>

বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিকের সংখ্যা ৫১। হ্যাটট্রিকের কয়েকটি মজার ঘটনা নিয়ে আজকের এই লেখা
বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক—অবশ্যই দারুণ কিছু। বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশের জার্সিতে হ্যাটট্রিক একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে যায় অন্য উচ্চতায়। ইতিহাসের পাতায় তুলে দেয় তাঁর নাম। স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ইতিহাসে ৫১তম হ্যাটট্রিকটি করে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো নিজেকে অমর করে ফেলেছেন।
প্রথম আসরেই কিন্তু হ্যাটট্রিক দেখেছিল বিশ্বকাপ। ১৯৩০ সালের উরুগুয়ে বিশ্বকাপে প্রথম ‘হ্যাটট্রিকম্যান’ হয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বার্ট পেনাডোট। সেবারই আর্জেন্টিনার গুইলের্মো স্তাবিল হ্যাটট্রিক পেয়েছিলেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সেটি ছিল তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। বিশ্বকাপের মতো আসরে দুটি করে হ্যাটট্রিকের রেকর্ড আছে চারজনের—সান্দোর ককসিচ, জাস্ট ফন্টেইন, জার্ড মুলার ও গাব্রিয়েল বাতিস্তুতা। রোনালদোর কীর্তির রেশ ধরেই বিশ্বকাপের আসরে হ্যাটট্রিকের কয়েকটি মজার গল্প জেনে নেওয়া যাক...
চার গোল করেও হার
আর্নেস্ত ইউলিমোস্কির রেকর্ডটা একটু হতাশারই। বিশ্বকাপে চার গোল করেও পরাজিতের দলে ছিলেন তিনি। পোল্যান্ডের ইউলিমোস্কি সেই চার গোলসহ হ্যাটট্রিকটি করেছিলেন ১৯৩৮ বিশ্বকাপে—ব্রাজিলের বিপক্ষে। এই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন ব্রাজিলের লিওনিদাসও। ব্রাজিল জিতেছিল ৬-৫ গোলে। বিশ্বকাপে দুই দলের খেলোয়াড়ের হ্যাটট্রিকের এটাই একমাত্র ঘটনা। হ্যাটট্রিক করেও বিশ্বকাপে হারতে হয়েছে সোভিয়েত ইউনিয়নের ইগর বেলানভ ও সুইজারল্যান্ডের জোসেফ হাজিকে। বেলানভের ঘটনাটি ১৯৮৬ আর হাজিরটা ১৯৫৪ সালের।
হ্যাটট্রিক চেনাল পেলেকে
১৯৫৮ বিশ্বকাপের আগে পেলের নাম হয়তো সেভাবে সবাই জানত না। তবে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে গিয়েই কাপ নিয়ে ফিরেছিলেন তিনি। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। সেই ম্যাচেই নিজের সেরাটা দেখালেন পেলে। হ্যাটট্রিকই করে ফেললেন তিনি। প্রথম গোলটি ছিল গোলরক্ষকের হাত থেকে ছুটে যাওয়া বলে পা লাগিয়ে। দ্বিতীয় গোলে বিপক্ষের ডিফেন্ডারের পায়ে বল থাকলেও তা কেড়ে নিয়ে জালে জড়িয়ে দেন পেলে। তৃতীয় গোলে সতীর্থের কাছ থেকে পাস পেয়ে হাঁটু দিয়ে বল হালকা ওপরে তুলে ভলি। ব্যস, সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সে হ্যাটট্রিকটি করে ফেলেন পেলে।
একাই পাঁচ গোল
বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম পাঁচ গোল করার রেকর্ড আছে একজনেরই। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে রাশিয়া ৬-১ গোলে হারিয়েছিল ক্যামেরুনকে। সে ম্যাচে পাঁচ গোল করেছিলেন ওলেগ সালেঙ্কো। একটি গোল ছিল পেনাল্টি থেকে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সেই ম্যাচের আগে কেউই সালেঙ্কোর নাম জানত না। পরেও এই রুশ ফুটবলারকে খুব বেশি দেখা যায়নি আন্তর্জাতিক ফুটবলে।
‘নিষিদ্ধ’ ফুটবলারের হ্যাটট্রিক
১৯৮২ সালের বিশ্বকাপের বিস্ময় পাওলো রসি। ইতালির এই ফুটবলার সেবার সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছিলেন। অথচ, ১৯৮০ সালে ইতালির ঘরোয়া ফুটবলে ম্যাচ পাতানোর ঘটনায় তিন মৌসুমের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন রসি। পরে অবশ্য নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পেরেছিলেন তিনি। ১৯৮২-র বিশ্বকাপ দলে তাঁকে রাখা হয়েছিল গণমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা উপেক্ষা করে। প্রথম তিন ম্যাচে তিনি ছিলেন একেবারেই নিষ্প্রভ। রসিকে নিয়ে সমালোচনা যখন তীব্রতর হচ্ছে, ঠিক তখনই জ্বলে ওঠেন তিনি। ৬ গোল করে ইতালির বিশ্বকাপ জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। হ্যাটট্রিক করেন সেই আসরের সেরা দল হিসেবে ধরে নেওয়া দল ব্রাজিলের বিপক্ষে। বাঁ পাশ থেকে বাড়ানো ক্রসে মাথা ছুঁয়ে পাঁচ মিনিটেই দলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন রসি। অন্যদিকে দ্বিতীয় গোলে ডিফেন্ডারের পাস কেড়ে নিয়ে ডিবক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট জড়িয়ে দেন জালে। আর তৃতীয় গোল ছিল পুরোপুরি সুযোগসন্ধানী। জটলার মাঝে থেকে বল পেয়ে গোল করে বসেন রসি।
‘বিতর্কিত’ হ্যাটট্রিক
বিশ্বকাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিক! ইংলিশ তারকা জিওফ হার্স্টের নাম ইতিহাসে অমর হয়ে আছে শিরোপা-নির্ধারণী ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে। ১৮ মিনিটে অধিনায়ক ববি মুরের ফ্রিকিক থেকে আসা বলে মাথা লাগিয়ে প্রথম গোলটি করেছিলেন হার্স্ট। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি ড্র ছিল ২-২ গোলে। ইংল্যান্ডের পক্ষে অন্য গোলটি মার্টিন পিটার্সের। ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে হার্স্ট আবার গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন। এই গোল কিন্তু ইতিহাসে বিতর্কিত এক গোল হিসেবেই পরিচিত। ১০১ মিনিটে অ্যালান বেলের নিচু ক্রসে হার্স্ট শট নেন, তবে তা বারে লেগে নিচে ড্রপ খায়। ইংল্যান্ড গোল দাবি করলেও জার্মানদের দাবি ছিল, সেটি গোল লাইন পার করেনি। পরে লাইন্সম্যান গোলের ঘোষণা দেন। শেষ মিনিটে ডিফেন্স থেকে বাড়ানো বলে একা দৌড়ে নিয়ে কোনাকুনি শটে পরাজিত করেন গোলকিপারকে। ইতিহাসে স্থান করে নেন হার্স্ট।