
বিশ্বকাপ প্লে-অফ ফাইনালের আগে অনুশীলনে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ উঠেছে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ফুটবল ফেডারেশনের অভিযোগ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ফোর্সের (ইইউএফওআর) একজন ইতালিয়ান সেনাসদস্য তাদের দলের অনুশীলনের ওপর নজরদারি চালিয়েছেন।
গত সপ্তাহে প্লে-অফ সেমিফাইনালে ওয়েলসের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর টাইব্রেকার জয়ের পর এবার ফাইনালের অপেক্ষায় বসনিয়া। চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালির বিপক্ষে আজ রাতে জেনিকার বিলিনো পোলজে স্টেডিয়ামে গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইয়ে নামবে স্বাগতিকেরা।
হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের প্রস্তুতিতে বাগড়া দিয়েছে এক বিতর্ক। গত রোববার বুটমিরে বসনিয়ার অনুশীলন সেশন চলাকালে ইইউএফওআরের এক সেনাসদস্যকে ভিডিও করতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সেনাসদস্য ইতালির নাগরিক।
বসনিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, সীমানাদেয়ালের আড়াল থেকে খেলোয়াড়দের অনুশীলনের দৃশ্য ভিডিও করছিলেন ওই সেনাসদস্য। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে তাঁকে ভিডিও করতে দেখার পর দলের নিরাপত্তাকর্মী ও কোচিং স্টাফরা তাঁর কাছে যান এবং ভিডিও ধারণ বন্ধ করার অনুরোধ জানান।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস জানিয়েছে, ভিডিও করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ার পর জাতীয় দলের সদস্যরা ওই সেনাসদস্যের মুখোমুখি হন এবং তাকে মাঠ থেকে বের করে দেন। বসনিয়ায় গুঞ্জন ছড়িয়েছে, ইতালির কোচ জেনারো গাত্তুসো নিজেই এই সেনাসদস্যকে পাঠিয়েছিলেন। তবে ওই সেনাসদস্যের গতিবিধি এবং তাঁর আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বসনিয়া দল যেখানে অনুশীলন করছে, সেই স্পোর্টস কমপ্লেক্সের আশপাশে সেনাসদস্যদের উপস্থিতি খুব একটা অস্বাভাবিক কিছুও নয়। বুটমিরে অবস্থিত দলটির বর্তমান ক্যাম্প মূলত ইইউএফওআরের একটি অন্যতম প্রধান প্রশিক্ষণ ঘাঁটি বলে জানিয়েছে এএস। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তির আচরণ সন্দেহজনক লেগেছে বসনিয়া জাতীয় দলের। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক বুঝে নিয়ে তারা হস্তক্ষেপে বাধ্য হয় এবং যাচাই করে দেখে, ওই সেনাসদস্যের জাতীয়তা ইতালীয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম স্পোর্টস্পোর্ট ডট বিএ তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে, এটি ইতালি জাতীয় দলের একটি ‘সরাসরি অপচেষ্টা’। ১২ বছর পর প্রথমবার বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে মরিয়া ইতালি মূলত বসনিয়ার রণকৌশল জানতেই এই গোয়েন্দাগিরির আশ্রয় নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বসনিয়া ফুটবল ফেডারেশন সে দেশে অবস্থানরত ইইউএফওআর কর্তৃপক্ষের কাছে এ ঘটনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে। মেইল অনলাইন জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে বুটমিরের ওই অনুশীলন মাঠের নিরাপত্তাব্যবস্থা মোটেও পর্যাপ্ত ছিল না। সাধারণ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত ওই অনুশীলনে খেলোয়াড় আর উৎসুক জনতার মধ্যে বাধা বলতে ছিল কেবল একটি ছোট ধাতব বেড়া।
বেড়ার ওপাশে ছদ্মবেশী সামরিক জ্যাকেট পরা এক ব্যক্তির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরই মধ্যে ভাইরাল হয়েছে। তবে তিনি ইতালি জাতীয় দল বা কোচ জেনারো গাত্তুসোর কোচিং স্টাফের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কি না, তার কোনো অকাট্য প্রমাণ এখনো মেলেনি।
গত সপ্তাহে বেরগামোতে প্লে–অফ সেমিফাইনালে উত্তর আয়ারল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে ইতালি। ২০১৪ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া ইতারি এরপর বিশ্বকাপের দুটি আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। বসনিয়াও ২০১৪ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর আর এই আসরে খেলার সুযোগ করে নিতে পারেনি।
সেমিফাইনালে জয়ের পর অন্য এক বিতর্কেও জড়িয়েছে ইতালি। প্লে–অফ সেমিফাইনালে বসনিয়ার কাছে ওয়েলস হারার পর ইতালিয়ান খেলোয়াড়দের উদ্যাপনের একটি ভিডিও সামনে আসায় তাদের বিরুদ্ধে ‘অসম্মান ও ঔদ্ধত্য’ দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।
টটেনহাম গোলরক্ষক গুগলিয়েলমো ভিকারিওসহ ইতালি দলের বেশ কয়েকজন সদস্য বেরগামোর একটি বক্স থেকে টাইব্রেকারের ফল দেখে উল্লাস করছিলেন। সেই ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাসছে।
বসনিয়া স্ট্রাইকার এডিন জেকো এই ভিডিও নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, সব চাপ এখন ইতালির ওপরই; কারণ গত দুটি বিশ্বকাপের প্লে-অফ থেকেই ছিটকে গিয়েছিল তারা। জেকো বলেন, ‘আমি জানি না ইতালি কেন ওয়েলসের বিপক্ষে খেলতে চায়নি (বরং আমাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে চেয়েছিল); আমরা সেখানে কোনো ভয় ছাড়াই খেলতে গিয়েছি এবং জিতে ফিরেছি।’