
নতুন সংসারে রোনালদোর শুরুটা এখনো সুখের হয়নি। অন্যদিকে রোনালদোর সাবেক সংসার রিয়াল মাদ্রিদ শুরুটা করেছে দুর্দান্ত।
নয় বছরের দাম্পত্য সম্পর্ক হুট করে ভেঙে যাওয়ার মতো। রিয়াল মাদ্রিদ ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মুখ-দেখাদেখি বন্ধ! রিয়ালকে এত এত কিছু এনে দিয়েছেন। রিয়ালের সর্বকালের সেরা যে তিনিই, এ নিয়ে বিতর্ক করার মতো লোক খুব বেশি মিলবে না। কিন্তু রিয়াল থেকে বিদায় নিয়েছেন আড়ালে, নিজেই কোনো বিদায় সংবর্ধনা চাননি। সেও না হয় মানা গেল, তাই বলে জুভেন্টাসে যোগ দিয়েই সামাজিক মাধ্যমে রিয়ালকে আনফলো করে দিতে হবে! তারকা জুটিদের মধ্যে যেটা হয়। ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলে প্রথম কাজ আনফলো করা!
ভেতরে যতটা অভিমান মেশানো রাগ কিংবা রাগ মেশানো অভিমান থেকে থাকুক, রোনালদো আজীবন ভুলতে পারবেন না রিয়াল মাদ্রিদকে। জীবনের সেরা সময়টা, নিজের সামর্থ্যের সেরাটা এখানেই কাটিয়েছেন। আর ন-য় বছর, কম সময় তো নয়। রিয়াল তো চাইলেও ভুলতে পারবে না। ক্লাবটির ইতিহাসের পাতায় পাতায় ছড়ানো থাকবে তাঁর নাম। রিয়াল-সমর্থকদের মধ্যে রোনালদোর শূন্যতার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। গ্যালারি ভরছে না আগের মতো। গত ১০ বছরে সবচেয়ে কম দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড করেছিল বার্নাব্যু।
রিয়ালের জার্সি বিক্রি থেকে আয়ও নির্ঘাত কমেছে। আরও অন্যান্য খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়াটাও অস্বাভাবিক নয়। তবে এ তো গেল মাঠের বাইরের হিসাব। মাঠে? ছবিটা একেবারেই উল্টো। লিগে দুই ম্যাচেই দাপটের সঙ্গে খেলেছে রিয়াল। একবারও মনে হয়নি রোনালদো-শূন্যতায় ভুগছে তারা। উয়েফা সুপার কাপে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে নাস্তানাবুদ হওয়ার পর যে হাওয়া উঠেছিল, তা দ্রুত মিলিয়েও দিয়েছেন লোপেতেগির শিষ্যরা। কাল জিরোনার বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলে জিতেছে রিয়াল।
রোনালদো না থাকার সবচেয়ে বড় সুবিধাটা ভোগ করছেন গ্যারেথ বেল আর করিম বেনজেমা। রোনালদো নামের বিশাল বৃক্ষের আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে ফুল ফোটাতে শুরু করেছেন দুজনই। বেল যে আরও বেশি স্পেস পাবেন, তা তো জানা গিয়েছিলই। তবে বেনজেমা কাল জোড়া গোল করে বুঝিয়ে দিলেন, নিজের ক্যারিয়ারের চেয়ে ক্লাবের স্বার্থকে এত বড় করে না দেখলে নামের পাশে গোলসংখ্যা আরও বাড়ত নিশ্চয়ই।
মাঠের খেলায় রিয়াল রোনালদোর শূন্যতা এত সহজে পূরণ করে দেবে, অনেকেই ভাবতে পারেনি। এখনো অবশ্য চ্যাম্পিয়নস লিগ পরীক্ষা বাকি। রোনালদোর আসল জাদু তো ছিল সেখানেই। গত ৫ বছরে চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার মূল ইঞ্জিন ছিলেন রোনালদো। তবে লোপেতেগির রিয়াল সেই পরীক্ষাতেও দারুণভাবে উতরে যাবে, সেই আশাই এখন বাড়ছে।
অথচ রোনালদোর নিজের ছবিটা উল্টো। জুভেন্টাসে রূপকথার অভিষেক হয়নি। দুই ম্যাচে ছন্দ খুঁজে পেতে যুঝতে হয়েছে। গত ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন, তবে রোনালদো জানেন, নতুন দলে আর নতুন লিগে মানিয়ে নিতে বেগ পেতে হচ্ছে। এই কঠিন সময়টা আরও একটু প্রলম্বিত হলে রোনালদো হয়তো রিয়ালকে মিস করতে শুরু করবেন। গোলের নেশা তাঁর বড় নেশা। গোল না পাওয়া পর্যন্ত রোনালদোর স্বস্তি নেই।
আপাতত প্রাক্তনের সুখ দেখে যদি কারও বুক জ্বলে, সেটা রিয়াল নয়; রোনালদোই!