ম্যানচেস্টার সিটি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার প্যারিসের বাড়িতে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনায় দুজনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল শুক্রবার প্যারিসের একটি আদালত এই রায় দেন।
গত দুই দিন আদালতে ডাকাতির মামলার শুনানিতে সাক্ষ্য দিয়েছেন দোন্নারুম্মা। এতে অভিযুক্ত আসামি ছিলেন তিনজন। দুজনের কারাদণ্ড হলেও একজন খালাস পেয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালে ২১ জুলাই রাতে। তখন দোন্নারুম্মার বয়স ২৭ বছর, খেলতেন পিএসজিতে। দোন্নারুম্মা এবং তাঁর তখনকার সঙ্গী ও বর্তমানে স্ত্রী এলেফান্তে প্যারিসের অভিজাত অ্যাভিনিউ মন্টেইনের একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন।
চারজন মুখোশধারী ব্যক্তি ছাদ দিয়ে তাঁদের নবমতলার অ্যাপার্টমেন্টে ঢোকে। এরপর দোন্নারুম্মা ও তাঁর সঙ্গীকে ঘুম থেকে তুলে জিম্মি করা হয়। ইতালিয়ান ও গোলকিপারের হিসাব অনুযায়ী, লুট হওয়া সামগ্রীর মূল্য ছিল ১০ লাখ ইউরোর সামান্য কম। তখন এলেফান্তে ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। পরে ওই ঘটনার মানসিক আঘাতের কারণে তাঁর গর্ভপাত হয় বলেও জানা যায়। মারধরের শিকার হন দোন্নারুম্মাও।
হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ২১ বছর বয়সী ইলিয়াস খেরবুশকে ৯ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তাঁকে ৮০ হাজার ইউরো জরিমানাও করা হয়েছে। মামলার আরেক আসামি মোকতার ডিয়োপকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুই বছর স্থগিত সাজা। খিয়ান মামুনি ওরফে ‘কিকি’ পেয়েছেন খালাস। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনিও ডাকাতির পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন বলে সন্দেহ করেছিল প্রসিকিউশন।
তিন আসামির বিরুদ্ধে ৪ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড চেয়েছিল প্রসিকিউশন। মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত খেরবুশের সর্বোচ্চ ১০ বছরের সাজা চাওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি খিয়ান মামুনি ওরফে ‘কিকি’র ৯ বছর এবং মোকতারের ৬ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিল প্রসিকিউশন।
ইলিয়াস খেরবুশ ও খিয়ান তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে পাঁচ বছরের সাজা পাওয়া আসামি ২৪ বছর বয়সী মোকতার ডিয়োপ ডাকাতিতে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
তবে দোন্নারুম্মা ও এলেফান্তের ওপর হামলায় মোকতার জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করা আরেক ব্যক্তি ২০২৪ সালে কারাগারেই মারা যান। ঘটনার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক আরও দুজনকে এরই মধ্যে শিশু আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে তাঁদের একজনকে তিন বছর এবং অন্যজনকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।