
জিরোনার মাঠ বড় এক পরীক্ষা হতে পারত রিয়াল মাদ্রিদের জন্য। গত মৌসুমে সদ্য লা লিগায় উঠে আসা এ দলের কাছে হেরেছিল রিয়াল। এবারও সে সম্ভাবনা জেগেছিল। ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটেই পিছিয়ে পড়েছিল হুলেন লোপেতেগির দল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ৪-১ গোলের দাপুটে জয় পেয়েছে রিয়াল। এমন জয়ের পর তাই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর নামটাও উঠে এসেছে। অনেকেরই ধারণা রোনালদোর অভাব কাটিয়ে উঠছে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ীরা। তবে মার্সেলো মানছেন না এসব কথা।
রিয়াল মাদ্রিদে রোনালদোর সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু ছিলেন মার্সেলো। ব্রাজিলিয়ান লেফট ব্যাকের ক্রসে রোনালদোর লাফিয়ে উঠে হেড করা কিংবা দারুণ শোটে গোল করা খুব পরিচিত দৃশ্য ছিল। রোনালদোর বিদায়ে মার্সেলোর বার্তায় তো মনে হচ্ছিল, শোকে রিয়াল বিদায় বলে দেবেন এই ফুলব্যাকও! এখনো রিয়ালেই আছেন মার্সেলো। তবে বন্ধুকেও ভুলতে পারছেন না, ‘রোনালদো বিশ্বের সেরা। অবশ্যই তার সঙ্গে খেলা মিস করি কিন্তু বেল ও বেনজেমাও খুব ভালো।’
রোনালদোর বিদায়ে রিয়ালের কতটা ক্ষতি হয়েছে, সেটা ভবিষ্যৎ বলে দেবে। কিন্তু গ্যারেথ বেলের যে লাভ হবে, সেটা সবাই স্বীকার করেছেন। দলের মূল তারকা হতে পারার প্রেরণায় বেল নিজের সেরাটা দেবেন, এমনটাই ভাবা হচ্ছে। লিগে প্রথম দুই ম্যাচে তেমনটাই দেখা গেছে। তবে শুধু বেল নন, লাভবানদের তালিকায় আছেন করিম বেনজেমাও। কাল জিরোনার বিপক্ষে ২ গোল করেছেন বেল। সেখানে গত মৌসুমে পুরো লিগেই মাত্র ৫ গোল ছিল ফ্রেঞ্চ স্ট্রাইকারের। রোনালদোর জন্য এখন আর জায়গা বের করতে হচ্ছে না বলে ডি বক্সে তাঁকে বেশি দেখা যাচ্ছে।
কিন্তু এতেও কি বন্ধুকে হারানোর দুঃখ ভোলা যায়? বেনজেমা এখনো ভুলতে পারেননি রোনালদো কথা, ‘ক্রিস্টিয়ানোকে ভোলা কখনোই সম্ভব না। সে রিয়াল মাদ্রিদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং প্রচুর গোল করেছে। মার্সেলো যেমন বলেছে, বিশ্বের সেরা ফরোয়ার্ডদের একজন সে। কিন্তু আমাদের ভিন্ন খেলোয়াড় নিয়ে ভিন্ন একটা দল হিসেবে চিন্তা করতে হবে এখন।’
এদিকে রোনালদোকে নিয়ে দুঃখগাথা সাজানোর মাঝে মার্সেলো নিজেও পড়েছেন চিন্তায়। গতকাল ম্যাচের এক ঘণ্টার দিকে তুলে নেওয়া হয় সহ অধিনায়ককে। জিনেদিন জিদানের সময়ে চোটের ঝুঁকি না থাকলে মার্সেলোর মাঠ ছাড়ার কথা কল্পনাও আনা যায়নি। মার্সেলো নিজেও বিস্ময় লুকাননি কোচের এমন সিদ্ধান্তে, ‘পরিবর্তনটা আমাকে অবাক করেছে। তবে আমি ম্যানেজারের সিদ্ধান্তকে সম্মান করে। আমি খেলা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম কারণ আমি ভালোই ছিলাম। আমি পরিবর্তনের কারণটা বুঝিনি কিন্তু এটা সম্মান করিনি। এটা ম্যানেজারের সিদ্ধান্ত। আমি সব সময় খেলতে চাই।’
ক্লাবের পরিচালক এমিলিও বুত্রাগুয়েনো পরিবর্তনের কারণটা ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে, ‘এটা রক্ষণাত্মক পরিবর্তন ছিল। নাচোকে ওদিকে সরিয়ে আনার পর থেকেই ওইদিকে আমাদের কোনো বিপদে পড়তে হয়নি।’