রামোসের তো অনুশোচনায় পুড়ে অঙ্গার হওয়ার কথা!

বার্নাব্যুর গ্যালারিতে ব্যক্তিগত বক্সে বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের নিয়ে খেলা দেখছেন রামোস। ছবি: টুইটার
বার্নাব্যুর গ্যালারিতে ব্যক্তিগত বক্সে বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের নিয়ে খেলা দেখছেন রামোস। ছবি: টুইটার
>

চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলো থেকে ছিটকে পড়ার পর রিয়াল মাদ্রিদ কোচ সান্তিয়াগো সোলারি বলেছেন, ফিরতি লেগে সার্জিও রামোসের অনুপস্থিতি ভুগিয়েছে দলকে। প্রথম লেগে ইচ্ছে করে হলুদ কার্ড দেখায় ফিরতি লেগে নিষেধাজ্ঞা জোটে রামোসের

উচ্চারণগুলি শোকের।

রিয়াল মাদ্রিদ–সমর্থকদের মনের অবস্থা এখন এমনই। প্রথম লেগে ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে ফিরতি লেগে ৪-১ গোলের হার। অবিশ্বাস্য! সেটিও আয়াক্সের মতো মোটামুটি মানের দলের বিপক্ষে। কাল রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগ শেষ ষোলোর ফিরতি লেগ থেকে এভাবেই ছিটকে পড়েছে টানা তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা। শোক কিংবা ক্ষোভ, যা–ই বলুন না কেন, সমর্থকেরা তা প্রশমনে ‘বলির পাঁঠা’ হিসেবে বেছে নিতে পারেন সার্জিও রামোসকে। আর সেই পথটা তৈরি করেছেন রামোস নিজেই!

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে কাল রামোসকে মাঠে দেখা যায়নি। প্রথম লেগে ‘ইচ্ছে করে’ হলুদ কার্ড দেখায় উয়েফা তাঁকে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে। রিয়াল অধিনায়ক রামোস ভেবেছিলেন, প্রথম লেগে কার্ড দেখায় শুধু ফিরতি লেগ খেলতে পারবেন না। কিন্তু প্রথম লেগেই এগিয়ে থাকায় ফিরতি লেগ খেলে রিয়ালের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে অসুবিধা হওয়ার কথা না। তখন কোয়ার্টার ফাইনালে কার্ড নিয়ে কোনো ভাবনা ছাড়াই খেলতে পারবেন। বেরসিক উয়েফা তাঁকে নিষিদ্ধ করে দুই ম্যাচের জন্য।

রামোস এই বুদ্ধি দেখাতে গিয়ে উল্টো রিয়ালের ক্ষতিই করেছেন। শেষ ষোলোর ফিরতি লেগে রিয়ালের জয় দূরাস্ত, চার-চারটি গোল হজম করেছে সান্তিয়াগো সোলারির দল। এই গোলসংখ্যাতেই বোঝা যায়, রামোস না থাকায় রিয়ালের কত ক্ষতি হয়েছে।

রামোস নিশ্চয়ই নিজেও তা বুঝতে পেরেছেন? কাল বার্নাব্যুতে নিজের ব্যক্তিগত বক্সে বসে ইউরোপ থেকে সতীর্থদের বিদায় দেখেছেন রামোস। তেমন একটা হাসিখুশি দেখা যায়নি তাঁকে। প্রথমার্ধেই আয়াক্স ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ায় রামোস হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন, প্রথম লেগে কাজটা (হলুদ কার্ড দেখা) তিনি মোটেও ভালো করেননি। তবে স্পেনের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বার্নাব্যুর বক্সে বসে পুরো সময় ম্যাচে মনোযোগী ছিলেন না রামোস। বিশ্বের বৃহত্তম অনলাইন শপিং রিটেইলার আমাজনের সঙ্গে একটি তথ্যচিত্র বানাচ্ছেন এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডার। সেই কাজেরই অংশ হিসেবে নিজের বক্সে ভিডিওতেও অংশ নেন রামোস।

খেলা দেখার ফাঁকে একটি তথ্য চিত্রের ভিডিওতেও অংশ নেন রিয়াল অধিনায়ক। ছবি: মার্কা

হারের পর রিয়াল কোচ সোলারিও স্বীকার করেছেন, রিয়াল তাঁদের অধিনায়ককে ‘মিস’ করেছে। সোলারি বলেন, ‘অবশ্যই। দলের কোনো খেলোয়াড় নিয়ে কিছু বলা ছাড়াই এটুকু বলতে পারি আমরা আমাদের অধিনায়ককে মিস করেছি।’

তবে আয়াক্সের খেলোয়াড়েরা নিশ্চয়ই রামোসের অনুপস্থিতিকে ভীষণভাবে উপভোগ করেছেন? বিশেষ করে মৌসুম শেষে আয়াক্স থেকে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় থাকা ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং। ২১ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার বলেছিলেন, প্রথম লেগে ইচ্ছে করে হলুদ কার্ড দেখে ফিরতি লেগে বসে থাকার জন্য রামোসকে অনুশোচনা করতে হবে। রামোস কী ভাবছেন, প্রথম লেগে ওভাবে হলুদ কার্ড না দেখলে কাল তিনি মাঠে থাকতে পারতেন। তাতে দলও হয়তো এভাবে হারত না। কিন্তু এখন আর এসব ভেবে লাভ কী? তাঁর অতি লোভের খেসারত গুনে রিয়ালের ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়ে গেছে।