বার্সা সতীর্থ নন, রাকিতিচের চোখে বিশ্ব সেরা এখন মদরিচ

২০১৮ সালের সব ব্যক্তিগত পুরস্কারেই এগিয়ে আছেন মদরিচ। ছবি: এএফপি
২০১৮ সালের সব ব্যক্তিগত পুরস্কারেই এগিয়ে আছেন মদরিচ। ছবি: এএফপি

রোনালদো না মেসি, সেরা কে? এ প্রশ্নে স্বভাবতই দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে গোটা ফুটবল। কে কোন উত্তর দেয় সেটা জানার আগ্রহ থাকে সবার। তবে উত্তরদাতা যদি দুটি নির্দিষ্ট ক্লাবের সদস্য হয়ে থাকেন, তাহলে আগ্রহটা আর থাকত না। গত মৌসুম পর্যন্তও রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের উত্তর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আর বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের উত্তর লিওনেল মেসি।

এ মৌসুমেই রিয়াল ছেড়ে চলে গেছেন। ফলে বিশ্ব সেরা খেলোয়াড়ের প্রশ্নে লস ব্লাঙ্কোদের বাধাধরা উত্তর এখন আর নাও শোনা যেতে পারে। কিন্তু মেসি বহাল তবিয়তেই বার্সেলোনায় আছেন। তাই কাতালানদের মুখে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের নাম বদলানোর কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু বার্সেলোনারই এক খেলোয়াড় বলছেন, মেসি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় নন। সে মুকুট এখন রিয়াল মাদ্রিদের লুকা মদরিচের!

অবিশ্বাস্য এক বিশ্বকাপ কাটিয়েছেন মদরিচ। এই মিডফিল্ডারের জাদু আর ইভান রাকিতিচের ইস্পাতসম নার্ভে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলছে ক্রোয়েশিয়া। বিশ্বকাপ শেষে দুজন ফিরেছেন যাঁর যাঁর ক্লাবে, প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল ও বার্সায়। কিন্তু জাতীয় দলের সতীর্থের প্রতি মুগ্ধতা এখনো কাটেনি। বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতা মদরিচ যে এখন বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় সেটা আরও একবার সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছেন।

‘লুকাই এখন লা লিগার সবচেয়ে বড় নাম। এ বছর বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় সে এবং আমরা ক্রোয়াটরা ওকে নিয়ে গর্বিত।’ নভি লিস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাকিতিচ আরও বলেন, ‘ওর একটা পুরস্কারই জেতা বাকি (ব্যালন ডি’অর)। আমি আশা করি ওর এটা অবশ্যই প্রাপ্য।’ ২০১৭/১৮ মৌসুমে উয়েফার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন মদরিচ। সাবেক সতীর্থ রোনালদোকে টপকে সেরা হয়েছেন এই মিডফিল্ডার। এ নিয়ে রোনালদো সরাসরি কিছু না বললেও তাঁর এজেন্ট হোর্হে মেন্ডেজ অনেক কিছুই শুনিয়েছেন। মেসিও উয়েফার সেরা চারে জায়গা পাননি।

উয়েফার পর ফিফা দ্য বেস্টেও মোহাম্মদ সালাহ, মদরিচ ও রোনালদো সেরা তিনে জায়গা করে নিয়েছেন। এ ক্ষেত্রেও মেসির বাদ পড়া নিয়ে সমালোচনা হয়েছে অনেক। রাকিতিচ এসব সমালোচনাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন এক লহমায়, ‘ওরা (সমালোচক) আসলে লুকাকে ঈর্ষা করে। ওদের ওই ঈর্ষার আগুনেই মরতে দিন। আমি ওকে নিয়ে গর্বিত এবং এতটাই খুশি যে মনে হচ্ছে আমিই এ পুরস্কার জিতছি।’

এভাবে মদরিচ মুগ্ধতা মানে কিন্তু নিজের ক্লাবের কথা ভুলে যাচ্ছেন না রাকিতিচ। বার্সেলোনাকে ভালোবেসেই যে বেতন বহু গুনে বাড়ানোর সুযোগ পেয়ে যাননি অন্য কোথাও। পিএসজি কিংবা অন্য ক্লাবে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও শুধুমাত্র বার্সেলোনার টানেই যাননি কোথাও, ‘বার্সেলোনা থেকে আমার চলে যাওয়ার গুঞ্জন শুনেছি অনেক। কিছু প্রস্তাবও ছিল। বেশ কিছু বড় ক্লাব চেয়েছে আমাকে। কিন্তু আমি স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি আমি এখানেই সুখী এবং এত বড় ক্লাবের অংশ হতে পেরে গর্বিত। বেশ কিছুদিন ধরেই বার্সেলোনায় দারুণ এক গল্পের অংশ হয়ে আছি এবং এখনো যাওয়ার সময় হয়নি। আর বার্সেলোনা ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কখনো কারও জন্য সহজ মনে হয়েছে?’