‘ম্যাচটা আমরা ভালো খেলিনি এবং এটাই বাস্তব।’
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১১৫তম দল মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ের পর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দলের কোচ লিওনেল স্কালোনির প্রতিক্রিয়া। আর্জেন্টিনা দলের গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ অবশ্য হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছেন। ৯৪ মিনিটে গোল হজম করা মার্তিনেজ সামনে টেনে আনেন কিছুদিন আগে বাতিল হওয়া ফিনালিসিমাকে। ভাগ্যিস, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে স্পেনের বিপক্ষে এই ম্যাচ শেষ পর্যন্ত বাতিল করে দেয় উয়েফা। নইলে সেই ম্যাচে ‘এমন খেললে তো হারতে হতো’—মতামত মার্তিনেজের।
এই ম্যাচে বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন স্কালোনি। লিওনেল মেসি ও রদ্রিগো দি পলকে খেলান বিরতির পর। শুধু তা–ই নয়, দ্বিতীয়ার্ধে আরও কিছু বদলি করেন। মেসিকে খেলান অ্যাটাকিং থার্ডে একদম সামনে। বিশ্বকাপ সামনে রেখে সম্ভবত এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা দল ম্যাচে ভালো খেলেনি এবং মৌরিতানিয়ার সঙ্গে নিজেদের শক্তির পার্থক্যটা বোঝাতে পেরেছে সামান্যই।
জয়ের পর স্কালোনি তাই বলেন, ‘সব সময়ের মতো (এই ম্যাচ থেকেও) অনেক কিছু ঠিক করার আছে। তবে ভুলগুলো এখনই হওয়া ভালো...মাঝেমধ্যে আমরা যখন নতুন কিছু করার চেষ্টা করি, তখন দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। দল ভালো খেলেনি। এটা মানতে হবে এবং কিছু বিষয় ঠিক করতে হবে।’ মেসিকে বিরতির পর নামানো নিয়ে স্কালোনির ব্যাখ্যা, ‘মেসির খেলার সময় নিয়ে তাঁর সঙ্গে আগেই কথা হয়েছিল, সেই পরিকল্পনা অনুযায়ীই তাঁকে খেলানো হয়েছে।’
ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৬৪ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল। মৌরিতানিয়া ৩৬ শতাংশ বল দখলে রাখলেও শুধু দ্বিতীয়ার্ধে সেটা ছিল ৪২ শতাংশ। মৌরিতানিয়ার ১১ শটের বিপরীতে মাত্র ৭টি শট নিতে পেরেছে আর্জেন্টিনা। এর মধ্যে দ্বিতীয়ার্ধেই ৮টি শট নিয়েছে আফ্রিকার দলটি, আর্জেন্টিনা নিতে পেরেছে ১টি শট। দ্বিতীয়ার্ধে গুরুত্বপূর্ণ একটি সেভও করেন মার্তিনেজ।
দলের এমন পারফরম্যান্সের পর নিজেদের আত্মসমালোচনায় মার্তিনেজ বলেন, ‘সত্যি বলতে, পারফরম্যান্স খুবই দুর্বল ছিল। আমাদের খেলা প্রীতি ম্যাচগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বাজে ম্যাচ। আমাদের খেলায় তীব্রতা ছিল না, কোনো ছন্দ ছিল না, এমনকি গতিরও অভাব ছিল।’ মার্তিনেজ এ নিয়ে কৌতুক করতে গিয়ে টেনে আনেন ভেন্যু ঠিক না হওয়ার কারণে বাতিল হওয়া ফিনালিসিমা ম্যাচকে, ‘ভাগ্যিস, বেঁচে গিয়েছি (ম্যাচটি বাতিল হওয়ায়)। যেভাবে খেলেছি আজ, তাতে ওই ম্যাচে নির্ঘাত হারতাম।’