রিয়াল তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। কাল রাতে ওভিয়েদোর মাঠে
রিয়াল তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। কাল রাতে ওভিয়েদোর মাঠে

রিয়ালে বিরোধের নতুন আগুন, ‘চতুর্থ পছন্দের স্ট্রাইকার’ বিতর্কে মুখোমুখি এমবাপ্পে–আরবেলোয়া

বেঞ্চ থেকে ৬৯ মিনিটে মাঠে নামেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ঊরুর চোট কাটিয়ে ফেরা এই স্ট্রাইকারকে মোটেও ভালোভাবে নিতে পারেননি রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকেরা। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনেক ফাঁকা আসনের মধ্যে যাঁরা ছিলেন, বেশির ভাগই দুয়ো দেন এমবাপ্পেকে।

মৌসুমে ৪১ ম্যাচে ৪১ গোল করা কোনো খেলোয়াড় সমর্থকদের দুয়োর শিকার হলে বুঝতে হবে, সমস্যা মাঠের বাইরের। এমবাপ্পের ক্ষেত্রেও তা মিথ্যা নয়। তবে গতকাল রাতে লা লিগায় ওভিয়েদোর বিপক্ষে রিয়ালের ২-০ গোলে জয়ের পর সমর্থকদের দুয়ো নিয়ে ফরাসি তারকার মধ্যে তেমন হেলদোল দেখা গেল না।

ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের এমবাপ্পে বলেন, ‘দুয়ো...এটাই জীবন। মানুষ ক্ষুব্ধ থাকলে তাদের মতামত পাল্টানো কঠিন। রিয়াল মাদ্রিদ এবং আমার মতো বিখ্যাত খেলোয়াড়ের জীবনে এটা মেনে নিতেই হবে।’

গঞ্জালো গার্সিয়া ও জুড বেলিংহামের দুই অর্ধের গোলে রিয়াল জিতলেও ব্যাপারটা এখানেই শেষ হয়নি। বরং নতুন এক বিতর্কের সূত্রপাত করেছেন এমবাপ্পে। ওভিয়েদোর বিপক্ষে রিয়ালের একাদশে সুযোগ না পাওয়ার বিষয়ে তাঁর ভাষ্য বেশ চমকে দেওয়ার মতো। এমবাপ্পের দাবি, রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়া তাঁকে বলেছেন, তিনি বর্তমানে রিয়ালে পছন্দের তালিকায় চতুর্থ স্ট্রাইকার!

বেঞ্চে বসেছিলেন এমবাপ্পে

শুনুন এমবাপ্পের মুখেই, ‘ভালো আছি, শতভাগ প্রস্তুত। (একাদশে) খেলতে পারিনি; কারণ, কোচ আমাকে জানিয়েছেন, তাঁর কাছে আমি দলের চতুর্থ পছন্দের স্ট্রাইকার। আমি মাস্তানতুয়োনো, ভিনিসিয়ুস ও গঞ্জালো থেকে পিছিয়ে। আমি এটা মেনে নিয়েছি এবং যতটুকু খেলার সময় পেয়েছি খেলেছি। সম্ভবত ভালোই খেলেছি।’

ভিনিসিয়ুস, মাস্তানতুয়েনো ও গার্সিয়াকে রিয়ালের একাদশের হয়ে মাঠে নামান আরবেলোয়া। বেঞ্চ থেকে মাঠে নামা বেলিংহামের গোলের উৎস ছিল এমবাপ্পের পাস। ফরাসি তারকা রিয়ালের একাদশে ফেরার লক্ষ্যে বলেন, ‘একাদশের হয়ে নামার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। তবে আমি কোচের ওপর রাগান্বিত নই। সব সময় কোচের সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে হয়। আমি একাদশে ফেরার চেষ্টা করব।’

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রিয়াল সমর্থকদের কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছেন দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা এমবাপ্পে। সমর্থকদের অভিযোগ, ক্লাবের প্রতি এমবাপ্পের নিবেদনে ঘাটতি আছে। বিশেষ করে চোটের কারণে গত সপ্তাহে ‘এল ক্লাসিকো’তে তাঁর খেলতে না পারা এবং ম্যাচটি জিতে বার্সেলোনা লিগ শিরোপা নিশ্চিত করায় ভক্তদের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। পাশাপাশি চোট থেকে সেরে ওঠার সময়ে এমবাপ্পের সারদিনিয়ায় ছুটি কাটাতে যাওয়ার বিষয়টিও ভালোভাবে নেননি রিয়ালের সমর্থকেরা। যদিও এমবাপ্পের দাবি, ‘ক্লাবের অনুমতি নিয়েছিলাম। লোকে কী বলছে, বুঝতে পারছি না। তবে আমাকে এটা মেতে নিতে হবে।’

ম্যাচ–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এমবাপ্পের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিস্ময় প্রকাশ করেন আরবেলোয়া। রিয়ালের কোচ বলেন, ‘আমার যদি চারজন ফরোয়ার্ড থাকত! আমার তো চারজন ফরোয়ার্ডই নেই। আর আমি এমবাপ্পেকে এমন কিছু কখনোই বলিনি। হতে পারে সে আমার কথা ভুল বুঝেছে। এর বাইরে আমার আর কিছু বলার নেই। কোনো অবস্থাতেই আমি তাকে “চতুর্থ পছন্দের” ফরোয়ার্ড বলতে পারি না।’

রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়া

আরবেলোয়া এরপর দলে নিজের কর্তৃত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, ‘আমি কোচ, কে খেলবে আর কে খেলবে না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আমার। ম্যাচের আগে তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। সে সেটা কীভাবে নিয়েছে, আমি জানি না। যে খেলোয়াড় চার দিন আগেও বেঞ্চে বসার মতো অবস্থায় ছিল না, আজ (কাল রাতে) তার একাদশে থাকা উচিত নয়। এটা ফাইনাল বা বাঁচা-মরার লড়াই ছিল না যে তাকে নামাতেই হবে। কারও সঙ্গেই আমার কোনো বিরোধ নেই।’

আরবেলোয়া আরও বলেন, ‘এমবাপ্পে খেলতে না পেরে অখুশি, তা আমি বুঝতে পারছি। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটিই ছিল সবচেয়ে যৌক্তিক ও স্বাভাবিক কাজ।’

এমবাপ্পের অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি আরবেলোয়া, ‘আপনারা চাইলে “মিক্সড জোনে” কিলিয়ানের দেওয়া বক্তব্য আমাকে দেখাতে পারেন, তখন আমরা এটি নিয়ে আলোচনা করতে পারি। সে ঠিক কী বলেছে, তা না শোনা পর্যন্ত আমি তার বাক্য ধরে মন্তব্য করতে চাই না। তবে আমি যতক্ষণ দায়িত্বে আছি, কে খেলবে আর কে খেলবে না, সেই সিদ্ধান্ত আমিই নেব। তাদের নামে (কতটা বড়) আমার কিছু যায়–আসে না।’

রিয়ালে বেশ কিছুদিন ধরেই গৃহদাহ চলছে। এর আগে ফেদে ভালভের্দে ও অরেলিয়েঁ চুয়ামেনির মধ্যে মারামারির খবর চাউর হয়েছে সংবাদমাধ্যমে। বড় কোনো শিরোপা জয় ছাড়া এবার টানা দ্বিতীয় মৌসুম শেষ করবে রিয়াল। মৌসুমে মাঝপথে জাবি আলোনসোকে সরিয়ে আরবেলোয়াকে কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এমবাপ্পে এ মৌসুমের পারফরম্যান্স নিয়ে বলেন, ‘আমাদের শুরুটা ভালো ছিল। কিন্তু মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে সব হারিয়ে ফেলেছি...জাবির সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো। সবাই জানে আমি তাকে কেমন মনে করি। কিন্তু আমাদের সামনে তাকাতে হবে এবং উন্নতি করতে হবে।’

আরবেলোয়ার সঙ্গে বিরোধ অস্বীকার করেছেন এমবাপ্পে

মৌসুম শেষে আরবেলোয়ার জায়গায় রিয়াল যে নতুন কোচ আনবে, সেটা মোটামুটি পরিষ্কার। গুঞ্জন আছে, রিয়ালের ড্রেসিংরুমের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন আরবেলোয়া। তবে আরবেলোয়ার সঙ্গে কোনো সমস্যা না হওয়ার দাবি করেছেন এমবাপ্পে, ‘আরবেলোয়ার সঙ্গে সমস্যা নেই। সবারই নিজস্ব চিন্তাভাবনা আছে। খেলার সময় বের করতে আমাকে মাস্তানতুয়োনো, ভিনি ও গঞ্জালোর চেয়ে ভালো হতে পরিশ্রম করতে হবে।’

লা লিগার চলতি মৌসুমে আর দুই ম্যাচ খেলবে রিয়াল। ৩৬ ম্যাচে ৯১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ৮০ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আরবেলোয়ার দল।