আরও বেশি গোল হজম করতে পারত রিয়াল মাদ্রিদ কাল?
আরও বেশি গোল হজম করতে পারত রিয়াল মাদ্রিদ কাল?

রিয়ালকে পাঁচ গোল দিতে না পারায় আফসোস হচ্ছে তাঁর

বলের দখলের রেকর্ড বলবে, ম্যাচটাতে রিয়াল মাদ্রিদের দাপট ছিল। ম্যাচে চেলসির পায়ে বল ছিল মাত্র ৩২ শতাংশ সময়ে, রিয়ালের পায়ে ৬৮ শতাংশ। কিন্তু ফুটবলে শুধু বল পায়ে রাখলেই তো চলে না, বল পায়ে কী করলেন, সেটাই ব্যবধান গড়ে দেয়। নিজেদের মাঠে কাল চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে চেলসি সেখানেই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।

দুই গোল করেছে টমাস টুখেলের দল। রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে গত সপ্তাহে প্রথম লেগে ১-১ গোলে ড্র করে আসার পর কাল ২-০ গোলের অনায়াস জয় নিয়ে উঠে গেছে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে। দুই লেগ মিলিয়ে রিয়ালের জালে তিন গোল দিয়েছে দিয়েছে চেলসি, জিতেছে ৩-১ গোলে, দুই লেগেই জিদানের রিয়ালের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছে...কিন্তু এত করেও বুঝি শখ মেটেনি চেলসির মিডফিল্ডার ম্যাসন মাউন্টের।

কাল দ্বিতীয় সেমিফাইনালে চেলসির দ্বিতীয় গোলটি এসেছে এই ইংলিশ মিডফিল্ডারের কাছ থেকেই। তাঁর এখন আফসোস হচ্ছে, কেন রিয়ালকে আরও গোল দিল না চেলসি! বললেন, রিয়ালকে গুনে গুনে পাঁচ গোল দিতে পারত চেলসি! পারেনি গোল করায় ব্যর্থতার কারণে।

ম্যাসন মাউন্টের গোলের মুহূর্ত।

চেলসি সব মিলিয়ে কাল ম্যাচে শট নিয়েছে ১৫টি, যেখানে রিয়ালের শট ৭টি। দুই দলই প্রতিপক্ষের পোস্টে ৫টি করে শট রাখতে পেরেছে ঠিকই, যদিও সে শটগুলোর কয়টি ঠিক প্রতিপক্ষের কলজেটা জিবের ডগায় নিয়ে আসার মতো ছিল, সেটিও এখানে হিসাবে রাখতে হয়। কিন্তু পাল্টা–আক্রমণে রিয়ালকে ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলা চেলসি মোটামুটি নিশ্চিন্ত হতে হতে ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত লেগে গেছে।

২৮ মিনিটে টিমো ভের্নারের গোল ‘রিয়াল এক গোল করলেই জিতে যেতে পারবে না’—এমন কিছুর নিশ্চয়তা নিয়ে এসেছিল বটে, কিন্তু তখনো রিয়ালের একটি গোলই হিসাব পাল্টে দিতে যথেষ্ট ছিল। রিয়াল এক গোল করলে ম্যাচ গড়াত অতিরিক্ত সময়ে, আবার এর মধ্যে রিয়াল আরেক গোল করে ফেললে চেলসি তখন উল্টো চাপে পড়ে যেত। কারণ, তখন শুধু চেলসিকে একটি গোল করলেই হতো না, (রিয়াল কাল ম্যাচে সমতা ফেরানোর পর আরও এক গোল করলে) চেলসিকে রিয়ালের ‘অ্যাওয়ে গোলের’ সুবিধা কাটিয়ে ফাইনালে যেতে করতে হতো দুই গোল। রিয়াল যদিও ম্যাচে সেভাবে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি, তবু এটাও তো একটা চাপই ছিল!

চাপ থেকে মুক্ত হতে আরেকটি গোলের দরকার ছিল চেলসির, সেটি এসেছে ৮৫ মিনিটে মাউন্টের সৌজন্যে। হাঁফ ছেড়ে বাঁচে চেলসি। নিশ্চিত হয়ে যায়, রিয়াল তখন এক গোল করলেও লাভ নেই, আর দুই গোল করার মতো সময় তখন রিয়ালের হাতে অল্প।

নিজের গোলে নিশ্চিত হয়ে গেল রিয়াল মাদ্রিদের বিদায়। ম্যাসন মাউন্টের উল্লাসটা তাই হলো বাঁধভাঙাই।

কিন্তু এই যে ৮৫ মিনিটের আগপর্যন্ত একটা দুশ্চিন্তা, যেকোনো মুহূর্তে রিয়াল গোল করে ফেললেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যাওয়ার শঙ্কা...এটাই বুঝি ভালো লাগছিল না মাউন্টের। রিয়ালের জালে আরও বল জড়াতে না পারার আক্ষেপ থেকে গেল তাঁর। ম্যাচের পর বিটি স্পোর্টসে চেলসির ২২ বছর বয়সী ইংলিশ মিডফিল্ডার বললেন, ‘অনেক অনেক কঠিন একটা ম্যাচ ছিল। ওরা এখানে সবকিছু ঢেলে দিয়ে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিয়েই এসেছিল, কিন্তু আমরাও সবটুকু নিংড়ে দিয়ে খেলেছি। আমাদের পাঁচটা গোল করা উচিত ছিল!’

তবে যা হয়নি, তা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে, যা হয়েছে তাতেই বরং এখন তৃপ্ত থাকছেন মাউন্ট, ‘তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার এটি যে আমরা আজ জিতেছি। আনন্দটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো শব্দ আমার নেই। আজ দারুণ খেলেছে সবাই।’ নিজের কথা না বললেও চেলসির দ্বিতীয় গোলটা কতটা স্বস্তিদায়ক ছিল, তা ঠিকই থাকল মাউন্টের কণ্ঠে, ‘অনেকটা সময় ১-০ গোলে এগিয়ে ছিলাম আমরা, কিন্তু তাতে কিছু যাচ্ছিল-আসছিল না। কারণ, ওরা গোল করে ফেললেই কিন্তু ম্যাচে ফিরে আসত। শেষ দিকে ওই গোল পাওয়া...উদ্‌যাপন দেখেই বুঝতে পেরেছেন, অনেক স্বস্তি দেওয়া একটা গোল ছিল সেটা, শেষ মিনিট পাঁচেকে আমাদের নিশ্বাস ফেলার সুযোগ করে দিয়েছে গোলটা।’