লিওনেল মেসি ও মিসরের কোচ হোসাম হাসান
লিওনেল মেসি ও  মিসরের কোচ হোসাম হাসান

মেসিকে নিয়ে আবারও ক্ষোভ মিসর কোচের, কী বললেন তিনি

বিশ্বকাপে এখন আর্জেন্টিনা আছে সেমিফাইনাল খেলার অপেক্ষায়। আগামীকাল বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তারা মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ডের। এই ম্যাচ জিতলে খেলবে টুর্নামেন্টের ফাইনালেও। তবে এখনো তাদের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচটি ভুলতে পারছে না মিসর।

দুই গোলের লিড পেয়েও শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের গোলে ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় তারা। ওই ম্যাচের পর রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান। লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ফাউল করায় মোস্তফা জিকোর করা দ্বিতীয় গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মিসর দলের পুরো বেঞ্চ রেফারিকে ঘিরে ধরে। এ সময় দ্রুত খেলা শুরু করতে অধিনায়ক লিওনেল মেসিসহ আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরাও সেখানে ছুটে আসেন। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও প্রতিবাদের মাঝেই কোচ হোসাম হাসান ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে দুই হাত দিয়ে ক্রস চিহ্ন দেখান।

ফরাসি রেফারি বিষয়টি খেয়াল না করলেও অতিরিক্ত প্রতিবাদের জন্য হাসানকে হলুদ কার্ড দেখান। তবে টেলিভিশনে তাঁর এই অঙ্গভঙ্গি দেখে ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই ধারণা করেছিলেন, বর্ণবাদ বা বৈষম্যের বিরুদ্ধে ম্যাচ থামানোর যে অফিশিয়াল প্রটোকল আছে, মিসরীয় কোচ হয়তো সেটিই বুঝিয়েছেন।

তবে এক সপ্তাহ পর ওই ঘটনার আসল কারণ জানিয়েছেন হোসাম। তিনি বলেছেন, ‘আমার সেই ইশারাটি বর্ণবাদ নিয়ে ছিল না। আমি রেফারিকে বোঝাতে চেয়েছিলাম যে “আপনি ন্যায়বিচার করছেন না”।’

শেষ দিকে রেফারির কাছে দুটি পেনাল্টির আবেদন করে মিসর

বিশ্বকাপ শেষে দেশে ফেরার পর তিনি ও তাঁর দল পেয়েছে বীরোচিত সংবর্ধনা। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ওই ম্যাচটি ঘিরে ক্ষোভ ছিল সমর্থকদেরও। ওই ম্যাচে পেনাল্টি বক্সের কাছে লিওনেল মেসির সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়েও কথা বলেন মিসরীয় কোচ।

তিনি বলেন, ‘মেসি আমার দিকে এগিয়ে এসে বারবার বলতে থাকে, ‘কেন? কেন? কেন? আরও কী যেন বলছিল। ম্যাচ চলাকালীন মেসিকে খুব কম সময়ই এভাবে তর্কে জড়াতে দেখা যায়। আবেগের বিস্ফোরণে এক পর্যায়ে সে কেঁদেও ফেলেছিল, কারণ মানসিকভাবে সে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে ছিল।’

বিশ্বকাপে এর আগে কোনো জয় ছিল না মিসরের। এবার তারা জয় পায় নকআউটেও। সব মিলিয়ে স্মরণীয় একটা টুর্নামেন্টই কাটিয়েছে তারা। তবে এমন বিশ্বকাপেও শেষটা রাঙাতে পারেনি তারা। তবে হোসাম বলছেন, আর্জেন্টিনার কঠিন সময় কেটেছে তাদের বিপক্ষে।

তিনি বলেন, ‘মিসর অত্যন্ত শক্তিশালী দল হিসেবে সেদিন আর্জেন্টিনাকে কোণঠাসা করে ফেলেছিল। মেসির ক্যারিয়ারের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমি ওর কথার কোনো উত্তর দিইনি ও বাদানুবাদ এড়িয়ে চলেছি।’

সেদিন মেসির আচরণ নিয়ে সমালোচনা করেছেন মিসরের টিম ডিরেক্টর ইব্রাহিম হাসানও। তিনি বলেন, ‘ও (মেসি) ঠান্ডা মাথায় মাঠে এসেছিল। কিন্তু যখন দেখল রেফারি তাদের পক্ষে কাজ করছেন, তখন পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে ও আমাদের উসকানি দিতে এগিয়ে আসে।’