রায় ৩০-৪০ গজ সর্বোচ্চ গতিতে ছুটতে হয়েছে বারবার। ফলে ক্লান্তি আসাটাই স্বাভাবিক। পাকিস্তানের বিপক্ষে আগামীকাল সুফিলকে তরতাজা পাওয়াটা দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এ তিনটি দিকে নজর দিতে হবে দলকে। খেলোয়াড়দের শক্তিমত্তা অনুযায়ী খেলা, দলের সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে একাদশ গড়া এবং অবশ্যই ব্যস্ত সূচির এ টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ সময়ের জন্য সেরা খেলোয়াড়টিকে আগলে রাখার দিকে নজর দেওয়াটা জরুরি কোচের জন্য।