গত নভেম্বরে ইতিহাদে প্রথম লেগের ম্যাচে মুখোমুখি হয় সিটি–লিভারপুল
গত নভেম্বরে ইতিহাদে প্রথম লেগের ম্যাচে মুখোমুখি হয় সিটি–লিভারপুল

সিটি-লিভারপুলের ম্যাচে চোখ রাখবেন যে তিন কারণে

২০২৫-২৬ মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগে দুই-তৃতীয়াংশ ম্যাচ শেষের পথে। ৩৮ ম্যাচের লিগে আর্সেনাল ২৫ ম্যাচে ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে, দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটি ২৪ ম্যাচ খেলে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে। শীর্ষ দুই দলের পয়েন্ট ব্যবধানের কারণে এখনই শিরোপা লড়াইয়ের মীমাংসা দেখছেন কেউ কেউ।

এমন প্রেক্ষাপটে ম্যানচেস্টার সিটি-লিভারপুল ম্যাচের গুরুত্ব কমই থাকার কথা। বিশেষ করে লিভারপুল যেখানে শিরোপা-সম্ভাবনার কাছাকাছিই নেই। গতবারের চ্যাম্পিয়নরা এই মুহূর্তে লিগ পয়েন্ট তালিকার ৬ নম্বরের দল, তা–ও শীর্ষে থাকা আর্সেনালের চেয়ে ১৭ পয়েন্ট পেছনে, সিটির চেয়ে পিছিয়ে ৮ পয়েন্টে।

শিরোপা লড়াইয়ের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ না হলেও আজ রাত সাড়ে দশটায় শুরু লিভারপুল-সিটি ম্যাচের মাহাত্ম্য একেবারে কম নয়। অন্তত তিনটি কারণে অ্যানফিল্ডের ম্যাচটিতে চোখ রাখতেই হবে প্রিমিয়ার লিগের দর্শকদের।

১. ইংল্যান্ডের এল ক্লাসিকো

লিভারপুল-ম্যানচেস্টার সিটি ম্যাচের আনুষ্ঠানিক কোনো নাম নেই। তবে পেপ গার্দিওলা-ইয়ুর্গেন ক্লপ জুটির কারণে গত এক দশকের মধ্যে এ দুই দলের লড়াইয়ে বাড়তি রোমাঞ্চ যোগ হয়েছে। ক্লপ অবশ্য এখন লিভারপুলে নেই, তাঁর জায়গায় আছেন আর্নে স্লট। এই স্লটই সিটির বিপক্ষে লিভারপুলের ম্যাচকে অভিহিত করেছেন ইংল্যান্ডের ‘এল ক্লাসিকো’ বলে।

এ বিষয়ে অলরেডদের ডাচ কোচের মন্তব্যটা এ রকম—‘এটি দুর্দান্ত একটা ম্যাচ হতে যাচ্ছে। কারণ, যখন আমি এখানে কাজ করতাম না, হল্যান্ডে ছিলাম, তখনো আমি জানতাম সিটি বনাম লিভারপুল বা লিভারপুল বনাম সিটি ম্যাচ কখন হবে। ম্যাচের সময় আমি টেলিভিশনের সামনেই থাকতাম। অনেকটা ক্লাসিকোর মতোই, যেখানে সবাই এই ম্যাচটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে।’

ইতিহাস বলছে, সিটির জন্য সবচেয়ে প্রতিকূল মাঠগুলোর একটি অ্যানফিল্ড। লিভারপুল গার্দিওলার দলের কাছে তাদের শেষ ২২ লিগ ম্যাচের মাত্র একটিতে হেরেছে। জিতেছে ১৪টি, ড্র বাকি ৭টিতে।

তবে সিটির সামনে এবার একটি বিরল সুযোগ এসেছে। নভেম্বরে ইতিহাদে হওয়া প্রথম লেগে ৩-০ ব্যবধানে জিতেছে সিটি। আজ জিততে পারলে তারা ১৯৩৬-৩৭ মৌসুমের পর এই প্রথম লিভারপুলের বিপক্ষে লিগে ‘ডাবল’ (একই মৌসুমে দুই লেগেই জয়) জিতবে।

লিভারপুল কোচ আর্নে স্লট ও ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা

২. চোটজনিত সমস্যা

চোটের কারণে সর্বশেষ দুই ম্যাচ মিস করা জো গোমেজ লিভারপুলের ম্যাচ-ডে স্কোয়াডে ফিরছেন। তবে খুব বেশি প্রত্যাশা না রাখার পরামর্শও দিয়েছেন লিভারপুল কোচ, ‘সে শুরুর একাদশে থাকার মতো অবস্থায় না থাকলেও ম্যাচের প্রয়োজনে দলকে সাহায্য করার জন্য তাকে পাওয়া যেতে পারে, কারণ এই মুহূর্তে আমাদের হাতে খুব বেশি ডিফেন্ডার নেই।’ এদিকে জেরেমি ফ্রিম্পংকে আজ পাচ্ছেন না স্লট। কারাবাগের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে পেশির সমস্যা নিয়ে মাঠ ছেড়ে যেতে হয়েছিল তাঁকে।

ফিটনেসজনিত সমস্যা আছে সিটিরও। টটেনহামের বিপক্ষে চোট পাওয়ায় গত সপ্তাহে নিউক্যাসলের বিপক্ষে কারাবাও কাপে খেলতে পারেননি বের্নার্দো সিলভা। গার্দিওলা স্বীকার করেছেন তাঁর দলের অধিনায়কের আজও খেলা এখনো অনিশ্চিত। শুক্রবার গার্দিওলা বলেন, ‘এখনো জানি না, আগামীকাল অনুশীলনে দেখা যাক।’

তবে অন্য একটি জায়গায় সুখবর আছে সিটির। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে এক মাস মাঠের বাইরে থাকার পর নিউক্যাসলের বিপক্ষে বেঞ্চে ফিরেছেন রুবেন দিয়াস। তাঁর ব্যাপারে গার্দিওলা বলেন, ‘সে ফিরেছে। আমরা দেখব সে কয়েক মিনিট খেলতে পারে কি না, তবে এটি আমাদের জন্য ভালো খবর।’

৩. গতি ধরে রাখতে মরিয়া সিটি

আর্সেনালের চেয়ে ৯ পয়েন্টে পিছিয়ে থাকলেও সিটির খেলোয়াড়দের মধ্যে আছে গত সপ্তাহে লিগ কাপের ফাইনাল নিশ্চিত করতে পারার উজ্জীবনী শক্তি। এখনো পর্যন্ত লিগ কাপ, এফএ কাপ, প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়নস লিগ সব প্রতিযোগিতায়ই টিকে আছে গার্দিওলার দল।

আর এমন সময়েই সিটিকে আজ সামলাতে হবে অ্যানফিল্ড-চ্যালেঞ্জ, যেখানে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির পর সিটি জিততে পারেনি। এ ছাড়া লিগ জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখতে প্রতি ম্যাচে তিন পয়েন্ট সিটির জন্য আবশ্যকই বলা চলে।