বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ ফুটবল দলের কোচ জেরার্ড জোনস
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ ফুটবল দলের কোচ জেরার্ড জোনস

‘স্ত্রী-সন্তানদের খাবারের টাকাও পাঠাতে পারছি না’—কোচের আর্তনাদ, যা বলছে বাফুফে

জেরার্ড জোন্সের বেতনের টাকা সময়মতোই তাঁর অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। আজ দুপুরে ‎বাফুফে সাধারণ সম্পাদক প্রথম আলোকে বলেন, ‘তাঁর সঙ্গে আমাদের চুক্তি অনুযায়ী, ১০ তারিখের মধ্যে বেতন দেওয়ার কথা। সে ভাবেই আমরা তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি। এরপর কী হলো সেটা বলতে পারব না।’

ছেলেদের অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচের বেতনের আলোচনা সামনে আসার কারণ এই কোচের বেতন না পাওয়ার খবর। ‎সোমবার সকালে ফেসবুক পোস্টে ব্রিটিশ এই কোচ জানান, এখনও বেতনের অপেক্ষায় আছেন তিনি। স্ত্রী-সন্তানদের খাবারের টাকা পাঠাতে পারছেন না।

পরে আরেকটি পোস্টে জোন্স বলেছেন, 'আজ এর আগে দেওয়া আমার পোস্টের পর একটি ছোট আপডেট দিতে চাই। এখন আমি ব্যাংকিং-সংক্রান্ত একটি সমস্যার মধ্যে আছি। আমি অর্থ পেয়েছি ঠিকই, তবে এর সঙ্গে আরও কিছু জটিলতা রয়েছে। এমন কিছু নতুন সমস্যাও সামনে এসেছে, যেগুলো সম্পর্কে আমাকে আগে জানানো হয়নি।

আমার ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য যেভাবে কিছু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও শেয়ার করা হয়েছে, তা নিয়েও আমার গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে।

আমার স্ত্রী ও তিন সন্তান থেকে দূরে থাকাটাই এরই মধ্যে কঠিন। গতকাল ঢাকায় এবং আজও এমন কিছু পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, যেগুলো আমাকে অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও অসহায় বোধ করিয়েছে। মানুষ গাড়ির কাছে এসে, গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে, গাড়ি ঘিরে ধরে টাকা চাইছে। এছাড়াও, ব্যক্তিগতভাবেও বহুবার মানুষ আমার কাছে আর্থিক সাহায্য চেয়েছে।

এর সঙ্গে চলমান অনিশ্চয়তা, একের পর এক নতুন সমস্যার মুখোমুখি হওয়া এবং এখানকার জীবনযাপনের পরিস্থিতি—সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি আমার জন্য বোঝার মতো হয়ে উঠেছে।

এখানে আমি নিজেকে খুব একা এবং বিপন্ন মনে করছি। আমি ভয় পাচ্ছি, আতঙ্কিত বোধ করছি। আমি ভীষণভাবে বিপর্যস্ত, অসহায় এবং একা।

আমি আশা করছি, সবকিছু দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে। কারণ আমি শুধু চাই, কোনো দুশ্চিন্তা ছাড়াই নিজের কাজটা করতে।'

বাফুফে ভবন

‎বর্তমানে যশোরের শামসুল হুদা একাডেমিতে চলছে বাংলাদেশের যুব দলের আবাসিক ক্যাম্প। জেরার্ড জোনসও সেখানেই আছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ‎পোস্টে উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্সধারী এই কোচ তার আগে লিখেছিলেন, ‘খুব মন খারাপ আর বিষণ্ন লাগছে। আমার নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে সত্যি চিন্তিত। প্রতিনিয়ত ভুল বোঝাবুঝি আর অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, আজও এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হলাম।’

‎পরিবারের আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি আগের পোস্টে আরও লেখেন, ‘আমি এখনো বেতনের অপেক্ষায় আছি। আমার কাছে কোনো টাকা নেই, স্ত্রী-সন্তানদের খাবারের টাকাও পাঠাতে পারছি না। নিজের জীবন নিয়ে আমি খুব ভয় পাচ্ছি, চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

এরপর ‎দুপুর দেড়টায় ভিডিও বার্তায়ও হতাশা প্রকাশ করতে দেখা যায় তাঁকে, ‘সত্যি বলতে, এটা খুবই হৃদয়বিদারক। প্রতিদিন একটা না একটা নতুন ধাক্কা আসছে, আর আজকের দিনে সমস্যাগুলো যেন আরও বেশি। শুধু আমি একা নই, এই পরিস্থিতিতে আমরা তিনজনই খারাপ বোধ করছি। তবে আমি অন্য কারও হয়ে বলব না, কেবল নিজের কথাই বলছি—আমি ভেতরে-ভেতরে একদম শেষ হয়ে গেছি। আমি ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছি। আমার মনে হচ্ছে আমি আমার পরিবারকে হতাশ করেছি, আমার স্ত্রী এবং সন্তানদের প্রচণ্ড হতাশ করেছি... আমি খুবই ভেঙে পড়েছি, সত্যিই খুব কষ্ট পাচ্ছি।’

‎‎বাফুফের একটি সূত্র জানিয়েছে, বেতনের টাকা নিজ দেশে পাঠানোর আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ধাপগুলো পার করতে আজ দুপুরের দিকে যশোর থেকে ঢাকায় এসেছেন জেরার্ড।

‎গত জুন মাসেই অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্ব নেন এই ইংলিশ কোচ।