
রেলিগেশনের খাঁড়া কাটিয়ে এ বছর আবার শীর্ষ লিগে ফিরেছে, এমন একটা দল আর কী পরীক্ষা নেবে? বার্সেলোনা তখনো জানত না, রিয়াল ভ্যায়াদোলিদ নয়, তাদের পরীক্ষা নেবে এস্তাদিও হোসে জরিল্লা। ভ্যায়াদোলিদের মাঠ জরিল্লা যেন মুখোশের আড়ালে থাকা গেরিলা হয়ে উঠেছিল। এই মাঠে খেলতে অসুবিধা হচ্ছিল খোদ স্বাগতিকদেরই। রীতিমতো মাইনফিল্ড হয়ে ওঠা সেই মাঠে বার্সেলোনা কাল জিতেছে ১-০ গোলে। একমাত্র গোলটি ওউসমানে দেম্বেলের, গত মৌসুমের হতাশা মুছে দারুণ শুরু করেছেন এই তরুণ।
কাল আসলে সব মিলিয়ে বল জালে ঢুকেছিল তিনবার। তিনবারই ডাকতে হয়েছে অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভারকে। এর মধ্যে ভারের সিদ্ধান্তে গোল বাতিল হয়েছে দুটি। তবে তাতে ভ্যায়াদোলিদের মুখই ভার। বার্সেলোনার সঙ্গে সমানে টক্কর দিয়েও ৫৭ মিনিটে গোল হজম করে বসে তারা। শেষ কয় মিনিটে মরিয়া লড়াই করে যোগ করা সময়ে গোল শোধও করে দেয়।
জেরার্ড পিকের জোরালো আবেদনে সাড়া দিয়ে রেফারি ভিডিও সাহায্য চান। ততক্ষণে এমন নাটকীয় গোল, প্রতিপক্ষ বার্সেলোনা বলে হয়তো জামা খুলে গ্যালারিতে গিয়ে উন্মত্ত নাচে মেতেছেন গোলদাতা কেকো। কিন্তু আবার জার্সি পরে ফেলতে হয় তাঁকে। সামান্য ব্যবধানে যে অফসাইড ছিলেন তিনি।
ভ্যায়াদোলিদ |
| বার্সেলোনা |
৭ | শট | ১০ |
৪ | লক্ষ্যে শট | ৫ |
৩৬% | বল দখল | ৬৪% |
৩২৩ | পাস | ৫৯০ |
৭৫% | নির্ভুল পাস | ৮৫% |
১৩ | ফাউল | ১১ |
১ | হলুদ কার্ড | ১ |
০ | লাল কার্ড | ০ |
২ | অফসাইড | ১ |
৬ | কর্নার | ১০ |
এর আগে লুইস সুয়ারেজেরও একটি গোল বাতিল হয়েছে ভার-এর সিদ্ধান্তে। এই সুয়ারেজেরই বক্সের অন্য প্রান্ত থেকে উড়িয়ে মারা বলে প্রায় লাইন থেকে হেড করে পেছনে ঠেলেন সার্জি রবার্তো। তাতে ঠান্ডা মাথার ভলি করে এই মৌসুমে তিন ম্যাচে দুবার জয়ের নায়ক বনে যান দেম্বেলে। সেভিয়ার বিপক্ষে সুপার কাপে জয়সূচক গোলটিও এসেছিল তাঁর পায়ে।
লিগের প্রথম ম্যাচে একাই জয় এনে দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। কাল রাতটা তাঁর ছিল না। শুধু মেসি কেন, পুরো বার্সেলোনাই পাসিং ফুটবলের ছন্দ আনতে পারছিল না রীতিমতো বিপজ্জনক হয়ে ওঠা এই মাঠে। প্রথমার্ধে ভ্যায়াদোলিদের বক্সে মাত্র একবার বল ছুঁতে পেরেছিলেন। আরেকবার ইচ্ছাকৃত হ্যান্ডবল করেও হলুদ কার্ড দেখেননি নামটা মেসি বলেই। আগের ম্যাচেই দুর্দান্ত এক ফ্রি কিক নিয়েছিলেন ওয়ালের নিচ দিয়ে। আর এ রাতে দুটি ভালো ফ্রি কিক সুযোগ নষ্ট করেছেন।
মেসির মতো বার্সেলোনাও খুব ভালো খেলেনি, তবে অতটা খারাপও নয়। বার্সারই সাবেক গোলরক্ষক জর্ডি মাতিপ তিনটি দারুণ সেভ করেছেন। অবশ্য বার্সা গোলরক্ষক টের স্টেগেনও দলকে অন্তত দুবার বিপদের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন।
শেষ পর্যন্ত বার্সা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে। প্রচণ্ড গরমে সুলভ মেকআপ গলে খসে পড়ে যাওয়ার পর কোনো তরুণীর দিকে তাকালে যেমন লাগে, এমনই দেখাচ্ছি ভ্যায়াদোলিদের মাঠ। এই মাঠে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ফেরার চেয়ে বড় সুখবর, দলের কাউকে বড় চোটে হারাতে হয়নি!
দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ভালো শুরু করল চ্যাম্পিয়নরা। দুই ম্যাচে গোলও হজম করতে হয়নি, এটাও সুখবর। তবে সবচেয়ে বড় সুখবর, নেইমার-শূন্যতায় বিচলিত হয়ে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা দিয়ে দেম্বেলেকে কিনে কী লাভ হলো—গত মৌসুমে বার্সা সমর্থকদের এই প্রশ্নের উত্তর এবার দিতে শুরু করেছেন ফরাসি বিস্ময়। গতবার হতাশামাখা মৌসুমে করেছিলেন ৩ গোল। এবার তিন ম্যাচেই দুবার নায়ক!
বার্সা ধন্যবাদ দেবে এই মৌসুম থেকে ভার চালুর সিদ্ধান্তকেও। না হলে ২ পয়েন্ট হারাতে হতো। আর স্প্যানিশ লিগে দুই পয়েন্ট মানে হয়তো শিরোপাও!