
>এ নিয়ে ছয়বার বিশ্বকাপ খেলছে নাইজেরিয়া, পাঁচবারই পড়েছে আর্জেন্টিনার গ্রুপে। তবে এই দুই দলের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এবারই
এক অর্থে এটা তো ভালোবাসার গল্পই।
এই যে বিশ্বকাপে বারবার আর্জেন্টিনা আর নাইজেরিয়ার দেখা হয়ে যাওয়া, তাতে ড্র নামের ভাগ্যের খেলার ভূমিকা তো আছেই। কিন্তু কিছুটা ভালোবাসার টানও কি নেই!
এর চেয়ে বেশিবার দেখাও বিশ্বকাপে দুটি দলের মধ্যে হয়েছে। জার্মানি-সুইডেন আর আর্জেন্টিনা-জার্মানিই যেমন সবচেয়ে বেশি সাতবার করে মুখোমুখি হয়েছে বিশ্বকাপে। আর্জেন্টিনা, জার্মানি বা সুইডেন সব দেশই বিশ্বকাপ খেলে অনেক আগে থেকে। কিন্তু নাইজেরিয়া বিশ্বকাপ খেলছে এ নিয়ে মাত্র ষষ্ঠবার। তাতেই দুই দলের এটা পঞ্চম দেখা—সব কটিই গ্রুপপর্বে। ভালোবাসার টান নয় তো কী!
নাইজেরিয়ানরা অবশ্য আপত্তি করতে পারেন। আগের চারবারের দেখায় কখনো আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জেতা হয়নি তাঁদের। ভালোবাসা এমন একতরফা হয় নাকি! তবে হারলেও আর্জেন্টিনার সঙ্গে একই গ্রুপে পড়াটা সব সময় দুর্ভাগ্য বয়ে এনেছে—এ কথা বলতে পারবে না নাইজেরিয়া। চারবারের মধ্যে দুবার তারা আর্জেন্টিনার গ্রুপে থেকেই শেষ ষোলোয় উঠেছে। খারাপ কী!
প্রথম দেখাটা ১৯৯৪ সালে নাইজেরিয়া প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার পরই। যেকোনো পর্যায়ের ফুটবলেই ওটা ছিল দুই দলের প্রথম দেখা। ফক্সবোরোতে ডিয়েগো ম্যারাডোনার দলের বিপক্ষে কী দারুণ শুরুই না হয়েছিল সুপার ইগলদের। ৮ মিনিটের মধ্যে স্যামসন সিয়াসিয়ার গোলে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু ক্লদিও ক্যানিজিয়ার জোড়ে গোলে শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে হেরেই সেদিন মাঠ ছাড়তে হয়েছিল নাইজেরিয়াকে। তবে হারলেও বুলগেরিয়ার আর গ্রিসের বিপক্ষে জয় নিয়ে আর্জেন্টিনার সঙ্গী হয়েই ওইবার শেষ ষোলোয় খেলেছিল নাইজেরিয়া।
ফ্রান্সে পরের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সঙ্গে আর দেখা হয়নি নাইজেরিয়ার, দেখা হলো ২০০২ বিশ্বকাপে। ওই বিশ্বকাপটা শুধু নাইজেরিয়ার জন্যই না, আর্জেন্টিনার জন্যও ছিল ভুলে যাওয়ার মতো। শিরোপার বড় দাবিদার হয়ে আসা লাতিন পরাশক্তিদের গ্রুপে নাইজেরিয়া ছাড়াও পড়েছিল ইংল্যান্ড আর সুইডেন। সন্দেহাতীতভাবে গ্রুপ অব ডেথ। যে গ্রুপ থেকে ছিটকে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়া দুই দলই। তবে ওইবারও মুখোমুখি লড়াইটা আর্জেন্টিনাই জিতেছিল গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার একমাত্র গোলে। ২০০২ বিশ্বকাপে যেটি আর্জেন্টিনার একমাত্র জয়ও।
২০০৬ বিশ্বকাপে সুযোগই পায়নি নাইজেরিয়া। আট বছর পর আবার বিশ্বকাপে ফিরে ২০১০ সালেও সেই আর্জেন্টিনার সঙ্গেই। ডিয়েগো ম্যারাডোনা তখন আর্জেন্টিনার কোচ। গ্যাব্রিয়েল হেইঞ্জের একমাত্র গোল বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে প্রথম জয় এনে দিল ম্যারাডোনাকে। আর্জেন্টিনা তিন ম্যাচের সব জিতে পরের রাউন্ডে গেলেও নাইজেরিয়া গ্রুপ থেকেই বিদায় নিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে একমাত্র ড্রকে সম্বল করে।
তবে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাইজেরিয়া সবচেয়ে ভালো খেলেছে সম্ভবত ব্রাজিলে সর্বশেষবার। নাটকীয় ওই ম্যাচে ৩ মিনিটেই লিওনেল মেসির গোলে আর্জেন্টিনার এগিয়ে যাওয়া, পরের মিনিটেই আহমেদ মুসার সমতা ফেরানো গোল। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে আবার মেসি এগিয়ে দিলেন আর্জেন্টিনাকে, বিরতির পর নেমে মুসা আবার সমতা ফেরালেন। শেষ পর্যন্ত মার্কোস রোহোর গোলই ব্যবধান গড়ে দিল দুই দলের মধ্যে। তবে ৩-২ গোলে হারলেও আর্জেন্টিনার সঙ্গী হয়ে ওইবার শেষ ষোলোয় গেছে নাইজেরিয়া।
এবারও মেসি আছেন আর্জেন্টিনায়। নাইজেরিয়ায় আছেন মুসাও। তবে এবার আর দুই দলের শেষ ষোলোয় যাওয়ার সুযোগ নেই। ক্রোয়েশিয়া আগেই পরের রাউন্ড নিশ্চিত করে ফেলায়, এখন হিসাব-নিকাশটা এমন—দুই দলের যেকোনো একটাই শুধু খেলতে পারবে শেষ ষোলোয়। আর্জেন্টিনার তো জিততেই হবে, নাইজেরিয়া ড্র করলেও তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচের দিকে। আবার দুই দল ছিটকেও যেতে পারে বিশ্বকাপ থেকে।
বিশ্বকাপে ভালোবাসার গল্পে এমন পরীক্ষা এর আগে কখনো দিতে হয়নি আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়াকে।