নবাগত ইপসউইচ টাউনের বিপক্ষে ম্যানচেস্টার সিটির জয় নিয়ে সংশয় ছিল কম মানুষেরই।
ইতিহাদে আজ মাঠের ফলে হয়েছেও তা–ই। আর্লিং হলান্ডের জোড়া গোলে ইপসউইচকে ৩–২ গোলে হারিয়েছে সিটি; আর এই জয়ে প্রিমিয়ার লিগে সাত ম্যাচেও শতভাগ জয় ধরে রেখেছে শাস্তির শঙ্কায় থাকা দলটি। ম্যানচেস্টার সিটি লিগ মৌসুমের প্রথম সাত ম্যাচই জিতল এই প্রথম। ব্যক্তিগতভাবে ইতিহাস গড়েছেন কোচ এনজো মারেসকাও। প্রিমিয়ার লিগে কোনো ক্লাবের দায়িত্ব নিয়ে নিজের প্রথম সাত ম্যাচেই জেতা প্রথম কোচ হওয়ার কীর্তি এখন তাঁর।
প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নীতিমালা ভঙ্গে দোষী ঘোষিত হওয়ার পর এটিই ছিল ইতিহাদে সিটির প্রথম ম্যাচ। ম্যাচের ১৯ মিনিটে সিটি প্রথম এগিয়ে যায় ফিল ফোডেনের গোলে। তবে দুই মিনিট পরই ইপসউইচকে সমতায় ফেরান দাইজেন মায়েদা।
তবে বিরতির আগেই ৩৪ মিনিটে সিটির পক্ষে স্কোরলাইন ২–১ করেন হলান্ড। নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার তাঁর দ্বিতীয় গোলটি করেন ৬৯ মিনিটে। তাতে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে জয়ের পথ সহজ করে ফেলে সিটি। পরে দারুণ এক অ্যাক্রোবেটিক শটে হ্যাটট্রিকও পূর্ণ করেছিলেন হলান্ড। কিন্তু আক্রমণের শুরুতে এনজো ফার্নান্দেজের অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
শেষ দিকে অবশ্য ম্যাচে ফেরার আশা জাগায় ইপসউইচ। ৯০ মিনিটে মার্ক গেহি আবদুল ফাতাওকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় সফরকারীরা। স্পটকিক থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-২ করেন জিয়ান ফ্লেমিং। যোগ করা ১২ মিনিটে আর গোল না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে সিটি।
এই জয়ে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে মৌসুমের প্রথম সাত ম্যাচ জেতা তৃতীয় দল হয়েছে সিটি। এর আগে ২০০৫-০৬ মৌসুমে চেলসি ও ২০১৯-২০ মৌসুমে লিভারপুল এই কীর্তি গড়েছিল। তবে কোচ হিসেবে মারেসকার রেকর্ডটি একক—প্রিমিয়ার লিগে কোনো ক্লাবের দায়িত্বে প্রথম সাত ম্যাচেই জয় পাননি আর কেউ।
সিটি–ইপসউইচ ম্যাচের সমান্তরালে চলা অন্য খেলায় ব্রেন্টফোর্ডকে ২–১ গোলে হারিয়েছে লিভারপুল। ৪৪ মিনিটে লুইস–পটালের গোলে ব্রেন্টফোর্ড এগিয়ে গেলেও ৬২ মিনিটে মুনোজ আর ৭০ মিনিটে ইসাকের গোলে এগিয়ে যায় লিভারপুল।
এই ম্যাচে ব্রেন্টফোর্ডের দুজন লাল কার্ড দেখেছেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ইয়ামোলিউক আর দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে জানেল্ট।
পয়েন্ট তালিকায় সিটি এখন শীর্ষে, লিভারপুল ৭ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে।