
তাহলে এত দিন যা বলেছেন সেপ ব্ল্যাটার, সবই মিথ্যা! অর্থের বিনিময়ে রাশিয়া ও কাতার বিশ্বকাপের স্বাগতিক হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, সেটা বরাবরই অস্বীকার করে এসেছেন নিষিদ্ধ থাকা ফিফা সভাপতি। কিন্তু এবার যে তিনিই বোমা ফাটালেন! নিজের মুখেই স্বীকার করলেন, ২০১৮ বিশ্বকাপ যে রাশিয়াকে দেওয়া হবে, সেটা ভোটের আগেই ঠিক করা ছিল! তাঁর দাবি, ২০২২ বিশ্বকাপ কাতারে নয়, হওয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রে।
ঘুষ দিয়ে রাশিয়া ও কাতার বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে অনেক আগেই। যার জের ধরে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে এসেছে। টান পড়েছে ফিফা-দুর্নীতির শিকড়ে! একের পর এক থলের বিড়াল বেরিয়ে আসায় এখন তো ফিফা সভাপতি ব্ল্যাটার, উয়েফা সভাপতি মিশেল প্লাতিনিসহ আরও অনেক রাঘববোয়াল নিষিদ্ধ হয়ে আছেন ফুটবলের কার্যক্রম থেকে। ব্ল্যাটার বা প্লাতিনির কেউই অবশ্য এর আগে স্বীকার করেননি ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের স্বাগতিক বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির কথা। তবে রুশ বার্তা সংস্থা ইতার তাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাল বোমাই ফাটিয়েছেন ব্ল্যাটার। এ দুটি বিশ্বকাপের স্বাগতিক বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ক্ষমতার বাইরে থাকা ফিফাপ্রধান বলেছেন, ‘২০১০ সালে আমরা বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনায় বসেছিলাম এবং তখন দুটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা ঠিক করেছিলাম, ২০১৮ বিশ্বকাপ হবে রাশিয়ায় আর ২০২২ বিশ্বকাপ হবে যুক্তরাষ্ট্রে। তাহলেই আমরা দুটি পরাশক্তি দেশে দুটি বিশ্বকাপ দেখতে পাব।’
ভোটের আগেই স্বাগতিক দেশ ঠিক করে রাখার ব্যাপারটা তো ব্ল্যাটারের এই বক্তব্যেই পরিষ্কার। ২০১৮ বিশ্বকাপ শেষ পর্যন্ত রাশিয়াই পেয়েছে। কিন্তু ২০২২ বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রের বদলে চলে গেছে কাতারে। সেটা কীভাবে? ব্ল্যাটার ব্যাখ্যা করেছেন, ‘সবকিছু ঠিকঠাকই এগোচ্ছিল। কিন্তু ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট (সাবেক) সারকোজি আর কাতারের যুবরাজ, যিনি এখন দেশটির আমিরও, তাঁরা একটা বৈঠকে আসার পর সব বদলে গেল। এই দুজনের সঙ্গে মিশেল প্লাতিনির একটা বৈঠক হলো। সেই বৈঠকের পরই প্লাতিনি বললেন, যুক্তরাষ্ট্রের বদলে কাতারকে ২০২২ বিশ্বকাপ দিলে ভালো হবে।’
ব্ল্যাটারের দাবি, প্লাতিনির কথাই নাকি প্রতিফলিত হয়েছে বিশ্বকাপের স্বাগতিক বেছে নেওয়ার নির্বাচনে। ইউরোপের চারটি ভোট, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পাওয়ার কথা ছিল, সেগুলো পেয়ে যায় কাতার। যে ভোটাভুটিতে কাতার যুক্তরাষ্ট্রকে ১৪-৮ ব্যবধানে হারিয়েছে, তাতে আসলে যুক্তরাষ্ট্রের জেতার কথা ছিল ১২-১০ ব্যবধানে!
আর এসবের জন্য প্লাতিনিকেই সবচেয়ে বেশি দায়ী করেছেন ব্ল্যাটার, ‘প্লাতিনি ফিফা সভাপতি হতে চেয়েছিল। কিন্তু ওর নির্বাচনে দাঁড়ানোর মতো সাহস ছিল না। উয়েফাও আমাকে ফিফার সভাপতি হিসেবে আর রাখতে চায়নি। কিন্তু তারা কিছু করতে পারেনি। আমি ঠিকই পুনর্নির্বাচিত হয়েছি।’
অথচ এই ব্ল্যাটার আর প্লাতিনি একসময় বন্ধু ছিলেন! সেটা এমনকি কয়েক মাস আগেও নিজের মুখেই বলেছেন সেপ ব্ল্যাটার। কিন্তু ফিফা কেলেঙ্কারির বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আসার পরই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। এখন দুজনের রেষারেষি কোন পর্যায়ে গেছে সেটা বোঝা যাবে ব্ল্যাটারের কথাতেই, ‘শুরুতে এটা ছিল শুধুই ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, আমার বিরুদ্ধে প্লাতিনি। কিন্তু এরপর এটা আমার আর প্লাতিনির মধ্যে থাকেনি।’
ব্ল্যাটারের দাবি, ‘এর পেছনে বিশ্বকাপের স্বাগতিক হতে না পারা দেশগুলোরও হাত আছে। ২০১৮ বিশ্বকাপের স্বাগতিক হতে না পারা ইংল্যান্ড গেল রাশিয়ার বিরুদ্ধে, আর যুক্তরাষ্ট্র হলো কাতারবিরোধী। পরাশক্তিদের এই খেলায় বিশ্বকাপ আর ফিফা সভাপতি শুধুই একটা বল।’
এত কিছু করে অবশ্য শেষ পর্যন্ত ক্ষতিটা প্লাতিনিরই হয়েছে বলে মনে করেন ব্ল্যাটার, ‘দেখুন না আমরা এখন কোথায় আছি! দিন শেষে প্লাতিনি নিজেই তো এসবের শিকার হলো!’ এএফপি, স্কাই নিউজ।