নিয়তিটা সম্ভবত নির্ধারিতই ছিল। এর আগে যে তিনবার লিগ কাপে স্টোক সিটির সঙ্গে দেখা হয়েছে, প্রতিবারই তাদের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে টুর্নামেন্ট থেকে। সংখ্যাটা ৪ হয়ে গেল পরশু। টাইব্রেকারে হেরে লিগ কাপ থেকে এবারও বিদায় চেলসির।
লন্ডনের ক্লাবটির জন্য তো হার লেখা ছিল, হোসে মরিনহোর ভাগ্যে কী লেখা আছে? মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১৬ ম্যাচের আটটিতেই হার চেলসির। লিগে দুর্দশা তো চলছেই, চেলসি বাদ পড়ল লিগ কাপের চতুর্থ রাউন্ড থেকেও। সঙ্গে যোগ করে নিন চিকিৎসক ইভা কার্নেইরোর সঙ্গে বিবাদ, দলে বিভাজনের গুঞ্জন, মরিনহোর নিজের কারণে ঝামেলা—সব মিলিয়ে সম্ভবত ক্যারিয়ারের সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় আছেন মরিনহো। চেলসিতে তাঁর দিন কি তাহলে ফুরিয়ে আসছে?
শোনা যাচ্ছে, শনিবার লিভারপুল ম্যাচের পর অথবা সামনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের বিরতিতে চাকরি যেতে পারে মরিনহোর। কার্লো আনচেলত্তি না গাস হিডিঙ্ক—পরবর্তী কোচ কে হবেন, এ নিয়েও গুঞ্জন শুরু হয়ে গেছে।
স্টোকের মাঠে দ্বিতীয়ার্ধে পিছিয়ে পড়া চেলসি ৯১ মিনিটে সমতায় ফেরে চোটে পড়া ডিয়েগো কস্তার বদলি লইক রেমির গোলে। মনে হচ্ছিল, চেলসির ভাগ্য বদলাবে। তা তো হলোই না, উল্টো টাইব্রেকারে ৫-৪ পিছিয়ে থাকা অবস্থায় চেলসির শেষ পেনাল্টিটা মিস করলেন ‘পেনাল্টি-বিশেষজ্ঞ’ এডেন হ্যাজার্ড। এখানেও চাইলে নিয়তির যোগ খুঁজে নিতে পারেন। মরিনহোর অধীনে এর আগের ৪টি পেনাল্টি শ্যুট আউটের সবগুলোতেই হেরেছে চেলসি।
ম্যাচ শেষে মরিনহো অবশ্য নিজের খেলোয়াড়দের প্রশংসাই করেছেন। ওয়েস্ট হাম ম্যাচের চেয়ে এদিন ভালো খেলেছেন হ্যাজার্ডরা। মরিনহোর ভাষায় যেটি ‘খেলোয়াড়েরা সমালোচকদের দেখিয়ে দিল ওরা “নির্বোধ”।’ সংবাদ সম্মেলনে উড়িয়ে দিলেন খেলোয়াড়দের সঙ্গে বিবাদের গুঞ্জনও, ‘সত্যিই মনে হয় ওরা আমার সঙ্গে নেই? ওরা আমার বিপক্ষে থাকলেই আমার জন্য ভালো হতো। আমি বলতে পারতাম, খেলোয়াড়েরা বিপক্ষে থাকাতেই আমরা ভালো ফল পাচ্ছি না।’
আর্সেন ওয়েঙ্গারের সমস্যাটাও খেলোয়াড়ঘটিতই। তবে বিবাদ নয়, খেলোয়াড়দের চোট! পরশু চেলসির পরিণতি মেনে নিতে হয়েছে ‘গানার’দেরও। যদিও লজ্জাটা একটু বেশি—হারটা এসেছে চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব শেফিল্ড ওয়েনেসডের বিপক্ষে, তাও ৩-০ ব্যবধানে! ১৯৫৯-এর ফেব্রুয়ারির পর আর কখনো নিচু লিগের কোনো দলের কাছে এমন ব্যবধানে হারেনি আর্সেনাল। ক্ষতটা আরও বড় হয়ে উঠছে ম্যাচের শুরুতেই অ্যালেক্স অক্সলেড—চেম্বারলেইন ও থিও ওয়ালকটের চোটের কারণে। ম্যাচ শেষে ‘সানচেজ ও ওজিলকে না নামিয়ে খুব ভালো করেছি’—কথাটা তাই ওয়েঙ্গারের কণ্ঠে দুঃখের মতোই শোনাল। এএফপি।