
ক্রাভান কটেজে গতকাল রাতের ডাগআউট দেখে কি রিয়াল মাদ্রিদকে মনে পড়েছে?
চেলসি কোচ জাবি আলোনসো এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে, অন্য প্রান্তে ফুলহাম কোচ আলভারো আলবেলোয়া। দুজনেই একসময় মাদ্রিদের ক্লাবটির কোচের দায়িত্বে ছিলেন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে তাঁদের মুখোমুখি হওয়াও গতকাল রাতেই প্রথম। আর সে ‘প্রথম’ লড়াইয়েই আলোনসো খুঁজে পেয়েছেন চেলসির ‘হৃদয়’।
ফলটা এতক্ষণে সবারই জানা। ফুলহামের মাঠে ৩–২ গোলের জয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দারুণ শুরু পেয়েছে চেলসি। তাতে ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগে কোচ হিসেবে জাবির শুরুটাও হলো জয়ে। সেই জয়ে একটি গোল করিয়ে এবং নিজে গোল করে ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলের প্রতি পুরোনো প্রশ্নটা আবার ছুড়ে দেন কোল পালমার। মৌসুমের শুরুতেই ইংল্যান্ড উইঙ্গারের যে ফর্ম, তাঁকে কেন বিশ্বকাপের দলে রাখা হলো না?
সেটা ইংল্যান্ড টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত। তবে পালমার যে চেলসির ‘হৃদয়’–এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, সেটা প্রিমিয়ার লিগে অভিষেকেই বুঝে ফেলেছেন আলোনসো। বাকি দুটি অংশ—মরগান রজার্স ও জোয়াও পেদ্রো। অন্য অর্থে, আক্রমণভাগের এই তিনজন খেলোয়াড়ই চেলসির ভিত—জয়ের পর সেটা বুঝিয়ে দেন আলোনসো।
স্প্যানিশ এই কোচের এমন কিছু ভেবে নেওয়ার পেছনে রয়েছে চেলসি ‘ত্রয়ী’র ‘মাস্টারক্লাস’ পারফরম্যান্স। পালমারের পাস থেকে চেলসিকে এগিয়ে দিতে মাত্র ৩১ সেকেন্ড সময় লেগেছে পেদ্রোর। প্রিমিয়ার লিগের উদ্ধোধনী রাউন্ডে এটাই দ্রুততম গোলের রেকর্ড। বক্সের ভেতর থেকে পেদ্রোর ফিনিশিং দেখে ব্রাজিলের সমর্থকদের নিশ্চয়ই আক্ষেপ জেগেছে। তাঁকে ছাড়াই বিশ্বকাপে গিয়ে শেষ পর্যন্ত গোলের খোঁজে মাথা কুটে মরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিতে হয় ব্রাজিলকে।
চেলসির দ্বিতীয় গোলে অবদান ক্লাবটির হয়ে দুজন অভিষিক্তের। এবার দলবদলেই সবচেয়ে দামি ব্রিটিশ খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়া মরগান রজার্স ৪১ মিনিটে ম্যাক্সেনসে লাকোরিক্সের পাস থেকে গোলটি করেন। ৮ মিনিট পরই পালমারের কাছে ‘দেনা’ শোধ করেন পেদ্রো। ৪৯ মিনিটে তাঁর পাস থেকেই চেলসির শেষ গোলটি করেন পালমার। ফুলহাম ম্যাচের দুই অর্ধে দুটি গোল পেয়েছে।
জয়ের পর চেলসির আক্রমণভাগ নিয়ে কথা বলেন কোচ আলোনসো। পেদ্রো, রজার্স এবং পালমারের প্রশংসায় আলোনসো বলেন, ‘দলের ভিত গড়তে এ আক্রমণভাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাদের ঘিরেই দল তৈরি হবে।’ আলোনসো এই তিন খেলোয়াড়কে দায়িত্বটাও বুঝিয়ে দেন, ‘তাদের পথ দেখাতে হবে এবং অনুপ্রাণিত করতে হবে অন্যদের। কারণ তারা যদি দারুণ কিছু করে, তবে অন্যরাও অনুসরণ করবে।’
রিয়ালে আলোনসো ছাঁটাই হওয়ার পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে বেশি দিন টিকতে পারেননি আরবেলোয়া। স্পেন জাতীয় দলেও সতীর্থ ছিলেন তাঁরা। হারলেও খেলোয়াড়দের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেন আরবেলোয়া, ‘যেটা করার দরকার ছিল, আমার খেলোয়াড়েরা সেটাই করেছে। যদিও খুশি হতে পারিনি, কারণ আমরা ম্যাচটা হেরেছি। আমরা এভাবেই খেলে যাব...প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন।’