এবার কোপা আমেরিকা জয়ের পর মেসির উল্লাস
এবার কোপা আমেরিকা জয়ের পর মেসির উল্লাস

বললেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি মারিও কেম্পেস

মেসি কখনো ম্যারাডোনার মতো হতে পারবে না

ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসি। দুজন ভিন্ন সময়ের দুই ফুটবলার। কিন্তু প্রতিভা, বাঁ পায়ের খেল এবং একই রকম কিছু গোলের জন্য দুই আর্জেন্টাইনের মধ্যে বিস্তর তুলনা চলে।

বিতর্কও হয়। কে সেরা, কিংবা দুজনেই একই মাপের ফুটবলার কি না—এ নিয়ে আলোচনা শেষ হওয়ার নয়। আর্জেন্টিনার ১৯৭৮ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি মারিও কেম্পেস সে আলোচনার আগুনে ঘি ঢাললেন। তাঁর মতে, মেসি কখনোই ম্যারাডোনার মতো পারবেন না।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ম্যারাডোনার সঙ্গে তুলনা শুনে আসছেন মেসি। এবার কোপা আমেরিকা জিতে দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের খরা কাটিয়েছেন মেসি। এরপর ভাবা হয়েছিল, প্রতিভা তো আছেই অর্জনের দিক থেকেও ’৮৬ বিশ্বকাপ কিংবদন্তির আরেকটু কাছাকাছি চলে এলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

লিওনেল মেসি ও ডিয়েগো ম্যারাডোনা।

ম্যারাডোনা বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন আর্জেন্টিনাকে, মেসি বিশ্বকাপ জেতাতে হয়তো পারেননি, কিন্তু দেশকে জিতিয়েছেন মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা। বিশ্বকাপ জয়েরও খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন, ২০১৪ সালে।

ম্যারাডোনা কিন্তু তাঁর ক্যারিয়ারে কোপা আমেরিকা জিততে পারেননি। ক্লাব ফুটবলে সাফল্য বিবেচনায় আবার ম্যারাডোনার চেয়ে এগিয়ে থাকবেন মেসি। বার্সার হয়ে ক্লাব পর্যায়ে প্রায় সবই জিতেছেন ৩৪ বছর বয়সী তারকা। ওদিকে ম্যারাডোনা বোকা জুনিয়র্স ও নাপোলি কিংবদন্তি। ইতালিয়ান ক্লাবটিকে প্রায় একাই জিতিয়েছেন লিগ।

মেসি ও ম্যারাডোনার আগে আরও এক কিংবদন্তির দেখা পেয়েছে আর্জেন্টিনা। ১৯৭৮ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৬ গোল করে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন কেম্পেস।

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ফাইনালে জোড়া গোল করেছিলেন। মেসি-ম্যারাডোনার মধ্যে তুলনা নিয়ে ইএসপিএন মেক্সিকোকে কেম্পেস বলেছেন, ‘মেসির জন্য দুর্ভাগ্য হলো তাকে ম্যারাডোনার জায়গায় বসানো হয়েছে। ডিয়েগোকে আড়াল করা খুব কঠিন, বিশ্বব্যাপী তাকে যেভাবে দেখা হয় সেই বিচারে।’

আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি মারিও কেম্পেস।

কেম্পেস এরপর সোজাসাপ্টাই বলেছেন, ‘সে (মেসি) ম্যারাডোনার চেয়ে ভালো হতে চাইলেও পারবে না। এমনকি টানা চারটি বিশ্বকাপ জিতলেও পারবে না; যদিও সে এখনো বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। সে কতগুলো শিরোপা জিতল কিংবা কী জিতল, সেসব কোনো বিষয় নয়। কারণ, ডিয়েগো যা করেছে গেছে, তার সঙ্গে এসবের তুলনা চলে না।’

মেসি কোপা আমেরিকা জেতার পর ম্যারাডোনার সঙ্গে তাঁর তুলনার প্রসঙ্গটি আবার তুলেছিলেন ’৮৬ বিশ্বকাপ কিংবদন্তিরই ছেলে ডিয়েগো সিনাগ্রা।

ম্যারাডোনার ছেলে মনে করেন, তাঁর বাবার সঙ্গে তুলনা মেসিকে ভোগাচ্ছে, ‘ডিয়েগো ছিলেন ডিয়েগো আর মেসি তো মেসি। মেসির সমালোচনা যারা করে, তারা ফুটবলের কিছুই বোঝে না। আমার বাবার সঙ্গে তুলনা করায় তাকে অনেক ভুগতে হয়েছে।’

তবে সাবেক এ ফুটবলারের চোখে মেসিই সেরা, ‘মেসিকে পছন্দ করি। তাকে ভালোবাসি। ফুটবল ইতিহাসে তার মতো আর কেউ নেই।’