ফ্রান্সের হয়ে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জেতা সাবেক অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ইউরি জরকায়েফ কাজ করছেন ফুটবল–বিশ্লেষক হিসেবে। ফরাসি দৈনিক লা ফিগারোতে আজকের ফাইনাল নিয়ে লিখেছেন জরকায়েফ
বিশ্বকাপে অঘটন ও চমক দেখা যাবে, এটা জানা কথাই। তাই বলে এত বেশি! আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচেই হার, জার্মানির বিদায়, স্পেন, বেলজিয়াম ও ব্রাজিলের বিদায়, আমার তো মনে হচ্ছে প্রায় প্রতিদিনই একটা করে অঘটন বা চমক দেখলাম।
কিছু ওলট-পালট হবে, এটা বোঝাই যাচ্ছিল। কারণ, মৌসুমের মাঝামাঝি বিশ্বকাপ হচ্ছে। খেলোয়াড়েরা ক্লাবে খেলার মধ্যে থাকলেও জাতীয় দলের হয়ে তৈরি হতে পারেনি। আমার কাছে মনে হয়েছে, প্রথম রাউন্ডে ফ্রান্স ও ব্রাজিল ছাড়া কোনো দলই ততটা ধারাবাহিক ছিল না।
শেষ পর্যন্ত এমন দুটি দলের মধ্যে ফাইনাল হচ্ছে, যাদের নাম শুনেই আপনার মাঠে বসে ম্যাচটা দেখার ইচ্ছে হবে। আমি মনে করি, সবচেয়ে যোগ্য দুটি দলই ফাইনালে এসেছে, যারা এই যাত্রায় সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় ফুটবল খেলেছে। দুটি দলই এই পর্যন্ত আসার জন্য সংকল্পবদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ ছিল।
ফ্রান্স দলটার বড় গুণ হচ্ছে, তারা কোনো প্রতিপক্ষকেই হালকা করে দেখে না। সেমিফাইনালের আগে যেমন আমি ফ্রান্সের কোনো খেলোয়াড়কে বলতে শুনিনি যে মরক্কোর বিপক্ষে খেলা সহজ হবে। আরেকটা বড় সুবিধা হচ্ছে, চার বছর আগের বিশ্বকাপজয়ী দলের অনেক খেলোয়াড় এই দলেও আছে।
এই ম্যাচে এমবাপ্পে আর মেসিকে নিয়েই সবচেয়ে বেশি কথা হচ্ছে। যখন ফ্রান্স বড় কিছু করে, এমবাপ্পে সেখানে থাকবেই। এরই মধ্যে বিশ্বকাপে সে নিজের ছাপ রেখেছে। আগেও একবার বিশ্বকাপ জিতেছে সে। এবারও জিততেই এসেছে। তবে ফ্রান্স যদি শেষ পর্যন্ত ফাইনাল জিততে না পারে, এমবাপ্পের এত ভালো খেলা মূল্যহীন হয়ে যাবে।
দেখুন না, রোনালদো, নেইমাররা কীভাবে কেঁদে বিদায় নিয়েছে বিশ্বকাপ থেকে। গ্রেট খেলোয়াড়দের জিততেও হয়, শুধু নিজের ঝলক দেখালে হয় না। এমবাপ্পের ক্ষেত্রেও তা–ই।
অনেকেই বলছেন, ফুটবলে এত অবদানের জন্য মেসির একটা বিশ্বকাপ পাওনা। দেখুন, আমাদের ফুটবলকে সম্মান করতে হবে। বিশ্বকাপ আর অন্য সব টুর্নামেন্টের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে, অনেক কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের বিশ্বকাপ জেতা হয়নি।
আপনি কিংবদন্তি হলেও বিশ্বকাপ আপনাকে খালি হাতে ফেরাতে পারে। মেসি যদি কখনো বিশ্বকাপ না জেতে, সেটাও ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। তবে সেখানে সে কিন্তু শুধু একা থাকবে না।