তাতিয়ে দেওয়ার ফল বুঝি এমনই হয়! বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম ম্যাচের পাশাপাশি আগ্রহ ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাণ্ডকারখানা নিয়েও। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এক ফোনে বদলে গেছে সিদ্ধান্ত, ফোলারিন বালোগান লাল কার্ড দেখেও খেলার সুযোগ পান বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে।
বেলজিয়াম সম্ভবত ফিফার এমন সিদ্ধান্ত দেখেই তেলে–বেগুনে জ্বলে উঠেছিল। কেভিন ডি ব্রুইনাকে বাইরে রেখেই স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে বেলজিয়াম। এরপর ট্রাম্পকে খোঁচাও দিয়েছে রয়্যাল বেলজিয়াম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আরবিএফএ)।
শেষ ষোলোর আগে বিশ্বকাপে বেলজিয়াম ছিল নিজেদের ছায়া হয়ে। মিসর ও ইরানের বিপক্ষে ড্রয়ের পর পিঠ ঠেকে গিয়েছিল দেয়ালে। গ্রুপ পর্বে শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়ে নিশ্চিত করেছিল শেষ ৩২ দলের রাউন্ড। সেখানেও সেনেগালের বিপক্ষে হারতে হারতে কোনোমতে জয় নিয়ে ফেরে বেলজিয়াম।
তবে সিয়াটলে আজ ভোরের ম্যাচের প্রেক্ষাপট বদলে দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বসনিয়ার বিপক্ষে সরাসরি লাল কার্ড দেখায় অবধারিতভাবে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ছিল বালোগানের ওপর।
সে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ফিফা সভাপতিকে ফোন করেন ট্রাম্প। এক ফোনেই বদলে যায় চিত্র, নিষেধাজ্ঞা হলো স্থগিত। বালোগান পেয়ে যান শেষ ষোলোর এই ম্যাচে মাঠে নামার অনুমতি।
ফিফা এ হস্তক্ষেপের কথা অস্বীকার করলেও ট্রাম্প গর্ব করে নিজেই বলেছেন সেই ‘অর্জন’-এর কথা। কিন্তু মাঠে দেখা গেল উল্টো চিত্র। পুরো ৯০ মিনিটে মাত্র ১৯ বার বলে স্পর্শ করতে পেরেছেন বালোগান। আর ট্রাম্পের ঘটনা তাতিয়ে দেয় বেলজিয়াম দলকে। ফল? দুর্দান্ত এক জয়। এমন জয়ের পর বেলজিয়াম খোঁচা দেবে না, তা কি সম্ভব?
৯৩ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন বদলি নামা রোমেলু লুকাকু। উদ্যাপনটাও ছিল একেবারে ট্রাম্পের আদলে। দুই হাত সামনে নিয়ে ট্রাম্প যেভাবে নাচেন, লুকাকু শুরুটা করলেন সেভাবেই। এরপর তাঁর সঙ্গে যোগ দিল পুরো দল। উদ্যাপন শেষ হলো একসঙ্গে ট্রাম্পের মতো নেচে।
ম্যাচের ধারাভাষ্যকারেরাও মজা করেন। তুরস্কের এক ধারাভাষ্যকার লুকাকুর গোলের পর বলে বসেন, ‘শেষ মিনিটে কোনো কিছু না পাল্টালে যুক্তরাষ্ট্রকে আমরা এখানেই টাটা বলছি।’
ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে আরবিএফএ। ক্যাপশন ছিল, ‘এটা বদলাও।’ লাল কার্ড বদলাতে পারলেও এই ফল তো বদলানোর সাধ্য নেই কারও। খোঁচাটা সরাসরি ট্রাম্পের প্রতিই ছিল। নিজেদের সেরা খেলোয়াড়কে খেলাতে গিয়ে ট্রাম্প উল্টো হাসির পাত্র হলেন পুরো ফুটবল–বিশ্বের কাছে।