
>ইতালিতে জুভেন্টাসের জার্সিতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর অভিষেক মন ভরাতে পারেনি তাঁর ভক্তদের। তাঁর অভিষেক কি আসলেই ফ্লপ? বিশ্লেষণটি পড়ুন
তাঁর অভিষেক বলেই কিয়েভো-জুভেন্টাস ম্যাচে সবার নজর ছিল। অভিষেকে কেমন করেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, সেটা দেখতে অনেক দিন পর ইতালিয়ান লিগ সেই পুরোনো আমেজ ফিরে পেয়েছিল। জুভেন্টাসের লিগ ম্যাচ দেখতে শেষ কবে এত দর্শক টিভিতে চোখ রেখেছিলেন, কেউ মনে করতে পারছিলেন না। ম্যাচের আগে খোদ পেলে পর্যন্ত টুইট করে শুভকামনা জানিয়েছেন রোনালদোকে। কিন্তু যাঁর জন্য এত আয়োজন-অপেক্ষা, সেই রোনালদো কাল আলো ছড়াতে পারলেন না।
কিয়েভোর মাঠে কাল রোনালদো কোনো গোল করতে পারেননি, সতীর্থদের দিয়ে কোনো গোল করাতেও পারেননি। রোনালদোর অভিষেক মন ভরাতে পারেনি জুভেন্টাস সমর্থকদের অনেককে। পুরো কিয়েভোর বেতন যত, তাঁর একার বেতন তার চেয়ে বেশি। গতবার লিগে ১৩ হয়েছে এমন একটা দলের বিপক্ষে হারতে হারতে আত্মঘাতী গোলের সৌজন্যে সমতা, সেখান থেকে যোগ করা সময়ের গোলে জয়। জুভেন্টাস সমর্থকদের মন ভরানোর একটু কঠিনই।
কিন্তু আসলেই কি খুব নিষ্প্রভ ছিলেন রোনালদো? নাকি পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডের ওপর সবার প্রত্যাশা বেশি বলেই এমনটা মনে হচ্ছে? সেটা জানতেই পরিসংখ্যানের সহযোগিতা নেওয়া দরকার।
ম্যাচের প্রথমার্ধে রোনালদো একজন পূর্ণাঙ্গ ‘নম্বর নাইন’ হিসেবে খেলেছেন। ডি বক্সের মধ্যেই উপস্থিতি বেশি ছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে মারিও মানজুকিচ নামার পর নিজের প্রিয় বাঁ প্রান্তে ফিরে গেছেন রোনালদো। ফলে মাঠে রোনালদোর উপস্থিতিও ভালোভাবে টের পাওয়া গেছে। দলের খেলাতেও বাড়তি অবদান রাখতে পেরেছেন। কালকের ম্যাচের হিট ম্যাপ দেখলেই বোঝা যাচ্ছে, নম্বর নাইন নয়, এখনো উইংয়েই থাকতে ভালোবাসেন রোনালদো।
গত মৌসুমে রিয়ালের হয়েও প্রায়ই অলিখিত নম্বর নাইন হিসেবে খেলেছেন রোনালদো। সেখান থেকেই ম্যাচপ্রতি একটি করে গোল করেছেন। গতকালও বেশ কয়বার গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। মোট আটবার শট নিয়েছেন, তবে এর মাঝে চারটি লক্ষ্যে ছিল (গোল পোস্টে)। অবশ্য গোলরক্ষক বাধা না হলে, লক্ষ্যে থাকা ওই চার শটেই দুটিতে গোল পেতে পারতেন। এর মধ্যে একটি শট তো ছিল দুর্দান্ত। নিজের প্রায় একার চেষ্টার তিন ডিফেন্ডারকে ঘোল খাইয়ে দূর পোস্টে শট নিয়েছিলেন।
গোলে শট নেওয়া ছাড়াও দলের খেলায় রোনালদো কতটা অবদান রাখতে পেরেছেন, সেটা বোঝা গেছে নিচের ছবিতে। মাঠে মোট ৫৭ বার বলের দখল নিতে পেরেছেন। মাঝমাঠেও বেশ কয়বার দেখা গেছে। মাত্র শেষ ৩০ মিনিট মাঠের বাঁ প্রান্তে থাকার পরও ওখানেই সবচেয়ে বেশিবার বলের দখল নেওয়া এবং প্রতিপক্ষকে সবচেয়ে বেশি বিপদে ফেলাটাই বলে দিচ্ছে উইংয়েই এখনো বেশি স্বচ্ছন্দ রোনালদো। পরিপূর্ণ একজন নম্বর নাইন হিসেবে রোনালদোকে খেলানোর পরিকল্পনা হয়তো কিছুদিনের জন্য পিছিয়ে নিতে হবে ম্যাক্সিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রিকে। নতুন সতীর্থদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পরই হয়তো সিআরসেভেন পরিপূর্ণ এক নাইন হয়ে খেলতে পারবেন জুভেন্টাসে।