বিশ্বকাপকে ঘিরে উত্তেজনার অন্যতম বড় একটা অংশ থাকে জার্সি। নতুন জার্সি পরে বিশ্বকাপের আনন্দে শামিল হন দর্শক-খেলোয়াড় সবাই। ১২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা মিসরও শামিল হয়েছিল সেই আনন্দে। কিন্তু সেই আনন্দে বাগড়া দিল ফিফা। ১৫ জুন বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের আগে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জার্সি পুরোপুরি বদলে ফেলার।
ফিফার মূল আপত্তি মিসরের জার্সির লোগো নিয়ে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী শুধু বিশ্বকাপজয়ী দলগুলোই জার্সিতে তারকা যোগ করতে পারে। এ কারণে ব্রাজিলের লোগোতে ৫টি, আর্জেন্টিনার লোগোতে ৩টি তারকা দেখা যায়। ব্যতিক্রম শুধু উরুগুয়ে, ২টি বিশ্বকাপ জিতলেও ১৯২৪ ও ১৯২৮ অলিম্পিক জেতায় ফিফার অনুমতি সাপেক্ষে ৪টি তারকা ব্যবহার করে তারা।
মিসরের বর্তমান লোগোতে রয়েছে মোট ৭টি তারকা। এই ৭টি তারকা বিশ্বকাপ থেকে নয়, এসেছে আফ্রিকান কাপ অব ন্যাশনস থেকে। ৭ বার আফ্রিকান কাপ অব ন্যাশনস জেতায় মিসর নিজেদের লোগোতে যোগ করেছে ৭টি তারকা। বাদবাকি সময় সেই জার্সি ব্যবহার করতে পারলেও বিশ্বকাপে সেই লোগো ব্যবহার করতে পারছে না তারা। তারকাবিহীন লোগো নিয়েই খেলতে হবে দেশটিকে। এর আগে ২০১৮ বিশ্বকাপেও একই নিয়মের কারণে মিসরকে খেলতে হয়েছিল তারকাবিহীন লোগো নিয়ে।
মিসরের জার্সি নিয়ে ফিফার দ্বিতীয় আপত্তি খেলোয়াড়ের নাম ও জার্সি নম্বরের রং নিয়ে। পুমার তৈরি জার্সিতে নাম-নম্বর লেখা হয়েছে সোনালি রঙে। কিন্তু টিভি পর্দায় সোনালি রং খুব একটা দৃশ্যমান নয়। বরং ফ্লাডলাইটের আলোয় সোনালি রং অনেকটাই ঝাপসা হয়ে যায়। এ কারণে পুমাকে ফিফা নির্দেশ দিয়েছে, মিসরের জার্সিতে খেলোয়াড়ের নাম ও জার্সি নম্বরের রং বদলে ফেলতে। অর্থাৎ বিশ্বকাপের আগে দুটি প্রীতি ম্যাচে মিসরের খেলোয়াড়েরা যে জার্সি পরেছিলেন, সেই জার্সি পরতে পারবে না বিশ্বকাপের মঞ্চে।
ফিফার কাছ থেকে এমন নির্দেশ এসেছে এমন সময়ে, যখন বেলজিয়ামের সঙ্গে মিসরের প্রথম ম্যাচ দরজায় কড়া নাড়ছে। এ কারণে বেশ তাড়াহুড়া করেই নতুন জার্সি তৈরিতে নামতে হচ্ছে পুমাকে। মিসরের জার্সিই অবশ্য প্রথম নয়। এর আগে হাইতির জার্সি নিয়েও আপত্তি তুলেছিল ফিফা। জার্সিতে ১৮০৩ সালের ঐতিহাসিক ‘ব্যাটল অব ভার্তিয়ের’–এর একটি চিত্র থাকায় আপত্তি তোলে ফিফা। এ কারণে হাইতিকেও তাদের জার্সির নকশা পরিবর্তন করতে হয়েছে।
শুধু হাইতি, মিসরের জার্সি নিয়ে ঝামেলা বাধেনি, ফিফা আপত্তি তুলেছে মরক্কোর জার্সি নিয়েও। মরক্কোর জার্সিতে সমস্যা হলো, খেলোয়াড়ের নাম ও জার্সি নম্বরের রং নিয়ে। ফলে আফ্রিকার এই দেশকেও জার্সি বদলাতে হচ্ছে তড়িঘড়ি করে।